আপনি কতবার নিজেকে বলেছেন, যা বলতে চেয়েছি তা আমি বলে বুঝাতে পারিনি। একটা কথা বলতে গিয়ে অন্যের কাছে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ হয়ে গেছে যা সত্যি নয়। কিংবা বলার ধরনটা যেরকম হওয়া দরকার ছিল সেরকম হয়নি। আমাদের সাথে এরকম হরহামেশাই হচ্ছে। এবং কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে পারেনই না। তারা তাদের চিন্তাগুলো অন্যের কাছে তুলে ধরতে ভয় পান। তারা তাদের অনুভূতি লুকিয়ে রাখেন এবং যে কোন পরিবেশ তাদের দূর্বোধ্য ঠেকে। যারা এরকম তারা শুনুন, আপনাদের কাছে জীবন মানেই যুদ্ধ। তাই জীবনটাকে সহজ করতে হলে নিজেকে ব্যক্ত করা শিখতে হবে। এটা এমনকিছু না যে জয় করা যাবে না।

2010-10-20_190541

যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা:

পৃথিবীতে যতধরনের জীব আছে সব কিছু কোন না কোন ভাবে স্বজাতির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। মানুষের কথা চিন্তা করুন। আমরা দিনের মধ্যে নানা ধরনের মানুষের সাথে যোগাযোগ করি। একটু চিন্তা করুন। দুইটি জিনিস এখানে জানা দরকার। এক, যোগাযোগ। দুই, মানুষের সাথে সম্পর্ক। মানে এটাই আপনের অফিসের বসের সাথে যেভাবে যোগাযোগ বা কথা বলবেন, বাজারে গিয়ে মাছওয়ালার সাথে সেভাবে কথা বলবেন না নিশ্চয়।
একজন মানুষ অন্যের মানুষের সাথে যার দ্বারা যোগাযোগ করে তা জটিল বলতে হবে। আমাদের অনেক রকম পথ আছে যার মাধ্যমে আমরা আমদের ভাবনা, অনুভূতি, স্বপ্ন, পরামর্শ, ভালবাসা ইত্যাদি প্রকাশ করতে পারি। দুইটা শব্দগুচ্ছগুলোকে ধরা যাক। বড় আর ছোট। বড় বলতে কি বুঝ? ছোট না। তাহলে ছোট কি? বড় না। আসলে আমরা কিভাবে তুলনা করছি তার উপর নির্ভর করছে। পিঁপড়া আর হাতির মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে যেভাবে বলব অবশ্যি প্রজাপতি আর হাতির তুলনা সেভাবে আমরা ব্যক্ত করি না। তাই নিজেকে ব্যক্ত করা শিখতে হবে। নিজের অনুভূতি, স্বপ্ন অন্যের কাছে শেয়ার করা শিখতে হবে। দেখা যাচ্ছে শুধু নিজেকে ব্যক্ত করার অক্ষমতার কারনে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নিজেকে ব্যক্ত করতে না পারার অপকারিতা:
১। যদি আপনার কাছে মানুষভীতি থাকে তবে মানুষ আপনাকে এড়িয়ে যাবে। আপনি মানুষকে এড়িয়ে চললে মানুষ আপনাকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগ পাবে। আপনাকে অন্য মানুষ থেকে আলাদা করে রাখবে এবং আপনার সাথে সে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী হবে না। তখন আপনার মনে হবে, দুনিয়ার একটা মানুষও আপনাকে পছন্দ করে না।
২। যদি আপনি নিজেকে ব্যক্ত করতে না শিখেন তাহলে মানুষ আপনাকে তাদের সমকক্ষ মনে করবে না। অন্যের কাছাকাছি আসতে বা মিশতে আপনার অনেক কষ্ট হবে। সম্পর্কগুলো হবে খুবই ঠুনকো।
৩। বেঁচে থাকতে গিয়ে একসময় মানুষের সাহায্যের দরকার হয়ই। যদি নিজেকে ব্যক্তই না করতে পারেন তবে অন্যের কাছ থেকে সাহায্য কিভাবে আশা করেন। ফলে আপনার মনে আসবে হতাশা আর রাগ।
৪। স্বাভাবিক ভাবেই আপনি একঘরে হয়ে পড়বেন। আপনি নিজেই সেই দেয়াল বানিয়ে রাখবেন অন্যের সামনে। আপনার জীবন হবে শূন্য।
নিজেকে ব্যক্ত করার কৌশল

