রাশিয়ার প্রত্যন্ত এই গ্রামটির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এর প্রচণ্ড রকমের শীত। রাশিয়ার ভেতরে থাকা এই শীতল গ্রামের নাম অনেকেই না জানলেও এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ হাড়ে হাড়ে জানে ঠাণ্ডা কি জিনিস। ঠাণ্ডা মেরু নামে পরিচিত গ্রামটির জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও ২০১৩ সালে একবার সেটা নেমে পৌঁছে গিয়েছিল ৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিছুদিন আগ অবধিও এখানে সভ্যতার ছিটেফোঁটাও ছিল না। তবে বর্তমানে ধীরে ধীরে পর্যটকদের আগ্রহের কারণে একটু একটু করে সভ্যতার ছোঁয়া পাচ্ছে গ্রামটি। তবে যত চেষ্টাই করা হোক, স্বাভাবিক নিত্যদিনের আধুনিক সভ্য জীবনকে এই গ্রামে আনা কখনোই সম্ভবপর নয়। আর তার একমাত্র কারণ এর ভয়াবহ শীত। ওইমিয়াকনে মোবাইল ফোন কাজ করে না। কারণ মোবাইল ফোনের ব্যাটারি এখানকার প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় অল্প সময়েই অচল হয়ে যায়। গ্রামটিতে গাড়ি রাখা যায় না। কারণ প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় নষ্ট হয়ে পড়ে গাড়ি। কালেভদ্রে গাড়ি আনলেও সেটিকে চালু রাখতে হয় পুরোটা সময়। না হয় থেকে যায় ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা। অদ্ভুত এই গ্রামে একটি মুদি দোকান রয়েছে। আর আছে একটি বার। যার পর্দা সব সময়ই নামানো থাকে। এখানকার মানুষের খাবারের প্রধান উৎস মাংস আর বরফ ভেঙে উদ্ধার করা মাছ। কারণ প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে এখানকার কোনো শস্যই শেষ অবধি ঘরে ওঠে না। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো কোনো রকমের ফলমূল না খেয়েও শরীরে কোনো ধরনের পুষ্টির অভাব দেখা যায় না ওইমিয়াকনবাসীর।

নেই যোগাযোগ ব্যবস্থা

অস্ট্রেলিয়ার একটি পরিচয় হলো এখানে খুব কম মানুষ বসবাস করে। আর অন্যটি হলো এর সৌন্দর্য এখনো অনেকটাই লুকানো রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে অবস্থিত এই স্থানটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এর লুকানো আর যত্ন নিয়ে আগলে রাখা আদিমতা। এই অঞ্চলের ১৮ হাজার মানুষের বেশির ভাগই আদিম গোষ্ঠীর অংশ যারা কিনা সভ্য জগতের বাইরে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থানের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তবে আরেক দিক থেকে এই একই কারণে স্থানটি সবার কাছে অনেকটা দূরের আর দুর্গম বলে খ্যাতিও পেয়েছে। কেবল অস্ট্রেলিয়া কেন, পুরো পৃথিবীর যত দুর্গম জায়গা রয়েছে সেগুলোর ভেতরে অন্যতম একটি বলে পরিচিত এখন এই কেপ ইয়র্ক। বর্তমানে কিছু পর্যটকের সাহসী পদক্ষেপের কারণে মাঝে মাঝে কিছু গাড়িকে যদিও চলতে দেখা যায় কেপ ইয়র্কের রাস্তায়, সেটা কেবল তখন যখন কিনা এর কর্দমাক্ত পথগুলো বন্ধ না থাকে। এত সব ঝামেলার কারণে এই অঞ্চলের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম বর্তমানে একটিই। আর সেটা হলো হেলিকপ্টার।

ধনুক দিয়ে শিকার করে জীবিকা

টাইম মেশিনের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? কিন্তু কখনো ভেবেছেন সময় বদলে অন্য সময়ে চলে গেলে ঠিক কেমন লাগে? টাইম মেশিন তৈরি করা সম্ভব হয়নি এখনো। কিন্তু তাতে কি? আফ্রিকার এই গোত্রের লোকদের এলাকায় একবার ঢুকে দেখুন। কোনো ধরনের টাইম মেশিন ছাড়াই সোজা ১০ হাজার বছর পিছিয়ে যাবেন আপনি।

