আদিকাল থেকে ভূমি মানুষের প্রধান সম্বল বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। খাদ্যের নিশ্চয়তার পরপরই মানুষ নিজের সম্পত্তির (জমি) দিকে মনোযোগী হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত ভূমির সঙ্গে মানুষের শিকড়ের টান জড়িয়ে আছে। তবে, ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রাচীন কালের মতোই জটিল থেকে গেছে। এটা আবার যতটা না জটিল তার চেয়ে ভূমি বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীর দুর্নীতি ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে রেখেছে। তবে, আশার কথা হলো বতর্মান সরকার ও ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সহজ, জনবান্ধব করার জন্য আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে বদ্ধ পরিকর। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়নে ডিজিটাল ভূমি প্রশাসন অত্যাবশ্যক । সার্বিক এই অনুকূল পরিবেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে কোডেক্স সফটওয়ার সলিউশন লিমিটেড। ‘জনগণের আঙ্গুলের গোঁড়ায় সেবা’ শীর্ষক স্লোগানে কাজ করে যাচ্ছে তারা। অর্থাৎ আঙ্গুলের মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস ক্লিক করলেই পাওয়া যাচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা সেবা।ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিনা পারভীন বলেন, বিদ্যমান সিস্টেম ও আইন-কানুনকে অক্ষত রেখেই আধুনিক সেবা প্রদানের পদ্ধতির প্রযোজ্য অংশে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন পদ্ধতি অবলম্বন করছি। সব প্রক্রিয়া এখন খুব সহজে হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যে কেউ অনলাইনে আবেদন করতে পারছে। আবেদন গ্রহীত হলে আবেদনকারীর মোবাইলে মেসেজ যাচ্ছে। ভূমি অফিসে না এসে সে এসএমএস ও অনলাইনে মামলা ও নামজারির সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন আবেদনকারীরা।শাহিনা পারভীন উল্লেখ করেন, গত এক বছরে প্রায় ১৭০টি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭০টি মামলা দ্রুত মীমাংসিত হয়েছে। এখন এই সিস্টেমের মাধ্যমে মাত্র ৬ মাসের মিস মামলয়া নিষ্পত্তি হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে কোডেক্স সফটওয়ার সলিউশন লিমিটেড’র প্রধান নির্বাহী পাভেল সারওয়ার বলেন, কোডেক্স সফটওয়ার সলিউশন লিমিটেড এক ঝাঁক তরুণ মেধাবীদের স্টার্টআপ সফটওয়্যার ফার্ম। সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব সলিউশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং সলিউশন এবং আইটি প্রশিক্ষণ তাদের মূল কার্যক্রম।  তারা জনগণের আঙ্গুলের গোঁড়ায় সেবা নিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, মূলত কোডেক্স সফটওয়ার সলিউশন লিমিটেড জনসেবার ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত প্রকল্পে কাজ করে। আমাদের অন্যতম সেবা  ‘বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’। অধিকাংশ মানুষ, এমনকি শিক্ষিত ব্যক্তিও ভূমি বিষয়ে সাধারণ ও মৌলিক ধারণার অভাবে এবং সেবা প্রক্রিয়ার জ্ঞানের অপ্রতুলতার দরুণ তৃতীয় একটি পক্ষের হয়রানির সম্মুখীন হন। আমাদের এই সিস্টেমের মাধ্যমে জনগণের হয়রানি অনেকটাই লাগব হবে। এটিই সবর্জনগ্রাহ্য মডেল হবে, এটা আমরা আশা করি না, তবে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের যে সূচনা হতে যাচ্ছে তার ধারাবাহিকতায় একদিন সত্যিই একটি সবর্জনগ্রাহ্য ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজড পদ্ধতি চালু হবে, মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে এবং সাধারণ জনগণ হাসিমুখে ভূমিসেবা গ্রহণ করবে এটাই আমাদের চরম কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।রাদিয়া রাইয়ান চৌধুরী বলেন, রাজস্ব কোর্ট অটোমেশন, রেকর্ড রুম ম্যানেজমেন্ট, ভূমি উন্নয়নের করের পরিমাণ নির্ণয়, মিস কেস, নাম জারি, এ পর্চা, ভিপি, খাস জমি, সমিতির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে কোডেক্স সফটওয়ার সলিউশন। দেশের প্রথম জেলা ও উপজেলাভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আমরাই করেছি।

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.