রাস্তায় পোকেমন খুঁজছেন একজন পোকেমন শিকারী

সারাবিশ্ব কাঁপছে এখন পোকেমন জ্বরে। পোকেমন শিকারীরা নানাভাবে তাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষে ঘটাচ্ছেন নানা ধরনের কূটবুদ্ধি। কেমন করে আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা ভার্চুয়াল পোকেমনদের খুঁজে এনে বন্দী করা যায় গোলকের মাঝে তাই নিয়ে মেতে আছেন তারা। কিন্তু এটা আসলেই আমাদের জন্য কতটা ভালো ও সুফল বয়ে এনেছে তাই নিয়েই আলোচনা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন পোকেমন গো আপনার মস্তিষ্কে যেসব ভালো ভালো উদ্রেককারী বিষয় রয়েছে, তা ধীরে ধীরে হটিয়ে দিচ্ছে। আপনারা পোকেমন গো খেলে পুরষ্কার অর্জন করছেন? মনের মাঝে সুখানূভূতির সৃষ্টি হচ্ছে? তবে মনে রাখবেন, নেশাজাতীয় দ্রব্যের সেবনও ঠিক এমনটাই কাজ করে থাকে মস্তিষ্কে। কেউ কেউ তো আবার এককাঠি সরেস। তারা তাদের বহুদিনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এই গেমে নিজেকে পুরোপুরি মনোনিবেশ করবার জন্য।

ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্সের একজন প্রফেসর, এলান বেরেনহোলটয বলেন, “আমরা ভালো কাজ করলে তার পুরষ্কার পাই। তবে সেটা শুধুমাত্র বাস্তবে ও কর্মের জন্য। কিন্তু এই গেমের মাধ্যমে মানুষ এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে তারা বাস্তব ও অবাস্তবের মাঝে ফারাক বুঝতে পারছে না। এটা নেশাজাতীয় দ্রব্যের চাইতেও খারাপ। কারণ, এটা আপনি জেনেশুনে চেতনা না হারিয়ে করছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এটা আপনার জন্য আরো খারাপ ফলাফল বয়ে আনতে পারে।”

আসলে কেন মানুষ এই গেমের প্রতি এতটা আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? কারণ, এই গেমে আপনাকে খুঁজতে হবে আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা অবাস্তব জীবদের। কেবল মোবাইলের পর্দাতেই না, আপনাকে বাস্তবেও হেঁটে যেতে হবে রাস্তায়, কারো বাড়িতে এমনকি টয়লেটেও! বেশ কিছুদিন ধরেই পোকেমন গো এর নামে নানারকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডের খবর আসছে। এর ফল শোভনীয় হবে না বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

এলান আরো বলেন, “মানুষের মস্তিষ্ক খুবই জটিল। মানুষ নানা ধরণের কাজের মাধ্যমে নিজের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে পারে। হোক সেটা কায়িক, কিংবা মানসিক পরিশ্রম। কিন্তু এ ধরনের ভিডিও গেমের প্রতি আসক্তি আখেরে মানুষকে করে দেবে অলস ও কর্মভীতু।”

 

অবসর কাটানোর জন্য একটু আধটু গেম খেলা যেতেই পারে। বিজ্ঞানীরা এটাও অস্বীকার করেন না যে, গেম খেলার মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি কিছুটা হলেও বিকশিত হয়। কিন্তু যে গেম আপনার জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে না বরঞ্চ আপনাকে করে তুলবে কর্মবিমুখ, তেমন গেম থেকে দূরে থাকাই বোধহয় বাঞ্ছনীয়।

 

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.