বেশ কিছু ঝামেলা থেকে বাঁচা ও কাজের দিকে নিজের ও নিজের টিমটিকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এক ঘেয়ে কাজ করে যাওয়া ও নিজেদের উন্নয়ন না হওয়ার ধারনা থেকে টিম মেম্বাররা কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলতে পারে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষানবীশকালীন সময়ে কাজের ক্ষেত্রে অধিক সচেতনা দেখা যায় আবার টারগেট ভিত্তিক কাজেও গতিময়তা লক্ষনীয়। কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে কি কি করা যেতে পারে?

তথ্য প্রযুক্তির কর্মক্ষেত্র (পর্ব-দুই): কাজের গতি ফিরিয়ে আনা

অফিসের কাজের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় জেনে নিন

১. যোগাযোগ রক্ষা করা

কাজের ক্ষেত্রে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার টিমের সাথে সরাসরি যোগাযোগটা বাড়িয়ে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে বেশি কাজ হয়। যোগাযোগের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
ক. একসাথে খাওয়া দাওয়া / চা চক্র: একসাথে শুধু চা চক্রের আয়োজন করলে নিজেদের মধ্যে বেশ ভাল একটি যোগাযোগ মাধ্যম তৈরী হতে পারে।
খ. মাসিক নিউজলেটার: তথ্য প্রযুক্তির প্রতিটি কাজের প্রতিবেদনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারন প্রতিটি কাজে নতুন নতুন বিষয় শিখা হয়। পরবর্তিদের জন্য এগুলো কাজে লাগে। তাই মাসিক নিউজলেটার ছাপিয়ে কাজের ধারাবাহিক বিবরণ সহ নিউজলেটার প্রকাশ করতে পারেন।
গ. ম্যানেজমেন্টকে নিজেদের সফলতার কথা জানানো: আপনার টিম অনেক ভাল ভাল কাজ করছে অথচ টপ ম্যানেজমেন্ট সেটা জানে না -তা হতে পারবে না। নিজেদের এচিভমেন্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। আধিকাংশ সময়ই উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমস্যাসমুহ নিয়ে কাজ করে । নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে সফলতা ও সমস্যা উভই জানিয়ে

তথ্য প্রযুক্তির কর্মক্ষেত্র (পর্ব-দুই): কাজের গতি ফিরিয়ে আনা

দিন।
ঘ. ট্রেনিংএর ব্যবস্থা করা:
নিজের টিমের লোকদের একটিভ করে গড়ে তুলতে ট্রেনিং এর বিকল্প নেই। কাজের মাঝে অনেক সময়ই ট্রেনিং করারা সুযোগ হয় না। কিন্তু ট্রেনিং একটি কাজের অংশ হিসেবে নিয়ে নিজের টিমকে ট্রেনিং করান । অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।
ঙ. মিটিং: নিয়মিত মিটিং করে নিজেদের কাজের সমস্যা ও তার সমুহ সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। শুধু নিজের কথাটাকে চাপিয়ে না দিয়ে টিমের সদস্যদের কথা শুনুন।

২. মূল্যায়ন করা

ভাল কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। যে দেশে গুণির মর্যাদা নেই সে দেশে গুণি লোক জন্মাতে পারে না। বিভিন্ন ভাবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। ভাল কাজের প্রশংসা করা উচিৎ। প্রয়োজনে বেতন বৃদ্ধি ও প্রমোশন দেওয়া যেতে পারে।

৩. পজিটিভ চিন্তা

ঘরোয়া পরিবেশে বড় হওয়া অধিকাংশ ওযয়েব ডিজাইনার বিভিন্ন বাজে আইডিয়া শুনে অভ্যস্ত বেশি। অনেক সময় নিজের কাজের ক্ষেত্রে কেউ কেউ এমন কিছু পরামর্শ দিতে পারে যা আসলেই অপকরী। সেই বেপারগুলো একটু ভালভাবে দেখতে হবে। তবে প্রতিটি জিনিসের আলোচনাটা পজিটিভলি শুরু করতে পারেন। প্রথমেই কারো আইডিয়াকে ভুল বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

৪. শিক্ষাগ্রহণ

নিজের মানউন্নয়নের চেষ্টায় রত থাকতে হবে সবসময়। নিজের মান উন্নয়ন না করলে একটি টিম পরিচালনা করা কঠিন কাজ হয়ে যাবে।

৫. অফিস রাজনীতি থেকে দূরে থাকা

তথ্য প্রযুক্তির কর্মক্ষেত্র (পর্ব-দুই): কাজের গতি ফিরিয়ে আনা
বড় পরিসরের কর্ম ক্ষেত্রে আফিস রাজনীতি বেশি দেখা যায়। আসলে কেউই সম্পূর্ণভাবে আফিস রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারে না। কারন প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তা ও আদর্শ দিয়ে বিভিন্ন বিষয় দেখে। অফিস রাজনীতি অনেক সময়ই অনেকের মধ্যেকার সু-সম্পর্ক নষ্টের কারন হতে পারে। ক্রিয়েটিভ লোকদের এসব ঝামেলা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

আমার অন্যান্য লেখা


comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.