যে কোন কাজের শুরুটা সব সময়ই একটা ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে। আমার প্রথম ইলেকট্রনিক্স প্রজেক্ট তৈরির অভিজ্ঞতাও তার ব্যতিক্রম নয়। যদিও খুব বড় কোন কাজ নয়, কিন্তু সেই মূহর্তগুলো আমার কাছে চির স্বরণীয় হয়ে আছে এখনো। এই প্রোজেক্টটা যদিও ইলেকট্রনিক্স এর একটা সাধারণ প্রোজেক্ট ছিল মাত্র। কিন্তু এটা করতে গিয়ে আমি শিখেছি বিজ্ঞান প্রকৃত পক্ষে কি? বিজ্ঞানের আসল মজাটা কোথায়? কিভাবে একজন মানুষ বিজ্ঞানের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারে? আমাদের পাঠিত বিষয়কে কিভাবে গবেষণায় কাজে লাগানো যায়?

আমার প্রথম ইলেকট্রনিক্স প্রোজেক্ট সম্পর্কে কিছু কথা

c1আমি যখন ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতাম না ঠিক তখন থেকেই একটা ডিজিটাল ক্লক তৈরির ইচ্ছা ছিল। আমি তখন ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইন্জিনিয়ারিং এর ২য় সেমিস্টার সবে শেষ করে ৩য় সেমিস্টারে উঠেছি। এর মধ্যেই ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কে এবং ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কে বেশ কিছুটা ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। চিন্তা করলাম আমার ইচ্ছা পূরণের সময় হয়ে গেছে। একটা ডিজিটাল ক্লক তৈরি করা দরকার। আমি প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ডিজিটাল ক্লকের জন্য একটা ভালো সার্কিট ডায়াগ্রাম খুজে বেড় করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে চিন্তা করলাম যে না, আমি কোন সার্কিট ডায়াগ্রাম ব্যবহার করব না। আমি এত দিনে যা শিখেছি তাই দিয়েই চেষ্টা করে দেখি নিজে নিজে কিছু করতে পারি কিনা। ডায়াগ্রাম দেখে দেখে সুধু সোল্ডারিং করে যাওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। তার চেয়ে ভুল করে করে অনেক দিন ধরে শেখার মধ্যেই বেশি মজা।

কি! হয়তবা অনেকেই এরই মধ্যে অনেকেই ধারণা করে ফেলেছেন আমার প্রথম ইলেকট্রনিক্স প্রোজেক্টা নিশ্চয় একটা ডিজিটাল ক্লকের ছিল। আসলে তা নয়। যদিও আমি শুরু করেছিলাম সে উদ্দেশ্যেই কিন্তু ঘটে গেল অন্য কিছু। আপতত এটাই  ধরে নেয়া যাক রোমঞ্চ হিসেবে।

প্রথম ইলেকট্রনিক্স প্রোজেক্ট তৈরির রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

c2ইতোমধ্যেই আমি ডিজিটাল ক্লক এর সেকেন্ড অংশ তৈরি করে ফেলেছি। সেই অংশটা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলাম। দেখলাম সব কিছু ঠিকঠাক মত কাজ করছে। আমার নিজস্ব চিন্তা এবং ধারণা থেকে যা করেছি কিছুটা হলেও সফল হতে পেরেছি, এই ভেবে বেশ কিছুটা আনন্দিত হলাম। হঠাৎ করে দেখলাম সেকেন্ড অংশটি খুব দ্রুত পরির্তিত হচ্ছে। এমন তো হবার কথা নয় কিন্তু কেন হচ্ছে? একটু স্থির ভাবে পরিবেশটা খেয়াল করলাম, দেখলাম সোল্ডারিং আইরনের তারটা আমার তৈরি কৃত সার্কিটের কাছাকাছি আসলে এমনটা ঘটছে। আমি মনে হয় একটা সূত্র খুজে পেয়েছি। বাকীটা দ্রুত সমাধান করা যাবে।

………………………………………………………………………………..

আজ এ পর্যন্তই। কেন সেকেন্ড অংশের ডিসপ্লেটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে? এর উত্তর এবং আরো কিছু রোমাঞ্চকর মূহর্তের স্বাদ পেতে চোঁখ রাখুন প্রথম ইলেকট্রনিক্স প্রোজেক্ট তৈরির রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাঃ পর্ব-২ তে। সে পর্যন্ত সবার জন্য শুভকামনা রইল । 

comments

4 কমেন্টস

  1. বাহঃ ভালোই রোমাঞ্চ অনুভব করেছেন নিশ্চই। পরবর্তী পোষ্ট এর জন্যে খুবই উত্তেজনা অনুভব হচ্ছে। ইলেক্ট্রনিক্স এ আমার ব্যাপক আগ্রহ। ৬ বছর আগে আমি একটা FM ট্রান্সমিটার বানানোর চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু বিফল হলাম। “সেবা প্রকাশনীর” থেকে প্রকাশিত ৫ টি বই আমার কাছে এখনো আছে। মাথায় অনেক কিছু বানানোর প্ল্যান (টেকনোলোজি) আছে। কিন্তু আমি তো ইলেক্ট্রনিক্স এর ছাত্র না 🙁

    • ধন্যবাদ এ.আর.রলিন ভাই, ইলেকট্রোনিক্সের প্রতি আপনারও বেশ আগ্রহ আছে জেনে খুঁশি হলাম। আমি চেষ্টা করব, ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতার ছোট্ট ঝুলিটুকু শেয়ার করার। পোস্টের ২য় অংশও খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন আঁশা করছি।

  2. অফটপিক
    আচ্ছা ভাইয়া, এমন কোনো ডিভাইস বানাতে পারবেন যা মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দিবে। আমি যা বুঝাতে চাচ্ছি যে, আমি যখন মসজিদে যাই নামাজ পড়তে তখন অনেকেই মোবাই অফ করতে ভুলে যান। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের রিংটোন বেজে উঠে। যা খুবই বিরক্ত কর। সস্তায় এমন একটি ডিভাইস বানানো যায় কি যা মসজিদে ব্যভার করা যা যার দ্বারা নেটওয়ার্ক অটোমেটিক ডিজেবল হয়ে যাবে। কাইন্ডলি একটু দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.