প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তীঃ আপনি হয়তোবা কাক, কোকিল এবং গান গাওয়া বিভিন্ন পাখির নাম শুনেছেন । এইসব পাখিগুলো আমাদের আশেপাশেই বসবাস করে। তাই এটা স্বাভাবিক যে, তারা মানুষের মধ্যে তফাৎ করতে পারে। কিন্তু যেসব পাখি জনহীন এলাকায় থাকে, তাদের ধরণটা কেমন হতে পারে?

crowsnotonly

দক্ষিণ কোরিয়ার একদল বিজ্ঞানী এন্টার্টিকায় বসবাসরত ‘ব্রাউন স্কোয়াশ’ এর উপর গবেষণা করেছেন এবং জানি্যেছেন যে, এই পাখিগুলোও মানুষের মতো স্মৃতি ধারণ করতে পারে। যারা অতীতে তাদের বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে তাদের ডিম এবং বাচ্চার ক্ষতি করে।

“আমাকেও ‘স্কোয়াশ’ এর আক্রমন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হয়েছিল”- এমনটাই জানিয়েছেন ইনহা বিশ্ববিদ্যালয় এর পি.এইচ.ডি. অধ্যায়নরত ছাত্র ইয়ন ডিয়াক হান। তিনি আরও জানান, “যখন অন্য গবেষকদের সাথে থাকতাম, তখন পাখিগুলো আমার উপর দিয়ে উড়ে যেত এবং আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করতো। এমনকি আমি আমার কাজের পোশাকও পরিবর্তন করেছিলাম, তখনও তারা আমাকে অনুসরন করতো। আমি যে পোষাকই পড়ি না কেন, তারা আমকে চিনতে পারতো।

গবেষকদল অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন এই বিষয়ের উপর। তারা সপ্তাহে একবার উৎপাদন অবস্থা দেখার জন্য স্কোয়াশের বাসা পরিদর্শন করতেন। তখন স্কোয়াশগুলো একদম কাছাকাছি দূরত্ব থেকে আক্রমন করার চেষ্টা করতো এবং যেসব গবেষকরা বাসা পরিদর্শন করতে জেতেন তারা স্কোয়াশগুলো চিনতে পারে কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য একটি মজার পদ্ধতি অবলম্বন করেন। দুজন মানুষ, তার মধ্যে একজন থাকবেন যিনি পাখির বাসায় অনধিকার প্রবেশ করেননি, আর একজন থাকবেন যিনি পাখির বাসায় অনধিকার প্রবেশ করেছেন। তারা স্কোয়াশের বাসার দিকে বিপরীত দিক দিয়ে হেঁটে যাবেন। এতে করে দেখা গেছে, সাতজোড়া স্কোয়াশই যিনি বাসায় হানা দিয়েছিলেন তাকে অনুসরন করে। কিন্তু যিনি বাসায় হানা দেননি তাকে অনুসরন করে না।

ড. লি মন্তব্য করেন, “যেহেতু এন্টার্কটিকায় গবেষণার পূর্বে কোন মানুষই এখানে বসবাস করে নি, আমাদের ধারনা এই যে, খুব অল্প সময় মানুষের সাথে বসবাস করলেই স্কোয়াশরা বৈষম্যমূলক ক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারতো।

এই তথ্যগুলো ‘Animal Cognition’ জার্নাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.