ফোরজি লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তুতি চলছে এই বছরেই

বহুল আলোচিত চতুর্থ প্রজন্মের ফোরজি প্রযুক্তি (এলটিই) সেবা আগামী মার্চ মাসে চালু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে গিয়ে এ ব্যাপারে সত্ত্বর পদক্ষেপ নিতে বলার পরই অপারেটরগুলোকে ফোরজি লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।এই সেবা চালু করার জন্য একই মাসে বেতার তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা বা টেকনিউট্রালিটি সুবিধা প্রদান করা হবে।এর জন্য অপারেটরগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ নতুন লাইসেন্স ফি এবং টেকনিউট্রালিটির চার্জ নেয়া হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে সংশোধন করা হচ্ছে স্পেকট্রাম গাইড লাইন।

উল্লেখ্য, অপারেটরগুলো এখন একেক ধরনের সার্ভিস একেকটা ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। টেকনিউট্রালিটি সুবিধা চালু হলে যেকোনো সার্ভিস যেকোনো স্পেকট্রাম থেকে দেয়া যাবে।
বর্তমানে থ্রিজি সার্ভিস দেয়া হচ্ছে শুধুমাত্র ২১০০ ব্যান্ডে আর ৯০০ ও ১৮০০ ব্যান্ডের মাধ্যামে দেয়া হচ্ছে টুজি সার্ভিস। ফোরজি দেয়ার কথা ছিল ৭০০ ব্যান্ডে। স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা দেয়া হলে আর ব্যান্ড স্পেসিফিকেশন প্রয়োজন হবে না।তবে এর জন্য স্পেকট্রাম নীতিমালা সংশোধন করা হবে।কারণ আগে নীতিমালায় টেকনিউট্রালিটির সুবিধা ছিল না। টেকনিউট্রালিটি সুবিধা প্রদান করার পর স্পেকট্রামে ভ্যালু বেড়ে যাবে।আর ৭০০ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম দাম নিয়ে নির্ধারণে কাজ করছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।বতর্মানে প্রতি মেগাহার্টজ টুজি এবং থ্রিজি স্পেকট্রামের মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

Joy

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এর ফলে দ্রুত দেশের মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরো সহজ ও মসৃণ হবে।এতে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, দ্রুত ফোরজি সেবা চালু করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সেবা চালু করার জন্য আগামী মার্চে ফোরজির লাইসেন্স দেয়ার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিটিআরসি ৭০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম আয়োজনের পাশাপাশি ৯০০/১৮০০ এবং ২১০০ ব্যান্ডের নিলাম আয়োজন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।তিনি বলেন, গ্রাহকদের দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি উন্নতমানের সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য মোবাইল অপারেটরদের টেকনিউট্রালিটি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন,দেশে থ্রিজি সুবিধা চালু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রযুক্তিপ্রেমীদের ফোরজি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ।তাই এই সেবা পেতে গ্রাহকদের বেশি দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।তারানা হালিম বলেন, টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে গ্রাহকদের নানারকম বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা শোনা গেছে। সেগুলো আমলে নিয়ে ২০১৭ সালকে সহজ, মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বিটিআরসিকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে ৫টি মোবাইল অপারেটরকে ৩৫ মেগাহার্টজ থ্রিজি তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়ার পর এখনো ১৫ মেগাহার্টজ এবং টুজি ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের থ্রিজি লাইসেন্স পাওয়ার পর নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে কয়েক গুণ। এর ফলে টেলিযোগাযোগ বিভাগ আবারো নিলামের মাধ্যমে অব্যবহৃত তরঙ্গ বিক্রি করার উদ্যোগ নেয়।
কার কাছে কত স্পেকট্রাম: রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকসহ বর্তমানে দেশে ৬টি মোবাইল কোম্পানি আছে। এর মধ্যে সিটিসেল একমাত্র সিডিএমএ (কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাকি পাঁচটি জিএসএম (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল) প্রযুক্তিনির্ভর। ছয় অপারেটরের মধ্যে থ্রিজি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ৪টি। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল। তবে টেলিটকও থ্রিজি সেবা প্রদান করছে।
ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (বিডব্লিউএ) লাইসেন্সধারী কোম্পানি তিনটি। এরা হলো- বাংলালায়ন, কিউবি ও ওলো।
এর মধ্যে টেলিটকের রয়েছে ২৫ দশমিক ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। যার মধ্যে ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড (টুজি) এ ৫ দশমিক ২০ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের (টুজি) ১০ মেগাহার্টজ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের (থ্রিজি) ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করছে অপারেটরটি।
দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোন ৩২ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহার করে গ্রাহক সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১৪ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করছে।

মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রবি আর ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে এয়ারটেল একীভূতকরণ হওয়ার ফলে তাদের কাছে স্পেকট্রাম রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ।
সিটিসেলের অনুকূলে ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও কোম্পানিটি দাবি করে তারা সর্বোচ্চ সাড়ে আট মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে।
বিডব্লিউএ লাইসেন্সের আওতায় কিউবি ২৩০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৩৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ও বাংলা লায়ন ২৫০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৩৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করে। অন্য অপারেটরওলো ৮০০ ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্টজ, ৩৫০০ ও ২৪০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ রয়েছে ওলোর কাছে। এ ছাড়া এ তিন অপারেটর ২৬০০ ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে।

তথ্যসূত্রঃমানবকন্ঠ

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.