বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’র (বিসিএস) উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে হাই-টেক পার্কের ভূমিকা : প্রেক্ষিত যশোর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা সম্প্রতি যশোরের সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সভাকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিসিএস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে  প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি যশোর শাখা এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগম। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলী আশফাক এই সভার সভাপতিত্ব করেন।

সভার শুরুতে আলী আশফাক বিসিএসের কর্মকান্ড বর্ণনা করেন।তিনি বলেন, প্রথম থেকেই বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিসিএস কাজ করে আসছে।  ডিজিটাল বাংলাদেশের সফলতায় বিসিএস সবসময় সরকারের সাথেই রয়েছে। সারাদেশে তথ্য প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, সফটওয়্যার খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াসহ কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠন। সরকারের ‘ভিষণ ২০২১‘ কে বাস্তবায়ন করতে বিসিএস উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা প্রদান করে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কম্পিউটার  ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ ঘটাতেও প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি।

তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে হাই-টেক পার্কের গুরুত্ব অপরিসীম। আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হাই-টেক পার্ক আমাদের অবকাঠামোর দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। পরিপূর্ণ ভাবে যশোর হাই-টেক পার্কের যাত্রা শুরু হবে শিগগিরিই। দেশের প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এই হাইটেক পার্ক হবে নতুন মাইলফলক।

বিসিএস’র সভাপতির বক্তব্যের সুত্র ধরে  হাই-টেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগম হাই-টেক পার্ক প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সম্ভাবনা ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জানান, তরুণ প্রজন্মকে তথ্য প্রযুক্তির আওতায় এনে কর্মমুখী করার উদ্দেশ্য নিয়ে হাই-টেক পার্কের সৃষ্টি। এ প্রকল্পে ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে অনুপম সম্মান।বিগত বছরগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পুরস্কার  পেয়েছে বাংলাদেশ।তথ্যপ্রযুক্তি খাতে টেকসই উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৫ সালে ‘আইসিটি সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেন। এভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনার দিকে। যশোর ই একমাত্র জেলা যে জেলাকে ডিজিটাল হিসেবে ঘোষণা করেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী।তাই হাই-টেক পার্কের মাধ্যমে যশোরের তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট যে কোন ধরনের সহযোগিতার জন্য আশ্বাস দিচ্ছে হাই-টেক পার্ক অথরিটি।

এ সময় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যশোর শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ডিজিটাল যশোর নির্মানে যদি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সকল সদস্য ও যশোরের সকল আইটি ব্যবসায়ীদের কোন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তাহলে তারা সবধরনের সহযোগিতা করবেন । এর আগে সকালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগম এর সাথে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক’, যশোর পরিদর্শন করেন

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতীম দেবনাথ রতি , সাবেক চেয়ারম্যান সঞ্জয় সাহা, বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ শেখ আহসান-উল হক, সমিতির পরিচালক ফারুক জাহাঙ্গির আলী টিপু ও রোকন উদ্দিন পান্না সহ যশোরের সকল কম্পিউটার ব্যবসায়ীবৃন্দ।

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.