সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকে শুরু করছে দুই পর্বের ধারাবাহিত পোষ্টের দ্বিতীয় এবং শেষ পর্ব। তো কি বুঝলেন প্রথম পর্ব থেকে? দেখুন ব্লগ লিখা এমন একটি বিষয় যেটা ভালভাবে বুঝে আত্তস্থ করতে না পারলে আপনি সামনের দিকে অগ্রসর হবে পারবেন না। তাই বলে রাখা ভাল নিজের মাঝে সেই রকম কোয়ালিটি তৈরী করতে না পারলে অযথা সময় নষ্ট না করে অন্য কোন উপায় খুজেন। আর যারা মনোস্থ করছেন ব্লগিং করবেন প্রফেশনালী তারা আসুন আজকের বিষযের দিকে। প্রথম পর্বটি না পড়ে থাকলে পড়ে নিতে পারেন এখানে থেকে।

professional-blogger

তো চলুন শুরু করা যাক আজকের পর্ব ….

৪. আত্ন-নিয়মানুবর্তীতা: প্রথমেই একটি উদাহরন দেয়া যাক। আপনি আপনার ব্লগের জন্য কন্টেন্ট তৈরী করছেন, এমন সময় মনে হলো আপনার পছন্দের একটি টিভি শো শুরু হতে আর কিছুক্ষন বাকী। যেটি না দেখলেও আপনার এমন কোন ক্ষতি হবে না। এখন আপনার করণীয় কি ভাবুন তো? ব্লগ লিখে যাবেন নাকি আপনার পছন্দের দিকে ধাবমান হবেন? এটা খুব সহজ যে আপনি আপনার কম্পিউটার টেবিল এবং ব্লগকে ছেড়ে টিভি শো এর দিকে ধাবমান হতে পারবনে। যদিও আপনি ব্লগ রিখতে ভালবাসেন, তারপরেও শো শুরু হবার মুহুর্তে আপনি নিজেকে আর সামলিয়ে রাখতে পারলেন না। যা কিনা একজন প্রফেশনাল ব্লগারের অভ্যাসের মধ্যে পরে না। কারন প্রফেশনাল ব্লগিং অনেক চ্যালেন্জিং !!! 🙂

এই কারনে আত্ন-নিয়মানুবর্তীতা প্রফেশনাল ব্লগারের জন্য অনেক জরুরী। আপনি জনপ্রিয় ব্লগার হয়ে গেছেন, আপনার প্রতি মুহুর্তের টুইটারে আপডেট এর জন্য আপনার ভক্তরা অপেক্ষমান। কিন্তু ভুলে যাবেন না আপনি প্রফেশনাল ব্লগার, ব্লগ লিখাই আপনার প্রধান দ্বায়িত্ব। যদি প্রফেশনালিজমতে কাজে না লাগাতে পারেন তবে, দু’দিন পরে সব ভক্তরা আপনাকে বিদায় জানাবে। এখন বলতে পারেন, কেন? একবার ভাবুন তো কি জন্য আপনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন? অবশ্যই আপনার লিখার দ্বারা তাই নয় কি? 🙂 সুতরাং ব্লগ লিখার সময় সব চিন্তা বাদ দিন, এক মনে লিখুন। এই ক্ষেত্রে আমাদের জনপ্রিয় ব্লগার “রিয়া” আপুর কথা বলা যায়। তিনি এক ব্লগ পোষ্টে বলেছিলেন, ব্লগিং এমন একটি বিষয় যেখানে আপনি নিজের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে থাকেন, আর তাই যখন ব্লগ লিখবেন আশেপাশের পরিবেশকে নিরব রেখে তারপর লিখতে বসুন। প্রয়োজন হলে ফেসবুক, মেসেন্জার থেকেও দুরে থাকুন। এবং সময়ের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকুন।

৫. সততা: “সততা” প্রফেশনাল ব্লগারদের জন্য সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ। এবং এটিকে অর্জন করা অভিন্ন আপনি প্রফেশনাল হতে পারবে না। তাই নিজ্রে মাঝে সততার অনুপ্রবেশ ঘটান। আমাদের মত দেশে যেখানে এখনো অনেকেই ইন্টারনেটের ব্যবহার জানেন না সেখানে প্রফেশনাল ব্লগার কুজে পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য কিন্তু যারা প্রফেশনালী কাজ করেন তাদের মাঝেও কতটুকু সততা কাজ করে বলতে পারেন? এই প্রশ্নে উত্তরের আগে বলে রাখা ভাল প্রফেশলান ব্লগার বলতে কিন্তু অন্যের ব্লগে অর্থের বিনিময়ে জ্ঞান বিনিময়কেই বুঝায় না, আপনারা যারা এ্যাডসেন্স বা অন্যান্য পাবলিশার থেকে অর্থ উপার্জন করছেন তারাও কিন্তু প্রফেশনাল ব্লগার। কিভাবে? চিন্তা করেই দেখুন। এবার আসি সততার উত্তরে, আপনি ব্লগিং করছেন, অন্যরাও করছে। এখন আপনি বলা নেই হুট করে অন্যের লিখা হবহু বা আংশিক পরিবর্তণ করে আপনার ব্লগে পাবলিশ করলেন আর ভাবলেন অনেক ভাল কাজ করে ফেললেন, এবার অনেক কাড়ি কাড়ি ভিজিটর পাবেন তাই না? যদি প্রফেশনালিজম এ এই চিন্তা ভুলেও মাথায় নিয়ে আসেন তা্হলে আপনি শুধু আপনার সময় অপচয় করছেন। এই অ্যভাস টা আমাদের অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু কি লাভ পাচ্ছেন? উল্টো অন্যের নিকটে চোর সাজছেন। 😉 যদি পারেন তো কোন ইংরেজী লিখাকে পড়ে নিজর মত করে লিখুন, দেখবেন অনেক কিছুই শিখবেন সেখানে থেকে। এত করে বিজিটরও পাবেন এবং অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনাও জাগ্রত হবে।

