আমি নিজে খুব কম জানা মানুষ। আর আমি অনেক সময় অনেককে সরাসরি কোন বেপারে উপদেশ দিতে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। অনলাইনে অনেকেই এরকমভাবে কোন কোন বেপারে উপদেশ দেয় এবং অন্য পাঠকেরা বিশেষ করে নিরব পাঠকেরা তার অনেক অংশই মাথা নিচু করে মেনে নেয়। আর সেটাকে নিজের কাজে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশষত: টিউটরিয়াল সাইটগুলো থেকে অনেকেই হুবুহু দেখে কাজটি করতে যান। অথবা নিজে অন্য একটি কাজ থেকে আইডিয়া নিয়ে নিজে কিছু পরিবর্তন করে কাজটি সমাধান করে। আমি নিজেও অনেক সময় এরকম অনেকগুলো কাজ করেছি এবং আমি দেখেছি এরকম আনেকেই করছে। আমি এটাকে খারাপ বলছি না। তার পরেও প্রত্যেকের একটি আলা আলাদা কাজের ধরণ তৈরী হয়। ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকা প্রতিটি মানুষই নিজের কোন সমস্যাটাকে সমাধানের জন্য সার্চ দেয় এবং একটা সমাধান হয়, যার একটি সার্বজনিনতা আছে। এর আগেও নিজের সৃষ্টিশীলতা ও নতুন প্রযুক্তির বেপারে কথা বলেছি। আর আজ নিজস্ব কিছু চেতনার কাজের কথাও বলবো।

বর্তমান অবস্থা:

একটা সময় আমি কিছু কিছু ছবি আঁকার চেষ্টা করেছিলাম। তখন ইন্টারনেটের সাথে পরিচয় ছিল না। নদীর কিনারায় গিয়ে কোন একটি ছবি আঁকতে চেষ্টা করলে দেখতে পেতাম এরকম অনেক ছবিই আঁকা হয়েছে যার মধ্যে আমার ছবটি সবচেয়ে খারাপ। এক সময় আমি একটু ভিন্নভাবে একটা কাজ করলাম। অনেকগুলো সাদা ও লালচে বাদামী ডিমের খোসা জোগার করলাম। একটি কাঠের উপরে ডিমের খোসাগুলোকে ছোট ছোট টুকরা করে আঠা দিয়ে এমনভাবে বসিয়ে দিলাম যে সাদা আংশ একটি উরন্ত দোয়েল আর লালচে বাদামী খোসাগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে থাকলো।

ছবিটি অনেকেরই ভাল লেগেছে। টানা দুই বছর ডিমের খোসার ছবিটি আমার ঘরের দেয়ালে টনানানো ছিল।দেয়ালে টানানো অন্যান্য ছবিগুলো থেকে আমার ছবিটি কোন আংশে নিন্ম মানের ছিল না। যদিও এটি অনেককের অনেক শিল্পকর্ম থেকে অনেক নিন্ম মানের। এ কথাটা বলা কারন আমি নিজের চিন্তা থেকে এই কাজটি করেছিলাম। এখন নিজে কোন কিছু চিন্তাই করতে পারি না। আর সেই কাজটি করে যতটা আত্নতৃপ্তি পেয়েছিলাম অন্য কোন কাজে তা পাই নি।

বর্তমান ডিজিটাল আর্টিষ্ট, গ্রাফিক ডিজাইনার বা ওয়েব ডিজাইনার অথবা অন্য সব প্রযুক্তি সম্পৃক্ত কাজগুলোর দিকে একটু ভাল করে তাকালে আমরা বেশিভাগই অন্যের অনুকরণে করা দেখতে পাই। আর যে বিষয়টির সর্বাধিক অনুকরণ করা হচ্ছে সেই জিনিসটি জন্ম যিনি দিয়েছেন তিনি (অধিকাংশ সময়েই) নিজস্ব চিন্তা থেকে কাজটি করেছিলেন।

