পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে সবসময় মারামারি যুদ্ধ লেগেই থাকে। তবে আজকে আপনারা জানতে পারবেন এমন ১০টি দেশের কথা যারা অনেক সুখী। যেখানে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। এতো বড় বড় রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সে দেশের সবাই মিলে মিশে একসাথে থাকে।

আজকে জানবেন পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে কোন কোন দেশ সবথেকে শান্তিপ্রিয় দেশের তালিকায় যায়গা করে নিয়েছে।

বিস্তারিত-

১০। সাইপ্রাস-

 

সাইপ্রাস

ইউরোপের অন্যতম শান্তিপ্রিয় দেশ সাইপ্রাস। এখানকার মানুষের কখনো কিছু দেখে ভয় বা আতঙ্কে থাকে না। ইভেন তাঁরা রাত্রে ঘুমোবার সময়ও ঠিক মতো তাদের ঘড়ের দরজা বন্ধ করে ঘুমোয় না। এমনটি শোণা যায়। ঠিক এই কারনেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম সুখী দেশের কাতারে চলে এসেছে সাইপ্রাস।

০৯। ডেনমার্ক-

 

denmark_flag

সাধারণ জনগনের নিরাপত্তার বিষয়ে ডেনমার্ক অনেক শক্ত আইন করে রেখেছে। এখানে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে আছে  মাত্র একজন করে পুলিশ অফিসার। ডেনমার্কে খুনের ঘটনা নাই বললেই চলে, মাত্র ০.১% প্রতি ১ লক্ষে। স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য পৃথিবীতে অন্যতম একটি দেশ ডেনমার্ক। এমনটি শোণাযায় সেদেশের জনগনের মুখ থেকে।

০৮। আইসল্যান্ড-

 

Iceland

আইসল্যান্ডের বাতাসেই শুখের আবেশ বয়ে বেড়ায়। এমন কথাই শোণাযায় সে দেশের বসবাসরত মানুষের মুখে। সেখানকার পুলিশ অফিসারদের সাথে কোন বন্দুক বহন করার অনুমতি দেয়া হয়না কারন তাদের সেটি প্রয়োজনই পরে না। আইসল্যান্ডে মোট অপরাধী বা পুলিশের কাছে বন্দী আছেন এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ২০০। এবং তাদের অপরাধও খুব গুরুতর না হওয়ার কারনে ইচ্ছা করলেই বন্দিরা তাদের স্বজনদের সাথে দেখা ও সময় কাটাতে পারে।

০৭। আইরল্যান্ড-

 

irishflht

আইরল্যান্ডের ক্রাইমের সংখ্যা একেবারেই কম মাত্র ০.৩২% প্রতি ১ লক্ষ মানুষের গণনাই। পশ্চিম ইউরোপের মদ্ধে আইরল্যান্ডকে সব থেকে শান্তিপ্রিয় দেশ বলে বিবেচনা করা হয়। এখানে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে ৩০০ জন পুলিশ অফিসার নিয়োগ দেয়া আছে।

০৬। জাপান-

 

japan-flag

জাপান এমন একটি দেশ যাদের এশিয়া মহাদেশের ভেতরে সব থেকে নিরাপদ বা শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের মানুষেরা পুলিশ বাহিনীকে অনেক বেশী সম্মানকরে এবং তাঁরা মনে করে যে, তাদের যে পুলিশ বাহিনী আছে তাঁরা তাদের যেকোনো ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। জাপানে প্রতি বছর গড়ে মাত্র ০.৪% খুনের ঘটনা ঘটে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে। এবং প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে জাপানে আছে ২০০ জন পুলিশ অফিসার। জাপানের আইনের শাসন খুব বেশী কার্যকরী যার দরুন তাদের ওখানে ক্রাইমের ঘটনাও খুব কম ঘটে।

০৫। লাক্সেমবার্গ-

 

luxembourg

এখানকার মোট জনসংখ্যা মাত্র ৬ লক্ষের মতো। ক্রাইমের পরিমাণ একেবারে নেই বললেই চলে। পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র দেশের মদ্ধে এটি অন্যতম এবং এখানকার জনসংখ্যা এতো কম হবার কারনে সেখানে খুব বেশী অপরাধ সংঘটিত হয়না।