আফ্রিকার রিফট উপত্যকার ইয়াসি লেকের পাশে বসবাস করা এই মানুষগুলো বেশ শান্তিপ্রিয়। প্রকৃতির আশীর্বাদে গত ১০ হাজার বছরের ভেতরে কোনো ধরনের মহামারী বা দুর্ভিক্ষও দেখতে হয়নি এদের। ফলে আশ্চর্যরকমভাবে কোনো ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে এরা পৃথিবীর মানচিত্রে। হাদজা গোত্রের মানুষের প্রধান খাবার মাংস। শিকার করে আনা বেবুন, পাখি, পিঁপড়াখেকো ও ষাঁড়ের মাংস খেয়েই নিজেদের দিন কাটায় তারা। শিকার কাজে তাদের প্রধান অস্ত্র হলো ধনুক। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এতটা বছরেও এই গোত্রের সদস্য সংখ্যা খাবারের তুলনায় খুব একটা বেশি বা কম হয়নি। বরং সব সময়ই একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে থেকেছে তারা। গরম আর কর্কশ আবহাওয়ার মাঝে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোকে সহ্য করতে হয় বিষাক্ত সাপ, কাঁটাযুক্ত ঝোপ আর মানুষখেকো সিংহকে। পৃথিবী সম্পর্কে খুব বেশি আগ্রহ না রাখা এই মানুষরা নিজেদের খাবারের সংস্থান হয়ে গেলে বাকিটা সময় নিজেদের ডেরাতেই ঘুরে বেড়ায়। নিজেদের নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে পা ফেলে না কখনোই। আর তাই সভ্যতার অনেক কাছে থেকেও অনেকটা দূরে রয়েছে এখনো গোত্রটি।

বাকি পৃথিবীটাই ভিনগ্রহ

ভারতের উত্তর সেন্টাইনিল দ্বীপের বসবাসকারী এই মানুষগুলোকে ডাকা হয় তাদের বসবাসের স্থানের নামেই। কারণ এখনো অব্দি এটা কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি যে তারা আসলে নিজেদের কী নামে পরিচয় দেয়। ২০০৬ সালে সভ্য জগতের দুটি নৌকা ওই দ্বীপে পৌঁছলে সেন্টাইনিলসরা আরোহী দুজন জেলেকে মেরে পুঁতে ফেলে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটি নিশ্চিত করা গেলেও দ্বীপটির ধারে-কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আর এর একমাত্র কারণ ছিল দ্বীপবাসীদের একের পর এক তীর- ধনুক বর্ষণ।

পুলিশদের কেউ কখনো ওই দ্বীপে যেতে রাজি হয়নি কেবল এই ভয়েই যে ওরা তাদেরও মেরে পুঁতে ফেলবে। এখনো পর্যন্ত সভ্যতার একটা অাঁচড়ও এই মানুষগুলোর ভেতরে পড়েনি। হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাই এদের খানিকটা দেখা গেলেও এর ধারে-কাছে যাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব কাজ বলে সবার ধারণা। তবে কেবল এখনই নয়, ভারতের এই দ্বীপের মানুষেরা সভ্যতা ঠিক করে গড়ে ওঠার আগেও এতটাই বর্বর ছিল। আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কো পোলোর লেখাতেও। তখনো অনেক বেশি অমানবিক ছিল এই দ্বীপবাসী। আর তাই সবটা দেখে শুনে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে যে ব্যস! অনেক হয়েছে। ওদের ঠিক তেমনটাই রাখা হোক যেমনটা ওরা থাকতে চায়। একেবারে সভ্যতার বাইরের একটি গোত্র হিসেবে এখনো পর্যন্ত তাই বেশ ভালোভাবেই টিকে রয়েছে সেন্টাইনলিসরা।

