হতাশা ঝেড়ে বদলে ফেলুন নিজেকে

আত্মহত্যা। বদলে দিতে পারে একটি পরিবারকে। বদলে দিতে পারে কিছু মানুষের আজন্ম লালিত স্বপ্নকে।যে বাবা তার সন্তানকে নিয়ে নানা স্বপ্নের বীজ বুনে চলেছেন, একদিন হয়ত তার আদরের সন্তানটিই অজানা কোন কারণে নিজের হাতেই নিজের জীবনটি শেষ করে দিল। কান্নার মাতম কি আর ফিরিয়ে আনতে পারে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের? পারে না। তবে মানুষগুলো যাতে না হারিয়ে যায়, সে চেষ্টা আমরা অবশ্যই করতে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালের প্রায় ৪০০০০ মানুষের অপঘাতে মৃত্যুর কারণ ছিল আত্মহত্যা। গত ১০ বছরে এই হারটি বেড়েছে ২০ শতাংশেরও অধিক। প্রতিটি আত্মহত্যার পেছনে প্রায় ২৫ বারের মত চেষ্টা রয়েছে! কি ভয়ানক শুধু চিন্তা করে দেখুন। এই তথ্যের ফলে কেবলমাত্র একটি জিনিসই আঁচ করা যায়। তা হচ্ছে চিকিৎসকদের দেয়া নানা পথ্য কাজ করছে না কিংবা তাদের দেয়া থেরাপি রোগীরা আর কোন কারণে গ্রহণ করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ আত্মহত্যার কারণ ঘটে থাকে হতাশার জন্য। কিন্তু এর পেছনেও কি আরো কোন কারণ রয়েছে? উত্তরটি দিয়েছেন মিসিসিপি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট মাইকেল নাডরফ। তিনি বলেন,

“আমরা প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় কেউ কেউ নানা ধরণের দুঃস্বপ্ন দেখে থাকি যা জাগ্রত অবস্থাতেও আমাদের তাড়া করে ফেরে। সকল সাইকিয়াট্রিস্টরাই তাদের রোগীকে নানা ধরণের সাজেশন দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেউ তাদের প্রশ্ন করে না যে রাতে ঘুমানোর সময় কোন দুঃস্বপ্ন তারা অহরহই দেখে থাকে কি না?”

গত পাঁচ বছরেরও অধিক গবেষণায় মাইকেল দেখেছেন যে আত্মহত্যার ঘটনায় দুঃস্বপ্ন দেখার হার অনেক বেশি ছিল রোগীরা তাদের পরিবারের লোকদের কাছে এসব ঘটনা বলত কিংবা ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখে রাখত। কেউ তাদের কথায় বিশ্বাস করত, কেউ করত না। এর থেকে এক ধরণের হতাশা তৈরি হয়ে যায় এবং তাকে নিজের অজান্তেই আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করতে থাকে।

বিজ্ঞানের মতে আত্মহত্যার ঘটনা তিনটি উপাদানের ওপর নির্ভর করে থাকে। ১) আত্মহত্যার চিন্তা, ২) আত্মহত্যামূলক নানা ব্যবহার, ৩)একটি চিন্তাধারা যেখানে ব্যক্তি ভেবে থাকেন যে তার মৃত্যু হবে আত্মহত্যার মাধ্যমে। ২০১১ সালের দিকে নারডফ এমন কিছু ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে গবেষণা করেন যারা এই তিন তালিকার অন্তর্ভূক্ত। তিনি দেখতে চান যে হতাশা, চাপ কিংবা দুঃস্বপ্ন এই তিনটির সাথে কোন যোগসূত্র আছে কি না। বিস্ময়ের সাথে তিনি লক্ষ্য করেন যে, তারা সকলেই প্রায় একই কথা বলছে। সারাদিন তাদের সাথে যে বাজে অভিজ্ঞতাগুলো হয়ে থাকে, তা ধরা দেয় রাতের দুঃস্বপ্নের মাঝে। এর ফলে তারা প্ররোচিত হয় আত্মহত্যার দিকে।

তিনি বলেন যে, একজন ব্যক্তি যখন সাইকিয়াট্রিস্ট বা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যায় তখন তাকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এই কাজটি করা হয় সে কোন ধরণের ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা বোঝার জন্য। কিন্তু কেউ রোগীকে প্রশ্ন করে না যে সে রাতে কি ধরণের স্বপ্ন দেখে থাকে। এই বিষয়টি কোন কোন সময় রোগীও এড়িয়ে যায় কিন্তু এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হাসিখুশি থাকা কিংবা নিজের মাঝে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা রোধ করতে পারে আত্মহত্যা। মাইকেলের মতে, একজন রোগীর অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসা সমাপ্ত হবে যখন তার ডাক্তার তাকে দুঃস্বপ্ন দেখা থেকে রোধ করতে পারবেন।

সূত্রঃ সায়েন্টিফিক আমেরিকান

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.