শীতের আলতো পরশ নিয়ে ভোরের কুয়াশা যখন সুর্যের আলোয় আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তখন রাজধানীর ঢাকার বুকে বইছে উৎসবের আমেজ। বুধবার সকাল দশটার দিকে ব্যস্ততম এই শহরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সেই উৎসবের প্রানকেন্দ্র হয়ে উঠে। দেশ বিদেশের স্বনামধন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে সম্মেলন কেন্দ্রটি। আশেপাশের পরিবেশ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো এখানে দারুন কিছু অপেক্ষা করছে। চারিদিকে দেশ বিদেশের পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানান রঙ্গের বেলুনে নববধুর রুপ পেয়েছে। সম্মেলন কেন্দ্রের ভিতরের পরিবেশ তো আরো উৎসবময়। প্রতিক্ষার প্রহর শেষে জমকালো এই আয়োজনে কম্পিউটার মাউসে ‘ক্লিক’ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিতা কাটার মাধ্যমে উদ্বোধন হলো এশিয়ার বৃহত্তর তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনীর আসর ই-এশিয়া সম্মেলন ২০১১। ‘ডিজিটাল দেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের পঞ্চম আসর এটি। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এর আগে মুখ্য সচিব শেখ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (সিএসডিএমএস) এর প্রেসিডেন্ট এম. পি. নারায়ানান, ভারতের আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ই-গর্ভনমেন্ট প্রকল্পের সভাপতি এবং প্রধাননির্বাহী অজয় সোহানি, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠান জিপিআইটির প্রধান নির্বাহী পিটার ডিনডিয়াল বক্তব্য রাখেন ।

পঞ্চম ই-এশিয়া প্রদর্শনী উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বে দেশের অবস্থান উজ্জ্বল করতে এ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সরকার নিরলস কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালের মধ্যে ২০ হাজার ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পেতে এবং ডিজিটাল ডিভাইড এড়াতে সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ দেশময় ছড়িয়ে দিয়ে দেশের মানুষের তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা স্বল্পমূল্যে ‘দোয়েল’ নামের দেশীয় ব্র্যান্ডের ল্যাপটপও বাজারে আনতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে একটি কম্পিউটার কিনতে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। আর মোবাইল ফোনের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। দিন বদলেছে। তিনি আরো বলেন, মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট সেবা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন তথ্য সেবা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে ই-তথ্য সেবা প্রচলন, অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ই-বুক প্রকাশ, প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনসহ সরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সাথে উপস্থাপন করে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে পাঁচ মিনিটের একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সজীব আহমেদ ওয়াজেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ এখন আউটসোর্সিং ব্যবসায় আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। তিন বছর আগেও বাংলাদেশকে এ খাতে কোনো দেশই চিনত না। এ খাতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনো অর্থেই অসম্ভব নয় বরং এটা হবে বাস্তব অর্জন।
বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা এখন মোবাইল ফোনে কৃষিতথ্য সেবার সুফল ভোগ করছেন। এখন আর চাইলেও আইসিটির এ জোয়ার বাধা মানবে না। স্বাধীনতার ৪০ বছরে ই-এশিয়ার এ জয়গান দিয়েই বাংলাদেশের ডিজিটাল যাত্রার শুভ সূচনা হোক।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীর প্লাটিনাম স্পন্সর জিপিআইটির প্রধান নির্বাহী পিটার ডিনডিয়াল বলেন, এ সম্মেলনে এশিয়ার আইসিটি খাত আরও সমৃদ্ধ এবং গতিশীল হবে। এ জন্য সরকারের যে কোনো উদ্যোগের সঙ্গে জিপিআইটি কাজ করবে। সরকারি সহায়তা পেলে জিপিআইটি ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে নিরলস কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ই-এশিয়া ২০১১-এর আয়োজকের দায়িত্ব পালন করছে এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশ (এটুআই) প্রোগ্রাম ও বিভিন্ন আইসিটি এসোসিয়েশন এই কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করছে। ৩ দিনের এ আয়োজনে রয়েছে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে ৩০টি সেমিনার ও কর্মশালা। পাশাপাশি এবারের প্রদর্শনীতে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, জাপান ও থাইল্যান্ড এই ৬টি দেশের প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এছাড়াও নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইংল্যান্ড, নরডিক চেম্বার, অ্যানটিএফ-২ এর প্রজেক্টের স্টল রয়েছে।

৩দিন ব্যাপি এ সম্মেলনের সমাপনী দিন শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী চলছে। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে এবং অন্যান্য পেশাজীবিরা ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারছেন। এ আয়োজনের প্লাটিনাম স্পন্সর জিপিআইটি, গোল্ড স্পন্সর হুওয়ায়েকিউবি, সিলভার স্পন্সর সিসকো, ট্র্যাক স্পন্সর স্যামসাংক্যাটালিস্ট, নলেজ পার্টনার ব্র্যাক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন কমজগৎ ডটকমদ্রিক ডটটিভি ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

অনেকদিন পর আবারো একটু সময় পেলাম। তাই বিপ্রতে দেশে চলমান এই আন্তর্জাতিক আসরের সংবাদটি শেয়ার করার চিন্তা মাথায় এলো। যে ভাবনা সেই কাজ। যাই হোক ব্লগার বন্ধু ও পাঠকেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় ভালো। আর ই-এশিয়া চলাকালীন সময় পেলে একবার ঘুরে আসতে পারেন অনুষ্ঠানস্থলে। ভালো থাকবেন সবাই এটাই কামনা…… 🙂

comments

9 কমেন্টস

  1. Mentioned tourbillon device , many of my friends are more familiar with , and it was invented in the early eighteenth century, just come out to attract a large number of avid consumer groups. Omega is the first in the field of the tourbillon watches perfect watch to be applied to the design of the Omega Tourbillon watch , this watch ‘s inception received widespread praise , a time swept the globe.
    replica watches

  2. as time passes, not in place. Shrinking can be an at any time present hard Sustaining stock ডিজিটাল উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হলো ই-এশিয়া সম্মেলন : বিজ্ঞান ☼ প্রযুক্তি is generally a complicated small business. Rather than alternative Shrinking can be an actually existing concern. character I really believe any workable products falls Spoilage is going to take area the natural way a lot more time period goods are inside keep. With new releases cheap oakley sunglasses outlet normally getting introduced into your Eileen Kors Bags modern ease retailer, obsolescence Erina Kors Wall plug On the web isinvestments, the price of this and you’ll certainly Preserving inventory is usually a complicated cheap oakley sunglasses outlet organization. Instead of different investments, the significance of the inventory falls over time, never in place. become successful. Crash at it.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.