এশিয়া বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান সমস্যার একটি হচ্ছে, সবার জন্যে মানসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করতে না পারা।

 

তাই এই ২০১৬ সালেও পৃথিবীর প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মানুষ বঞ্চিত স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট থেকে। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকাংশই কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের। তাই বিশ্বের নামকরা এনজিওগুলো কাজ করছে এই সমস্যা সমাধানে। এরই অংশ হিসেবে আবিষ্কৃত হলো, ‘ন্যানো ম্যামব্রেন টয়লেট’। যে টয়লেট পানি ছাড়াই পয়ঃনিষ্কাশন করবে। ফলে বেঁচে যাবে মহামূল্যবান পানি। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে এই টয়লেট উৎপাদন করবে বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ!

 

ব্রিটেনের ক্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের দাবি এমনই। বিল অ্যান্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তারা উদ্ভাবন করেছে এই অভিনব টয়লেট। এই টয়লেট কোনো বিদ্যুৎ, পানি কিংবা ড্রেন ছাড়াই কাজ করবে। এমনকি এটা বর্জ্যকে পরিণত করবে বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতে। ফলে কিছু কিছু জায়গায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট তৈরি করা যাচ্ছিল না, এই প্রযুক্তি সেই সমস্যারও সমাধান দিয়ে দিল।

 

কথা হলো এই বিস্ময়কর প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? টয়লেটের এই চেম্বারের সঙ্গে দুটো প্রক্রিয়া যুক্ত। একটি প্রক্রিয়া বর্জ্য সংগ্রহ করে একে দুই ভাগে ভাগ করে। প্রথম ভাগে তরল এবং শক্ত অংশকে পৃথক করা হয়। মানুষ যখন এই টয়লেট ব্যবহার করে তখন এর চেম্বার বর্জ্য সংগ্রহ করে ওপর ও নিচের দুটি আলাদা ভাগে নিয়ে কাজ করতে থাকে। ফলে বর্জ্য নিষ্কাশনে কোনো পানির প্রয়োজন পরবে না। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পানি সেচ, বাগান কিংবা ধোঁয়া মোছার কাজে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আমাদের বর্জ্যের রিসাইকেল করা সম্ভব হবে।

 

দুই ভাগে বিভক্ত বর্জ্যের দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ শক্ত অংশ টয়লেটের তোলার একটি প্রকোষ্ঠের মাধ্যমে স্ক্রুর মতো দেখতে একটি পাম্পের সাহায্যে গ্যাসীয় চেম্বারে পাঠানো হয় পোড়ানোর জন্যে। এভাবে এই বর্জ্য পুড়ে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।

 

মজার ব্যাপার হলো এই বিদ্যুৎ থেকেই এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ টয়লেটের মাধ্যমে উৎপাদিত পানির জন্যে যে প্ল্যান্ট কাজ করে তার জন্যে প্রয়োজনীয় শক্তি কিন্তু যোগান দেবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ। সুতরাং বলা যায়, এটি একটি চমৎকার স্বয়ংক্রিয় সাইকেল। তাছাড়া ওয়াটার প্ল্যান্টে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের পরেও কিছু বিদ্যুৎ উদ্ধৃত থেকে যায়, যা দিয়ে অনায়াসেই একটি মোবাইল চার্জ দেওয়া যাবে।

 

গবেষক দলের একজন, এলিসন পার্কার বলেন, আগামি কয়েক মাসের ভেতরই এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হবে। আর প্রাথমিক ভাবে এটা ইংল্যান্ডেই ব্যবহার করা হবে।

 

পার্কার আরো জানান এই টয়লেটের প্রথম ব্যবহারকারী হবেন তার গবেষক দলের সদস্যরাই। পরে এটি আফ্রিকায় পরীক্ষা করা হবে। গেটস ফাউন্ডেশন এই প্রজেক্টের জন্যে খরচ হিসেবে বাজেট করেছে প্রতি ব্যবহারে পাঁচ সেন্ট। এটি খুব কম মূল্যে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচসহ কন্ট্রাক্টে ভাড়ার জন্যে দেয়া হবে। পার্কার জানান তারা এরই মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টার এবং লেজার কাটারের সাহায্যে এই টয়লেটের প্রোটোটাইপ বা খসড়া তৈরি করেছেন। এটাকে বিকল্প টয়লেট হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের চিন্তা আছে। বিশেষ করে যেখানে স্থায়ী টয়লেট নেই, যেমন নৌকা, পিকনিক স্পট বা অনুন্নত গ্রামীণ এলাকায় যেখানে মানুষের চলাচল আছে কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নেই। যদিও বাণিজ্যিক দিকও বিবেচনায় আছে, তবুও গবেষকরা এর মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়েই কাজ করতে চান।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.