কয়েকটি উদাহরণ:

লিউনার্দো দা ভিঞ্চি:

লিউনার্দো দা ভিঞ্চি ছিলেন একটি বিপ্লব। তার আগে মানুষ ছবি অংকনের বেপারে কল্পনা শক্তির এরূপ ব্যবহার করেন নি। তিনি নিজে গনিতে বেপারে দক্ষ ছিলেন ও তিনি একজন লেখকও ছিলেন। কিন্তু তার চিত্র কলাই তাকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে তুলেছে। তার কাজটি আমাদের কাছে শিক্ষনীয় একটি উদাহরণ।

নিজের নিজস্বতা ও তার কিছু উদাহরনও

ছবি সূত্র: বামে-লিউনার্দো দা ভিঞ্চি, ডানে-তার আঁকা সেরা ছবি মোনালিসা

(এখন কথা হলো আমরা অনেক সময় অনেক কিছুই শুরু করি না। কারন আমরা প্রথমেই মনে করি এটা আমার দ্বারা হবে না। ধরুন আপনাকে বললাম নিজে থেকে একটি ছবি আঁকুন। আপনি হয়তো বলবেন আমি এ বেপারে কিছুই পারবো না অথবা আপনি অন্যের কয়েকটা ছবি আঁকা দেখে ছবি আকঁতে চেষ্টা করবেন অথবা বলবেন আমি চিত্রকলায় পড়ি নি তাই আমার দ্বারা তা হবে না। কিন্তু অনেককেই দেখেছি যারা প্রথমে জানতো না যে তারা এত দূর আসতে পারবে। অথচ তারা অনেক এগিয়ে গেছে।)

এম.সি. ইসচার (M. C. Escher)

তিনিও হতে পারেন আরো একটি উদাহরণ যার কল্পনাশক্তি ও ছবিগুলো অন্য কারো সাথে মিলে নি। আপনি তার আকাঁ ছবিগুলো এখনো দেখলে অবাক হবেন এবং বলবেন এরকম চিন্তা আপনি কখনোই করেন নি।

ছবি সূত্র

আর এরকম উদাহরণ আবার কত শত বছর পর মিলে তা কে জানে?

শেষের কথা:

এরকম হাজারো উদাহরন আছে যার অবদানে সভ্যতা আজ এত দূর এগিয়েছে। এখানে শুধু চিত্রকরার উদাহণ টানা হলো। বর্তমান ওয়েবের চেহারা ও যোগাযোগের পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য মাত্র আট/দশটি নিজস্ব চিন্তার ওয়েবসাইটই ভূমিকা রেখেছে। আরেকটা কথা বলা দরকার তা হলো- অন্যের কাজ আনুসরণ করা যাবে না- তা নয়। তবে অন্যের কাজের ধারা দেখে নিজের কাজটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিৎ নয়।

বেশ কয়েকদিন ধরে লেখার গতি একটু কমে গেছে। লেখাটি কেম হলো জানাবেন। ভাল থাকুন, সূস্থ থাকুন

(লেখাটি Kyle Steed এর একটি লেখা থেকে অনুদিত ও নিজের মতো করে সম্পাদিত )

comments

3 কমেন্টস

  1. “এরকম হাজারো উদাহরন আছে যার অবদানে সভ্যতা আজ এত দূর এগিয়েছে। এখানে শুধু চিত্রকরার উদাহণ টানা হলো। বর্তমান ওয়েবের চেহারা ও যোগাযোগের পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য মাত্র আট/দশটি নিজস্ব চিন্তার ওয়েবসাইটই ভূমিকা রেখেছে। আরেকটা কথা বলা দরকার তা হলো- অন্যের কাজ আনুসরণ করা যাবে না- তা নয়। তবে অন্যের কাজের ধারা দেখে নিজের কাজটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিৎ নয়”
    কথাগুলো বেশ ভাল লাগল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.