প্রচুর পড়ুন:
জ্ঞানী লোকে বলে, সব পাঠক নেতা না, কিন্তু সব নেতাই পাঠক।
আপনি যদি নেতা হতে চান তবে পড়ুন। মানুষ কিভাবে নিজেকে প্রকাশ করে তা লক্ষ্য করুন। তাদের ব্যবহার, শব্দের ব্যবহার, কণ্ঠস্বর ইত্যাদি বুঝার চেষ্টা করুন। এগুলো আপনাকে নতুন পদ্ধতি বাতলে দিবে। যেগুলো শব্দ আপনার কাছে নতুন সেগুলো নিয়ে আলাদাভাবে স্টাডি করুন। এমনও হতে পারে সেই শব্দ দিয়ে আপনি আরো সহজে নিজেকে প্রকাশ করতে পারছেন।

নিজের সম্পর্কে লিখুন:
গল্প লিখুন। কিংবা চিঠি, ডায়েরী। আপনি যাই লিখুন না কেন আপনি আপনার চিন্তাধারাকে কাজে লাগাবেন। যা আপনার চিন্তাধারাকে গঠনমূলক করবে।
মানুষের বিচারকে ভয় পাবেন না
মানুষ আপনাকে নিয়ে কি ভাবে তা নিয়া দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। ভয় কাটানোর জন্যে তাদের বিভিন্ন কারনে সাহায্য চান। বলুন, আসলে আপনাকে আমি একটি কথা বলতে চাই, মনে হয় আপনি আমাকে সাহায্য করতে পারবেন।

হতাশা আসলে চিঠি লিখুন:
ধরেন আপনি একজনের উপর খুবই রাগান্বিত। তাকে একটা জঘন্য ভাষায় একটা চিঠি লিখুন কিন্তু তাদেরকে তা দেখাবেন না। ঘুমিয়ে সকালবেলা চিঠিটা পড়ুন। দেখবেন আপনার মনোভাব এবং ব্যবহার সে সময় থেকে অনেক পালটে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আপনি তা কিছুতেই পাঠাবেন না।
তবে অনেক সময় চিঠি দিয়ে যে কথাগুলো বলা সম্ভব তা মুখে সম্ভব না। তাই মার্জিত ভাষায় চিঠি পাঠিয়ে দিন। প্রকাশ করে ফেলুন আপনি কি বলতে চান।

বক্তব্য প্রকাশের পরিপক্বতা:
অন্যকে যদি আপনি সম্মান না করেন তবে মানুষ কেন আপনাকে সম্মান করবে। নিজেকে ব্যক্ত করার সময় এই জিনিস গুলো মাথায় এনে পরিপক্বতার ছাপ কথার মধ্যে থাকতে হবে। আপনি যদি পিছনে অন্যের নামে কথা বলেন তবে অন্যরাও তাই করবে। তাই বক্তব্য প্রকাশের পরিপক্বতা হচ্ছে চিন্তাধারা, মনোযোগ এবং ইচ্ছার পরিপক্বতা।

comments

13 কমেন্টস

  1. নিজেকে প্রকাশ করতে না পারা বা সবার সাথে মিশতে না পারাটা একটি বড় ধরনের সমস্যা। এটি নিয়ে অতীতে ভুগেছি এবং এখনো ভুগছি। মূল সমস্যা হলো চাইলেই এটি পরিবর্তন করা যায় না। অন্তত আমি পারিনি এখনো 🙁

  2. নবাম দশম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় এরকম অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। নিজের উল্ট পাল্টা কথা পরবর্তিতে আমাকে ব্যাপক কষ্ট দিতো। ভাবতাম যে এই কথাটা যদি না বলে উই কতাটা বলতাম তবে কতই না ভাল হতো। পোষ্টটা ভাল হয়েছে ।

  3. খুব দরকারী কথা লিখেছেন। ধন্যবাদ।

  4. আমি আমার প্রাইভেসি মেইনটেইন করতে পছন্দ করি। যার কারনে আমি আমার কাছের বন্ধুর কাছেও ব্যাক্তিগত দুঃখগুলো শেয়ার করতে পারি না। মনে হয়, সে আমাকে হয় তো বুঝতে পারবে না। অথচ তারা তাদের গোপন ব্যাপারগুলো আমার সাথে নিঃসংকোচে শেয়ার করে। আমার এই অভ্যাসের কারনে আমি আমার অনেক কাছের বন্ধু দের হারিয়েছি।

    তাই লেখকের পোস্টটি পড়ে আজ বেশ ভাল লাগল। চেস্টা করছি নিজেকে বদলে ফেলতে।

  5. অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ । খুবই ভালো লেগেছে ।

  6. কেমন যেনো একা একা লাগে। কেনো জানিনা মনে হয়, আমাকে কেউ বুঝতে পারে না, সারাজীবনই সেরকম দেখি। হয়ত আমার উপস্থাপন প্রক্রিয়া টা খুবি দুর্বল… যাইহোক এতা আমার কাসে রকম সয়ে গেছে…

    ধন্যবাদ পস্টটির জন্য………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.