৬. শিষ্টাচার: ব্যক্তিগত ও পেশাগত দুই ধরনের জীবনেই শিষ্টাচার এর মূল্য অনেক। লক্ষ করে থাকবেন, আমাদের বাংলা ব্লগিং জগতে যদি কোন এক ব্লগার অন্য ব্লগার এর সাথে কমেন্ট যুদ্ধে লেগে গেছেন নিজের ব্লগেই। এর থেকে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত কথাবার্তা চলে আসবে যেটা আপনার ব্লগের অন্যান্য ভিজিটরদের জন্য বিরক্তির কারন হয়ে দ্বারাবে। তাই উপযুক্ত জায়গাতে কথা বলুন। অযাথা অপ্রাশংগিক কথাবার্তা আপনার প্রফেশনালিজমকে বিলীন করবে এমন কোন কাজ করবেন না।

সুতরাং শিষ্টাচার হচ্ছে প্রফেশনাল ব্লগারের একটি বড় গুন। এর মানে এই দ্বারায় যে, যদিও আপনাকে ভিজটর এমন কমেন্ট করছে যা কিনা আপনাকে রাগান্বিত করে ফেলছে কিন্তু আপনার কাজ হচ্ছে তাকে ভদ্র এবং শিষ্টাচারের সহিত প্রতি উত্তর দেয়া। যদিও মনে করেন যে কোন মন্তব্যের কারনে আপনার রাগকে কমাতে পারছেন না, তবে ইন্টারনেট থেকে দুরে চলে যান কিছুক্ষনের জন্য তারপর আবার আসুন এবং প্রতিটি মন্তব্যের উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন। এবং অবশ্যই ব্লগে শিষ্টাচারমূলক মন্তব্য করতে নীতিমালা চালু রাখুন ভিজিটরদের জন্য।

৭. ক্রমোন্নতি: প্রফেশনাল ব্লগাররা কখনই এক জায়গায় পরে থাকনে না, যদি কেউ এমনটা করে তবে তিনি প্রফেশনালি বেশি দূরে অগ্রসর হগতে পারবেন না। তাদেরকে প্রতিনিয়তই চলমান সময়ের সাথে সাথে প্রতিটি বিষয়ের উন্নতি কল্পে কাজ করে যেতে হবে। সবসময় নতুনত্বকে জানতে হবে, নিজের জ্ঞানকে বাড়াতে হবে, নতুন বিষয় পড়তে হবে এবং সর্বোপরি নিত্য নতুন বিষয় নিয়ে লিখতে হবে। যদিও ক্রমোন্নতি সহজ ব্যাপার। ব্লগিং জগতে সময়ের অনেক প্রাচুর্যতা আছে যেখানে আপনি অনেক বিষয়ের প্রতি দুর্বল হতে পারেন। সম্ভবত আপনি অতিথি পোষ্ট দিতেও ভয় করতে পারেন এই মনে করে যে, আপনি হয়তো রিজেক্ট হবেন। অথবা এও ভাবতে পারেন যে আপনি আগে কখনও প্রফেশনালী লিখেন নাই তাই কি লিখবেন তাও বুঝে উঠতে পারছেন না।

কিন্তু প্রতিটি প্রফেশনাল ব্লগারকে তার মেধার পরিচয় দিতে অন্তত্য একটি করে হলেও গেষ্ট পোষ্ট লিখতে হয়েছে। এবং একথা নিদ্বিধায় বলা যায় যে, তারাও নিশ্চয় আপনার মতই দূর্বল ছিল। কিন্তু এই দূর্বলতাকে কাটাতেই হবে যদি আপনি প্রফেশনালি লিখতে বদ্ধপরিকর হয়ে থাকেন।আপনার সামনে যা চ্যালেন্জ সেটি নিয়েই কাজ করুন। সম্ভব হলে যে বুঝেশুনে আপনার গেষ্ট পোষ্ট মেইর করুন অথবা নিজেই পোষ্ট করুন ব্লগে যে আপনার লিখার প্রসংশা করেছেন। হয়তো আপনি ভাবতেও পারবেন না যে, আপনার গেষ্ট পোষ্টটি আপনার প্রফেশনালিজম এর দরজা-কে উম্মোচন করে দিবে। আর এসব করতে পারলেই আপনার ক্রমোন্নতি।

বারবার একটি কথাই আসে. প্রতিনিয়ত নতুনত্বকে খুজুন। এটা হতে পারে একা একা অথবা দলীয়ভাবে। ব্লগিং এ ভাল করতে হলে বিভিন্ন কোর্স করুন, ই-বুক পড়ুন অথবা অন্য যা কিছু দরকার করুন। তাহলেই আপনি অতি দ্রুত প্রফেশনাল হয়ে উঠতে পারবেন।

সুতরাং, এবার দেখুন কোন অভ্যাসের প্রতি আপনার দুর্বলতা আছে। যদি খুজে পেয়ে থাকেন তবে আজই সেই অভ্যাসকে পরিবর্তন করতে শুরু করুন। আর যদি মনে করেন আমি কোন বিষয় উল্লেখ্য করতে ভুলে!! গেছি তবে মন্তব্য আকারে প্রদান করুন।

দেখা হবে আগামী পোষ্টে নতুন কোন বিষয় নিয়ে।
সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 🙂

comments

9 কমেন্টস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.