কেউ কেউ হয়ত ভাবতে পারেন নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান হয়ত বিজ্ঞানীরা সাগরের অতলে কিংবা গহীন অরণ্যে করেন কিংবা খুঁজেও পান। কবির ভাষায় বলতে হয়, “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া”- ঠিক এমনটিই ঘটেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাথে।

তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে মাত্র কয়েক মিটারের মাঝেই পেয়েছেন সম্পূর্ন নতুন একটি পিঁপড়ের প্রজাতি। এই নতুন সোনালী গেছো পিঁপড়ে লুং ফু শান নামক একটি পার্কের ছোট একটি ঢিবিতে পাওয়া যায়। এটিকে এশিয়ান পিঁপড়ে বিষয়ক একটি জার্নালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৭ মিলিমিটার আকৃতির এই পিঁপড়ের সারা শরীরে সোনালী ছোপ গবেষক ডক্টর লুও ইংকে আকৃষ্ট করেছে। যার কারণে তিনি এই পিঁপড়ে নিয়ে আরো গবেষণা করতে আগ্রহী। তাছাড়া অন্যান্য সাধারণ পিঁপড়ে থেকে এই প্রজাতি অস্বাভাবিকভাবে লম্বা। প্রজাতিটিকে গবেষণাগারে নিয়ে যাবার পর দেখা যায় যে এটি খুবই অসাধারণ একটি প্রজাতি। এটি পারাটোপুলা প্রজাতির পিপড়েদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটি একদম প্রথম দিককার প্রজাতির পিঁপড়েদের বংশধর। বিজ্ঞানের নতুন একটি প্রজাতি আবির্ভাবের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এই পিঁপড়ে।

অনেক খুঁজবার পরেও এই পিঁপড়েটি শুধুমাত্র লুং ফু শান পার্কেই পাওয়া গিয়েছে।

নতুন প্রাপ্ত এই পিঁপড়েটির বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয়েছে পারাটোপুলা বাউহিনিয়া। বাউহিনিয়া একটি ফুলের নাম যা হংকংএর প্রতিনিধিত্ব করে।

গবেষণায় চমকপ্রদ যে তথ্যটি পাওয়া গিয়েছে তা হল এটি শুধুমাত্র গাছে অবস্থান করে এবং খাবার কিংবা অন্যান্য কোন প্রয়োজনে এটি সূর্য ডুবে যাবার পর কিংবা রাতে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা এটিকে নিয়ে আরো গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। তারা আশা করছেন আরো চমকপ্রদ কিছু তথ্য বের হয়ে আসবে। আমরাও সে আশাতেই রইলাম!

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.