০৪। বাহারাইন-

 

flag-bahrain-XL

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথা পুলিশের সংখ্যা বাহারাইনে অন্যান্য দেশের তুলনাই অনেক বেশী। এখানে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে আছে ১৯০০ জন পুলিশ সদস্য। যেটি সত্যি অনেক বেশী। ঠিক একারণে এখানে কেও অপরাধ করে পার পায়না। পুলিশ ঠিকই অপরাধ কারীকে ধরে ফেলে। অনেকেই মনে করে বাহারাইন যে শান্তিপ্রিয় দেশ তার পেছনে প্রধান কারন হল এই বিশাল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।

০৩। হংকং-

 

Flag_of_Hong_Kong

হংকং এর গড় ইন্টারনেট স্পীড যেমন বেশী তেমন শান্তিপ্রিয় দেশের তালিকাতেও তাঁরা অনেক এগিয়ে আছে। এখানে মানুষ হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটে মাত্র ০.২% প্রতি ১ লক্ষে। যেটি সত্যি অনেক কম। অন্যান্য আধুনিক দেশের মতো হংকং অন্যতম। এখানকার পুলিশ সদস্যরা খুব বেশী সক্রিয়।

০২। সিঙ্গাপুর-

 

singapore-flag

এশিয়া মহাদেশের সবথেকে শান্তিপ্রিয় দেশ বলা হয় সিঙ্গাপুরকে। এখানে প্রতি বছর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে শতকরা মাত্র ০.৩ প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে। এছাড়া চুরি বা ডাকাতি করার মতো ঘটনা একেবারেই ঘটে না বললেই চলে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে মৃত্যুদণ্ড আইনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধের জন্য এখানে বেত্রাঘাত এবং জেল জরিমানার আইন চালু আছে।

০১। সুইজারল্যান্ড-

 

swiss-flag

সমগ্র পৃথিবীতে শান্তিপ্রিয় দেশের তালিকায় সবার শীর্ষে আছে সুইজারল্যান্ড। বসবাসের জন্য এই দেশকে স্বর্গীয় নগরী বলা হয়ে থাকে। এখানে স্থায়ী বাসিন্দাদের ভেতরে কোন কোন্দল বা মারামারি হয়না। কেউ কারোর সাথে ঝগড়া বিবাদে জরায় না। দেশের নাগরিকদের মদ্ধে শান্তির এক সংস্কৃতি বিরাজ করে। সুইজারল্যান্ডে বিগত দিনে যত খুন বা আপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেগুলো সব বহিরাগত যেমন, পর্যটক বা বিদেশীদের দ্বারা। সুইজারল্যান্ডে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের বিপরিতে মাত্র ২১৬ জন পুলিশ সদস্য আছে। অনেকেই এই সংখ্যাই বেশী মনে করে। এখনকার বাসিন্দাদের মতে,তাদের নিজেদের সুরক্ষা দেবার জন্য তাঁরা নিজেরাই যথেষ্ট।

### আমি মনেকরি আমাদের বাংলাদেশও অনেক শান্তিপ্রিয় একটি দেশ। কোন পরিসংখ্যানের হিসেবে না গেলে, বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বাদ দিলে আমরাও অনেক শুখে আছি। অন্যান্য দেশের কথা জানিনা। আমি মনে করি আমাদের দেশের মানুষ যথেষ্ট আন্তরিক। আমরা সবাই সবাইকে আপন ভাই ভাই মনে করে চলি। তাদের সাথে মিশি। যার দরুন নতুন কোন মানুষের সাথে পরিচয় হতে আমাদের খুব বেশি সময়ের দরকার পরে না।

আশা করবো খুব তারাতারি আমারাও অন্যান্য দেশের মতো শান্তিপ্রিয় একটি দেশ হিসেবে পরিচয় পাবো।

 

সূত্রঃ ইন্টারনেট, উইকি

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.