নতুন মহাদেশ জিল্যান্ডিয়া ছবিসূত্রঃ এনভায়রোমেন্টোপিডিয়া

অবশেষে একটি রহস্যের অবসান হল।

এতোদিন আমাদের জানা ছিল পৃথিবীর মহাদেশ সাতটি। তবে ভূ-তাত্ত্বিকরা তাদের নতুন গবেষণায় এটি বের করেছেন যে, পৃথিবীর মহাদেশ আটটি এবং পৃথিবীর মানচিত্রে সময় এসেছে একটি পরিবর্তন আনার।

নতুন এই মহাদেশের নাম জিল্যান্ডিয়া। এটি এমন কোন বড় মহাদেশ বা ভূ-খন্ড নয় যে তা বেশ সহজেই চোখে পড়বে। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রশস্ত বুকে নিউজিল্যান্ড, নিউ ক্যালেডোনিয়া ও কিছু ছোট ছোট ভূ-খন্ড নিয়ে এই নতুন মহাদেশটি গঠিত। এই মহাদেশটির বেশিরভাগ অংশ এতোদিন পানির নিচে ছিল বলেই তা গোচরে আসে নি বলে তাত্ত্বিকরা বলছেন।

নতুন অবস্থানে জিল্যান্ডিয়া সূত্রঃ Live science
নতুন অবস্থানে জিল্যান্ডিয়া
             ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনের একটি বিজ্ঞান ও গবেষণাগারে এই তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভূ-তাত্ত্বিক নিক মর্টিমার বলেন,

“আমরা আশা করছি এখন থেকে মানচিত্রে জিল্যান্ডিয়ার অবস্থান নতুন করে দেখানো হবে।”

“সাতটি মহাদেশের সাথে এবার আরো একটি নতুন যোগ হল।”

নতুন এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে নিউজিল্যান্ডের পাশে যে সমুদ্র রয়েছে তার নিচে নতুন একটি ভূ-খন্ড থাকার সম্ভাবনা অনেক আগেই করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রের প্রায় ৩২৮০ ফিট নিচে নতুন একটি সীমারেখা দেখতে পাবার কারণে বিজ্ঞানীদের চিন্তাটি আরো পাকা হয়। অন্যান্য মহাদেশের মতই জিল্যান্ডিয়ার উচ্চতা দীর্ঘ। সমুদ্র তলদেশ থেকে প্রায় ১২,২১৭ ফিট উচ্চতায় এটি সগৌরবে অবস্থান করছে।

সন্দেহটি আরো পাকাপোক্ত হয় যখন জিল্যান্ডিয়ার কিছু মাটি ও পাথরের নমুনা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতে যান। কারণ, স্বাভাবিকভাবেই এটি জানা আছে যে, সমুদ্রের তলদেশে যদি মাটির নমুনা পাওয়া যায় তা সাধারণ ভূ-খন্ডের থেকে একটু আলাদা হবে। কিন্তু জিল্যান্ডিয়ার মাটিতে মহাদেশভিত্তিক যে ভূ-খন্ড রয়েছে তার সাথে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। ইতিহাসের দিক থেকে দেখলে এই মাটির আলাদা কিছু মাহাত্ম্য রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশ গঠনের সাথে এই মাটির কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

জিল্যান্ডিয়া নিয়ে কিছু সাধারণ তথ্যঃ

যেখানে অবস্থান হবে জিল্যান্ডিয়ার সূত্রঃ Live science
যেখানে অবস্থান হবে জিল্যান্ডিয়ার
                                                        ছবি সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

১) নিউজিল্যান্ডের আদি নাম ছিল গন্ডোয়ানা। গন্ডোয়ানা বিভক্ত হয় আরো ৮৫ মিলিয়ন বছর আগে। তখনই জিল্যান্ডিয়ার সৃষ্টি।

২) গন্ডোয়ানা থেকে জিল্যান্ডিয়ার আলাদা হবার ঘটনাটি একটু অদ্ভূত, এটি বিচ্ছিন্ন হবার পর ভেঙ্গে না গিয়ে নিজ ক্ষেত্রে একটু প্রসারিত হয়ে যায়।

৩) এর আয়তন ১.৮ মিলিয়ন স্কয়ার মাইল।

৪) এটি আকারে ভারতে চেয়ে বড় এবং ইউরোপের অর্ধেক।

সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.