পৃথিবীর আদিলগ্ন থেকেই মানুষ এই পৃথিবীকে তাদের নিজেদের মত করে পরিচালিত করে আসছে। সময়, পরিবেশ, চারপাশের ঘটে চলা প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ঘটানা প্রবাহ আমাদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছে কখন কি করতে হবে। এক অচেনা সূত্রে গাথা পরেছি আমরা সবাই। প্রতিদিনই আমরা আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক ক্রিয়া কর্মের মাধ্যমেই এই বিশাল পৃথিবীর কর্মযজ্ঞের কাজ গুলোকে বন্টন করে নিচ্ছি আমাদের যে যার সাধ্য অনুযায়ী। আমরা সবাই প্রতিটা মূহর্তে কিছু না কিছু করে চলেছি। কিন্তু আমরা যা কিছু করছি তা কি শুধু মাত্র নিজের জন্যই, নাকি এই পৃথিবীর জন্যই আমাদের এই কর্মব্যস্ততা?

p1আমার সীমাহীন ব্যাস্ততা শুধুমাত্র এই প্রতিকুল পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য

যদি চিন্তা করা হয় আমরা যা কিছু করছি তা শুধুমাত্র আমার নিজের জন্যই, আমার নিজের অস্তিত্বে টিকিয়ে রাখার জন্যই তাহলে এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ একে অপরের থেকে সতন্ত্রভাবে বিভক্ত হয়ে পরে। মানুষের সাথে মানুষের প্রতিটা সম্পর্কে মাঝে চলে আসে স্বার্থ। প্রতিটা মানুষই তখন তার নিজের স্বার্থ পূরণে ব্যস্ত। কেউ কারো জন্য সামান্যতম সাহায্য করতে রাজি নয়। এই পৃথিবীটা একটা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় যেখানে অন্যদেরকে হত্যা করে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিটা মানুষ এই পৃথিবীকে একটা প্রতিকূল পরিবেশ হিসেবে চিন্তা করবে।

ধরা যাক পাঁচশ জন যাত্রী নিয়ে একটা জাহাজ যাত্রা শুরু করল, যেখানে পাঁচজন বন্ধু ঐজাহাজে ভ্রমণ করছে। ঐ জাহাজে যদি দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে প্রায় ২০০ জন লাইফবোট ব্যবহার করতে পারবে। মধ্য পথে যদি সত্যিই জাহাজ ডুবির মত ঘটনা ঘটে তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিটা মানুষ আগে নিজেকে বাঁচানোর জন্য লাইফবোট এ যায়ার চেষ্টা করবে। ঐ পাঁচজন বন্ধুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে

  • প্রথমত তাদের মধ্যে কেউ এক জন বা একাধিক জন নিজের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিৎ করবে
  • তার পর অন্যবন্ধুদের খোঁজ করবে।
  • যখন পাঁচ জনই নিরাপদ স্থানে চলে যাবে তখন তাদের সম্ভব হলে জাহাজের অন্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করবে অথবা চেষ্টা করবে না।

p2

প্রতীকী এই ঘটনাটি উপস্থাপন করা এই জন্য, যে মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে থাকলে অধিক স্বার্থপর হয়ে ওঠে। মায়া-মমতা, ভালবাসা, মনুষত্ব এই বিষয়গুলি যা মানুষকে মানুষ বলে প্রতিষ্ঠিত করে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিকূল পরিবেশে সঠিকভাবে কাজ করে না।

p9আমাদের বাস্তব জীবনেও অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে যেখানে স্বার্থই মুখ্য, অথচ জ্ঞান বিজ্ঞানে আজ আমরাই সর্বশ্রেষ্ট। জ্ঞান বিজ্ঞানের উদ্ভব, পরীক্ষা নিরীক্ষা মানব কণ্যানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও তা আমাদের স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে অপব্যবহারই মুখ্য হয়ে উঠেছে। উঠেছে। বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ১৮৬৭ সালে ডিনামাইট আবিষ্কার  ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন পাহাড় ভাঙা, টানেল তৈরি ও খনিতে ব্যবহারের জন্য।  কারণ, সহজে ও কম খরচে ডিনামাইট দিয়ে এসব কাজ করানো যায়।অথচ আজ আমরা তা খারাপ উদ্দেশ্য সাধনেই এবং মানব জাতিকে ধ্বংশের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করছি।

আসুন আমরা আমাদের ভেতরের এই পশুত্বকে বলি দিই। এই পৃথিবীর জন্য, সমগ্র মানব জাতীর জন্য আমাদের এখনো অনেক কিছু করার আছে। আমাদের সীমাহীন ব্যাস্ততাকে শুধুমাত্র পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য সীমাবদ্ধ না করে সুন্দর আগামীর পৃথিবী গড়ার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করি। তাহলেই আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারব ।

comments

9 কমেন্টস

  1. লেখাটা ভাল হয়েছে। চালিয়ে যাও। লেখার মাধ্যমে যদি অদের আটকানো যায়!

  2. অসাধারন লিখেছেন ভাই। 🙂

    আসলে নিজেরদেরে চিন্তা শক্তিকে বা স্বভাবকে যদি আমরা নিজেরাই পরিবর্তন না করতে পারি তবে কেউ করায় দিতে পারবেনা। যে যাই বলুক স্বার্থপরতা বা বেশি আত্নকেদ্রিকতা মানুষ্যত্বকে বেশি দিন ঠিকায় রাখে না।

    ধন্যযোগ সুন্দর একটি লিখা শেয়ার করার জন্য 🙂

    • ধন্যবাদ শাওন ভাই , আমার লেখার মর্মবাণীটি আপনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। ঠিক এই কেথাটিই ছড়িয়ে দেয়া দরকার সবার মাঝে।

      • হুম। চেষ্টা করে যাচ্ছি সবসময়, কতটা সফল এখন পর্যন্ত তা জনি না। তবে, চালিয়ে যাবো যতদিন পারি। 🙂

  3. আসলেই মানব জাতি খুবই স্বার্থপর। তবে আপনি নিজে স্বার্থপরতা থেকে দূরে থাকতে চাইলেও, অন্য দশজনের কারনে সেটি সম্ভব হবে না। তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপনি স্বার্থপর হতে বাধ্য।

    • বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা, আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সীমাবদ্ধতা, আমাদের মানষিকতা আমাদেরকে স্বার্থপর হতে বাধ্য করছে। বাস্তবতার নিরিখে আপনি সঠিক কথাটিই বলেছেন। আমাদের হাতে এমন কোন জাদুর প্রদীপ নেই যার মাধ্যমে রাতারাতি এই স্বার্থপরতা কে সমাজ থেকে উঠিয়ে দেয়া যাবে কিন্তু আমরা নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য চেষ্টাত করে দেখতে পারি। ধন্যবাদ ইমতিয়াজ ভাই……………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.