বিজ্ঞানের জয়োগানে মুখরিত আজকের পৃথিবীর গতিময়তার অন্যতম কারণ ইলেকট্রনিক্স। একটু আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারিক জিনিসপত্র গুলোর দিকে অনুসন্ধানী চোঁখে তাকিয়ে দেখেন ৬০-৬৫% জিনিসের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে আছে বিদ্যুতের ব্যবহার এবং ইলেকট্রনিক্স। আমরা অনেকেই ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক্সে ডিপ্লোমা বা বি.এস.সি সম্পূন্ন করে সার্টিফিকেট অর্জন করে ফেলেছি। কিন্তু আজও সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে চিন্তা করি, শিখতে পেরেছি কতটুকু?

33আমাকে বা আপনাকে যদি কেউ একজন প্রশ্ন করল, কিভাবে পরিবাহীতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়? আমাদের সহজ উত্তর হবে, পরিবাহীর অভ্যন্তরে ইলেকট্রন প্রবাহের কারণেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। আসলে আমরা এটুকুই শিখেছি। কিন্তু আসল রহস্যটা আমাদের অজানাই থেকে গেল। যা হোক আজ আমরা একটু গভীর ভাবে খুঁজে বের করার চেষ্টা করব আসল রহস্যটা। এজন্য প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে পরমাণুর গাঠনিক কলাকৌশল এবং এর সাথে বিদ্যুতের সম্পর্ক সম্পর্কে।

পরমাণুর গাঠনিক কলাকৌশল এবং এর সাথে বিদ্যুতের সম্পর্ক

12আমরা কমবেশি সকলেই পরমাণুর গঠন সম্পর্কে জানি যে, প্রধানত পরমাণু তিনটি মৌলিক কণিকা ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন দ্বারা গঠিত। আর যে কোন পরিবাহী বা পদার্থ সমূহ অসংখ্য পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। প্রত্যেক পরিবাহী স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। এর কারণ হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থায় পরিবাহী যে সকল পরমাণু দ্বারা গঠিত তারা বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ বা চার্জ নিরপেক্ষ থাকে। আরো একটু পরিষ্কার করে বললে, পরমাণুর কেন্দ্র তথা নিউক্লিয়াসে আবস্থান করে প্রোটন, যা পজিটিভ চার্জ বিশিষ্ট হয়। অন্যদিকে ইলেকট্রন সমূহ নিউক্লিয়াসের বাইরে কত গুলো কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় থাকে, যাদের চার্জ প্রোটনের চার্জের সমান  কিন্তু নেগেটিভ হয়। পরমাণুতে আরো একটা মৌলিক কণিকা থেকে গেল আর তা হল নিউট্রন, যার কোন চার্জই নেই এবং ইহা প্রোটন এর সাথে নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। আর এজন্যই বিদ্যুৎ প্রবাহে নিউট্রনের কোন ভূমিকা নেই।

11যা কিছু আলোচনা হল সবই স্বভাবিক অবস্থায়, কিন্তু এই পরিবাহীতে শক্তি তথা বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রয়োগ করলে এই স্বাভাবিক কলাকৌশল পরিবর্তিত হয়। ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন সমূহ শক্তি গ্রহণ করে এক কক্ষপথ থেকে লাফ দিয়ে অন্য কক্ষপথে গমন করে এবং সর্ববহিস্থ কক্ষপথ থেকে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ছিন্ন করে ছিটকে বেরিয়ে আসে।ফলাফল স্বরূপ পরমাণুটি আর বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ থাকে না, চার্জগ্রস্থ হয়ে পরে এবং বিদ্যুৎ পরিবহণ সম্ভব হয়।

……………………………………………………………………………………….

আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্ব (রিবাহীতে বিদ্যুৎ প্রবাহের রহস্যময় গতিপথঃ শেষ পর্ব) এ থাকছে, ব্যন্ড তত্বের ভিত্তিতে পরিবাহীতে বিদ্যুৎ প্রবাহের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কিত আলোচনা। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন। সবার জন্য শুভ কামনা রইল।

comments

18 কমেন্টস

  1. হুম আনেক তথ্য জানতে পারলাম…………….আগামী পর্বের আশায় রহিলম……………ধন্ন

  2. পারমানবিক গঠনটা আরএকটু বেশী বণনা করলে আরো ভাল হত।

  3. I just want to say I am just all new to blogs and truly liked you’re website. Probably I’m likely to bookmark your website . You certainly have impressive writings. Many thanks for revealing your blog.

  4. *Your article has proven useful to me. It’s very informative and you are obviously very knowledgeable in this area. You have opened my eyes to varying views on this topic with interesting and solid content.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.