সর্বশেষ বাসিন্দা আকা

আকা। না, এটা কোন গ্রাম, শহর বা গোত্রের নাম নয়। এটা কেবল একজন মানুষের নাম। আফ্রিকার রেইনফরেস্টে বাস করা একজন মানুষ। ১৫ বছর ধরে একই স্থানে বসবাস করা এই মানুষটির অদ্ভুত ধরনের বাড়ি বানানোর তোড়জোড় দেখে প্রথম তার ওপর লক্ষ রাখতে থাকে গবেষকরা। পরে ধীরে ধীরে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে অত্যন্ত প্রাচীন কোনো এক গোত্রের সর্বশেষ বাসিন্দা এই আকা। তবে মানুষটির অনেক কাছে গিয়ে খুব বেশি কিছু জানতে পারেনি গবেষকরা এর সম্পর্কে। আর তার একমাত্র কারণ হলো ওর ভাষা। আকার মুখের ভাষা কোনো ভাষার সঙ্গেই খাপখায় না। ফলে এখনো অব্দি সহজভাবে ওর কাছ থেকে কোনো কথা জানতে পারেনি কেউ। ১৯৮৮ সালে ব্রাজিলের সংবিধান নতুন একটি আইন করে। এ আইনে যে যেখানে বসবাস করে সেখানেই তাদের পাকাপাকিভাবে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে কোনো গোত্রের পক্ষে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কোনো সুযোগ আর রাখা হয় না। গবেষকদের মতে হয়তো ঠিক সে সময়ই অন্য কোনো মানুষের আক্রমণের শিকার হয় এ গোত্রটি। যেখানে মারা যায় সবাই আর বেঁচে থাকে কেবল এই একজন মানুষ।

বিশ্বাস বদলে গেলেই হবে ভূমিকম্প

কোরোওয়াই গোত্রের খোঁজ প্রথম পাওয়া যায় ১৯৭০ সালে। সেসময় ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে বসবাসকারী এ মানুষগুলো পাথর আর কাঠের ওপর নির্ভর করেই জীবন চালাত। এখনো ওরা ঠিক সেই একই রকমভাবে নিজেদের জীবন চালাচ্ছে কেবল পাথর আর কাঠের ওপর নির্ভর করে।

কোরোওয়াইবাসীর ধারণা তারা পাল্টে গেলে, সভ্যতাকে নিজেদের ভেতরে নিয়ে নিলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্প হবে। আর তাতে মারা যাবে সবাই। ফলে এখনো পর্যন্ত তারা ঠিক তেমনই আছে যেমনটা অনেক আগে ছিল। কেবল সভ্য জগতের কাছ থেকেই নয়, এখানকার একটি গ্রাম অন্য গ্রামের থেকেও অনেক দূরে অবস্থিত। প্রথম ২০১০ সালে এদের ওপর জরিপ করতে এলে জরিপকারীদের বেশ ভালোরকমের একটা বড় নৌকাযাত্রার পর টানা দুই সপ্তাহ হাঁটতে হয়েছিল কেবল কোরোওয়াই থেকে তার সবচেয়ে কাছের অন্য গ্রামটিতে যেতে। কোরোওয়াই গোত্রের অন্যতম হাস্যকর একটি ধারণা যা এতদিন অব্দি ওরা মেনে চলেছে, সেটা হলো- কখনো প্যান্ট পরলেই পৃথিবীতে ভূমিকম্প হবে। ২০০৬ সালে বেশ চালাক এই কোরোওয়াইবাসী নিজেদের গোত্রের এক ছেলেকে প্রতিবেদকদের কাছে পাঠিয়ে বেশ ভালো রকমের প্রতারণা করে বাইরের জগতের সঙ্গে।

মানুষ দেখলে দৌড়ে পালায়

১৯৮৪ সালের কথা সেটা। হঠাৎ পিনটুপির এক দলের মুখোমুখি পড়ে গেল এক সাদা চামড়ার মানুষ। এরপর? সোজা দৌড়ে পালিয়ে গেল দলটি সাদা চামড়ার মানুষটির কাছ থেকে। অনেকটা অদ্ভুত শুনতে হলেও ব্যাপারটা সত্যি যে এরকমটা কেবল এই প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছে। আর সবসময়েই কোনো না কোনো কারণেই এমনটা করে আদিম মানুষেরা। আর এখানে নিজেদের পালিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পিনটুপির এক অধিবাসী জানায় যে, প্রথমে শয়তানের অশুভ আত্দা বলে মনে করেছিল তারা গোলাপি মানবকে। তবে পরে তার কাজকর্ম দেখে বুঝে গিয়েছিল সে আসলে অতটা ভয়ঙ্কর নয়।

