পারফেক্ট! নাহ, পারফেক্ট কোন কিছুই হয় না দুনিয়াতে। যাই হোক আজ আমি আপনাদের দেখাব কিভাবে একটি পরিপূর্ণ লিনাক্স মিন্ট মেশিন সেটআপ দিবেন, যা উইন্ডোজকে সম্পূর্ণরুপে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম। উইন্ডোজে আপনি যে সব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন তার পূর্ণ বিকল্প থাকবে এতে। সুবিধাগুলো পরিষ্কার – আপনি পাচ্ছেন একটু নিরাপদ কম্পিউটিং সিস্টেম যাতে থাকছে না কোন DRM Restriction বা অন্য কোন ধরণের বাধা।

2011-01-01_113328

লো প্রোফাইল মেশিনগুলোতে যা কিনা খুবই স্মুথলি চালানো যায়। আরও সুবিধার মধ্যে অন্যতম একটা হচ্ছে সবগুলো সফট পাচ্ছেন সম্পূর্ণ ফ্রীতে। আরও একটা সুবিধা হচ্ছে, লিনাক্স মিন্ট আমার দেখা মতে সবচেয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি ডেস্কটপ যা নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্যও খুবই সহজ।

আসুন কাজ শুরু করা যাক।

প্রয়োজনীয় এপ্লিকেশন

একটা উইন্ডোজ মেশিনকে সম্পূর্ণরুপে সরিয়ে দিতে হলে আমি চাইব একটা মিন্ট মেশিন যেটায় নিচের এপসগুলা রেডি থাকবে।

গ্রাফিক্সঃ

  • The GIMP – এডোব ফটোশপের ফ্রী রিপ্লেসমেন্ট
  • F-Spot – জিমোম ডেস্কটপের জন্য সকল রকম সুবিধা সম্পন্ন ব্যক্তিগত ফটো ম্যানেজমেন্ট সফট
  • Google Picasa – ফটো এডিটর এবং অর্গানাইজার

ইন্টারনেটঃ

  • Firefox – নিরাপদ এবং ওপেনসোর্স ওয়েব ব্রাউজার
  • Opera – বিভিন্নরকম সুবিধা সম্পন্ন আরেকটি ফ্রী ওয়েব ব্রাউজার
  • Flash Player 10 – ফ্ল্যাশ প্লেয়ার প্লাগইন
  • FileZilla – সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় এফটিপি ক্লায়েন্ট
  • Thunderbird – ইমেইল, নিউজ এবং ফীড ক্লায়েন্ট
  • Evolution – একই সাথে ইমেইল, ক্যালেন্ডার, এড্রেসবুক এবং টাস্ক লিস্ট ম্যানেজার
  • aMule – P2P ফাইল শেয়ারিং এপ্লিকেশন
  • Transmission BitTorrent Client – বিটটরেন্ট ক্লায়েন্ট
  • Vuze – জাভা বিটটরেন্ট ক্লায়েন্ট
  • Pidgin – মাল্টি-প্ল্যাটফরম ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জার
  • Skype – স্কাইপে মেসেঞ্জার
  • Google Earth – গুগল আর্থ ডেস্কটপ ক্লায়েন্ট
  • Xchat IRC – আইআরসি ক্লায়েন্ট

অফিসঃ

  • OpenOffice Writer – মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প
  • OpenOffice Calc – মাইক্রোসফট এক্সেলের রিপ্লেসমেন্ট
  • Adobe Reader – পিডিএফ রিডার
  • GnuCash – ডাবল-এন্ট্রি বুক-কিপীং পার্সোনাল ফাইন্যান্স সিস্টেম
  • Scribus – ওপেনসোর্স ডেস্কটপ পাবলিশিং (DTP) এপ্লিকেশন

সাউন্ড এবং ভিডিওঃ

  • Amarok – অডিও প্লেয়ার
  • Audacity – ফ্রী, ওপেন সোর্স, ক্রস প্ল্যাটফরম সাউন্ড এডিটর
  • Banshee – অডিও প্লেয়ার, বিভিন্ন রকম ফরম্যাট এনকোড এবং ডিকোড করতে পারে এছাড়া এপল আইপডের সাথেও মিউজিক সিনক্রোনাইজ করা যায়
  • MPlayer – মিডিয়া প্লেয়ার (ভিডিও/অডিও), WMAসাপোর্ট সহ
  • Rhythmbox Music Player – অডিও প্লেয়ার, এপলের আইটিউনের সমতূল্য, আইপডের সাপোর্টও আছে
  • gtkPod – এপলের আইটিউনের মত আরেকটা সফটওয়্যার, আইপড, আইপড ন্যানো, আইপড শাফল, আইপড ফটো এবং আইপড মিনি সাপোর্ট করে
  • XMMS – উইনএম্পের সমতূল্য আরেকটি অডিও প্লেয়ার
  • dvd::rip – সবরকম সুবিধা সম্পন্ন ডিভিডি রিপার
  • Kino – ফ্রী ডিজিটাল ভিডিও এডিটর
  • Sound Juicer CD Extractor – সিডি রিপার টুল, বিভিন্ন রকম অডিও কোডেক সমর্থন করে
  • VLC Media Player – অল ইন ওয়ান মিডিয়া প্লেয়ার (ভিডিও/অডিও)
  • Totem – মিডিয়া প্লেয়ার (ভিডিও/অডিও)
  • Xine – মিডিয়া প্লেয়ার, বিভিন্ন রকম ফরম্যাট সাপোর্ট করে
  • Brasero – সিডি/ডিভিডি বার্ণিং প্রোগ্রাম
  • K3Bসিডি/ডিভিডি বার্ণিং টুল
  • Multimedia Codecs – সব ধরণের মিডিয়া ফাইল চালানোর জন্য কোডেক