প্রথমে পালিয়ে গেলেও কিছুদিন পরেই আবার পিনটুপিবাসী যোগাযোগের চেষ্টা করে খানিকটা সভ্য গোত্রের সঙ্গে। আর সেসময় তাদের লম্বা দাড়ি আর অদ্ভুত আচরণ ও দেহভঙ্গি দেখে ভয় পেয়ে বন্দুকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে অপেক্ষাকৃত সভ্যরা। ফলে আবার ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় পিনটুপিবাসী।

কিছুদিন পরে খানিকটা সভ্য গোত্রের মানুষেরা গিয়ে এই অদ্ভুত আর আদিম পিনটুপিদের নিয়ে সাদা চামড়াদের সঙ্গে কথা বলে। আর তারপরই ধীরে ধীরে খানিকটা হলেও সভ্য জগৎ্ সম্পর্কে জানতে পারে এ গোত্রটি।

চিহ্ন শুধু দেয়াশলাই

পৃথিবীর বুকে এতকাল ধরে লুকিয়ে থাকা এ গোত্রটির কথা আমাদের সভ্য জগতের জানার বাইরেই থেকে যেত যদি না কিছুদিন আগে অর্ধনগ্ন আর পিছিয়ে পড়া এই মানুষগুলো তাদের কৌতূহলকে চাপা দিতে না পেরে পেরুভিয়ান নদীর পাশ দিয়ে খানিকটা উঁকি দিত। কিন্তু কী এমন ঘটনা ঘটল যে এতদিন পর সবার সামনে বেরিয়ে আসতে হলো ওদের? গবেষকদের মতে এর একমাত্র কারণ সভ্যতার অন্যতম দুই আকর্ষণ। দেয়াশলাই আর ধাতুর পাত্র।

পেরু সরকার যদিও এ গোত্রটিকে বাঁচানোর জন্য আইন জারি করেছে এবং কোনো পর্যটককেই ওখানে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছে, বর্তমানে কিছু পর্যটক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে এর পুরো ব্যাপারটিই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। লোভী মানুষ আর নৃতত্ত্ববিদদের অতিরিক্ত আগ্রহের নির্মম শিকার হচ্ছে এ গোত্রের মানুষগুলো।

পালিয়ে ফেরা

১৯৭৮ সাল সেটা। একদিন রাশিয়ার ভূতাত্তি্বকরা লোহার খনি খুঁজতে যায় হেলিকপ্টারে চড়ে। আর ঠিক সেসময়ই তাদের চোখে পড়ে একটা ছোট্ট কাঠের কেবিন। তাও সাইবেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। কে থাকে ওখানে? খুঁজতে গিয়েই গবেষকরা খুঁজে পায় একটা পরিবারকে। শণের কাপড় পরা জঙ্গলের ভেতরে থাকা পরিবারটি তখন কাঠের তৈরি পানপাত্র থেকে পান করছিল। নতুন অতিথিদের দেখে প্রচণ্ড ভীত হয়ে পড়া এ পরিবারটি একটিই কথা ছিল। আর সেটি হলো এসব হয়েছে কেবল তাদের পাপের কারণে। শুধু লাইকভ নামের এ পরিবারটিই নয়। সাইবেরিয়ার এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছে এমন অনেক পরিবার যারা কিনা সভ্য জগৎ থেকে একেবারেই দূরে।

রাশিয়ার এই নাগরিকদের ওল্ড বিলিভারস বা প্রাচীনপন্থা বিশ্বাসকারী বলে মনে করা হয় যারা কিনা রাশিয়ার প্রধান ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ১৭ শতাব্দীতে। শাস্তির ভয়ে সেই তখন থেকেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। এবং তাদের থাকার জায়গাগুলো এতটাই ঠাণ্ডা আর দুর্গম যে, খানিক বাদেই আপনা আপনি মুখ থেকে একটা কথা বেরিয়ে আসে সবার- থাকুক না ওরা ওদের মতো!

সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.