প্রোগ্রামিং

  • KompoZer – WYSIWYG এইচটিএমএল এডিটর, ম্যাক্রোমিডিয়া ড্রীমওয়েভারের সমতূল্য
  • Bluefish – টেক্স এডিটর, বিভিন্ন প্রকার প্রোগ্রামিং এবং মার্কআপ ল্যাংগুয়েজের জন্য উপযোগী
  • Quanta Plus – ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এনভায়র্নমেন্ট, WYSIWYG এডিটর সহ

অন্যান্যঃ

  • VirtualBox – আপনার লিনাক্স ডেস্কটপে অন্যান্য ওএসগুলো চালানোর সুযোগ করে দেয়। যাতে আপনার মেশিনে বারে বারে হার্ডডিস্ক পার্টিশন করতে না হয়।
  • TrueType fonts – বিভিন্ন ট্রুটাইপ ফন্ট
  • Java – জাভা এনভায়র্নমেন্ট
  • Read-/Write support for NTFS partitions – এনটিএফএস পার্টিশনে ফুল একসেস সাপোর্ট

সবগুলো এপ্লিকেশনই লিনাক্স মিন্ট রিপোজিটরীতেই পাওয়া যাবে।

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন, একই কাজের জন্য একাধিক সফট রাখা হয়েছে। তবে আপনি যদি জানেন যে আপনার কোনটা দরকার বা কোনটা আপনার প্রিয় তাহলে সবগুলোর দরকার নেই। যেমন বার্ণিং টুল হিসেবে Brasero এবং k3b রেখেছি। যে কোন একটা ইন্সটল করলেই হবে। এটা অন্যন্য সফটগুলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এহহে, পোস্টতো দেখি বিশাল হয়ে যাচ্ছে। তারচেয়ে আপনাদের একটা কাজ দিয়ে রেখে যাই, বাকিটুকু আমি পরের পোস্টে দেখাবো। আপনারা এই সময়টার মধ্যে লিনাক্স মিন্টের লাইভ সিডিটা ডাউনলোড করে ফেলুন। প্রথমে এখান থেকে http://www.linuxmint.com/torrent/linuxmint-10-gnome-cd-i386.iso.torrent টরেন্ট ফাইলটা নামান। এবার যে কোন টরেন্ট ক্লায়েন্ট দিয়ে আইএসওটা ডাউনলোড করে ফেলুন। ডাউনলোড শেষ হলে ISO ফাইলটা একটা সিডিতে রাইট করে রাখুন।

আমি খুব দ্রুতই পরের পর্ব নিয়ে আসছি। সে পর্যন্ত ভাল থাকুন।

ধন্যবাদ।

comments

12 কমেন্টস

  1. কোন একটি কারনে আমি টরেন্ট থেকে নামাতে পারি না। আর নামাতে গেলেও আমার স্পীড ২-৩ KB তে নেমে যায়।এটার কি কোন উপায় আছে বস?
    আর আগেরবার আমি ইউটরেণ্ট ট্রাই করেছিলাম…
    অন্যদিকে পোস্টটি খুব কার্যকর। আমি অনেকদিন থেকেই ভাবছি যে মিণ্ট ব্যবহার শুরু করব।

    • টরেন্ট দিয়েই যে নামাতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে টরেন্ট দিয়ে নামানোটা নিরাদপ। বিশেষ করে এত বড় ফাইলের জন্য। করাপ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকেনা।
      যাই হোক, এই লিংকে যানঃ http://www.linuxmint.com/edition.php?id=67
      যে কোন মিরর থেকে অন্য কোন ডাউনলোডার দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। তারপর টরেন্ট দিয়ে চেক করে নিলেই হবে।

  2. লিনাক্স মিন্ট দেখে লোভ লাগছে। তবে আরেকটা পিসি কেনার আগ পর্যন্ত লিনাক্স ব্যবহার করতে পারবো না 🙁 পুরা হার্ডড্রাইভ ফরমেট হইলে শেষ …

    • কেন, পুরো হার্ডডিস্ক কেন যাবে? আমি ব্যবহার শুরু করার পর থেকে আমার ইচ্ছা ব্যতীত এক বাইট ডাটাও এদিক ওদিক হয়নি। অহেতুক ভয় পাওয়ার কোন মানে হয় না।

    • হে হে, আমি নিজেও তাই। আর কয়েকদিন ধরে সুসেটা ঘেটে দেখছি। তে কাুকে দিতে হলে সবসময়ই মিন্ট ফার্স্ট প্রায়োরিটি পায়।

  3. বাবর ভাই, ইলিয়াস ভাইয়ের সাথে আলাপ হয়েছে আমার। আমিও মিন্ট ব্যবহার করতে চাই।
    আপনার সাহায্য দরকার। প্রজন্মের গোপন বার্তায় দেখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.