বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সমৃদ্ধ করার জন্য নানা রকম প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখনো পর্যন্ত এর গুণগত সুফল পায়নি। এখনো শিক্ষার্থীদের টেকনোলজি বা প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় শেখার জন্য মোটা অংকের অর্থ খরচ করে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে যেতে হয়

ge2২০১০ সালের নভেম্বর ১১ – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী চার হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।এ সব তথ্য ও সেবা কেন্দ্র থেকে কম খরচে যেসব সেবা পাওয়া যাবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ৫০ প্রকারের সরকারি ফর্ম, সরকারি নোটিস, সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের তালিকা, ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত সেবা। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, চাকরি প্রভৃতি সংক্রান্ত তথ্য। নাগরিকত্ব সনদ, পাবলিক পরীক্ষাসমূহের ফলাফল, জন্ম ও মৃতু্য নিবন্ধন, অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য। বাণিজ্যিক সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে – ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্স সুবিধা, মোবাইল ফোনের ব্যবহার, কার্ড বিক্রি ও রিচার্জ, কম্পিউটার কম্পোজ, স্ক্যানিং, ল্যামিনেটিং, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ভাড়া, পাসপোর্ট ও ভিসার ফর্ম পূরণ, ভিডিও প্রদর্শনী, ডিভি লটারির তথ্য ও ফর্ম পূরণ, খবরের কাগজ পড়া, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

আমরা ধরে নিচ্ছি যে দেশের জনগণ এসব ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র থেকে বেশ কিছু সুবিধা পাচ্ছে।মানুষ হয়তবা প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারছে  এবং সুবিধাও নিচ্ছে, কিন্তু এ সব তথ্য সেবা কেন্দ্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান বিস্তারে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পেরেছে প্রশ্ন জাগে! ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন নিজস্ব প্রযুক্তি  ও কলাকৌশল আর এজন্য আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান বিস্তারে উদ্দোগী হওয়া প্রয়োজন।

শুধুমাত্র মোবাইল ফোনের ব্যবহার, কার্ড বিক্রি ও রিচার্জ, কম্পিউটার কম্পোজ, স্ক্যানিং, ল্যামিনেটিং, মেমরি কার্ড লোড আর ফটোকপির ব্যবহার বৃদ্ধি করার নামই কি ডিজিটাল বাংলাদেশ? নাকি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নামে মাউস ধরা আর মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে অ আ ক খ লেখা পর্যন্ত শেখার নামই ডিজিটাল বাংলাদেশ?

টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু কথা

mh1টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতি এটা কোন স্বীকৃত পদ্ধতি নয়। এটা একান্তই আমার নিজের মনের চিন্তাপ্রসুত ধারণা মাত্র । এটা কোন পরিক্ষিত কোন পদ্ধতিও নয়, তবে আমার একান্ত ধারণা যে, সম্মিলিত প্রষ্টোর মাধ্যমে একেবারে শূণ্য থেকে শুরু করে কিভাবে একটা সমৃদ্ধ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য ভান্ডার প্রতিষ্ঠা করা যায় তার একটা ভাল রূপরেখা হতে পারে টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতি। এই ধারণাটি যদি সবার কাছে গ্রহণ যোগ্য হয় , তাহলে আপনাদের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা পেতে পারে, যদি ধারণাটির সংশোধন পরিমার্জনের প্রয়োজন হয় , আপনাদের সক্রিয় প্রচেষ্টার মাধ্যমেই হবে।

কেন টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতি?

প্রগতিশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদেরকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করতেই হবে।এ ব্যপারে আমরা যদি বলি যে আমাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নেই, সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেই তাহলে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই জুটবে না।তাই আমাদের ক্ষুধা যেহেতু আমাদেরই মিটাতে হবে তাই বসে থেকে কোন লাভ নেই।

mhকেন টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতি? এই প্রশ্নের উত্তর একটা উদাহরণ সহকারে দেয়া যাক। মনে করুন আপনার বেশ কয়েকজন বন্ধু আছে যাদের সবাই কম বেশি কম্পিউটার ব্যবহার করেন এবং সবাই প্রযুক্তিমনা। সবারই কম বেশি প্রযুক্তি বিষয়ক কিছু না কিছু সংগ্রহ আছে।আপনি চিন্তা করলেন ওয়েব ডিজাইন এবং প্রোগ্রামিং বিষয়ে খুব ভালভাবে শিখবেন এবং নিজেকে একজন ইন্টারন্যাশনাল মানের প্রফেশনাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন।আপনার বন্ধুদের বললেন, তাদের অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করল; কিন্তু কিভাবে শিখবেন? আপনাদের এ বিষয়ক তথ্য ভান্ডারও সমৃদ্ধ নয়।কেউ কেউ ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হবার পরামর্শ দিল । এর মঝে একজনকে পাওয়া গেল যিনি ইতোমধ্যেই একটা ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছে। তার কাছে মতামত চাওয়া হল। দেখা গেল যে, সে বলছে আসলে ট্রেনিং সেন্টার গুলাতে শুধুমাত্র বেসিক ধারণা পাওয়া ছাড়া ভাল কিছু শেখা সম্ভব নয়, তার চেয়ে ইন্টারনেশনাল রাইটারদের বই এবং টিউটোরিয়ালগুলো সংগ্রহ করে শিখতে পারলে ভাল হবে।

আসলে এটাই আমাদের বাস্তব প্রেক্ষাপট।এক্ষেত্রে আপনি নিজে ২০০০/= খরচ করে হয়তবা ২-৩ টা বই আর একটা টিউটোরিয়াল সংগ্রহ করে কিছুটা শিখলেন। খুব ভাল ভাবেই শিখতে পারলেন। কিন্তু খুব বেশি কি শিখতে পারলেন? এমন যদি হত যে আপনি যা চাচ্ছেন একটা লাইব্রেরীর মত এক স্থানে স্বল্প খরচে সব পেয়ে গেলেন তাহলে কি খুব ভাল হত না? আবার আপনার বন্ধুরা মিলে কি লাইব্রেরীর মত কিছু একটা কি করতে পারতেন না। হয়তবা আপনার দশজন বন্ধুর ২-৩ টা করে বই আর একটা করে টিউটোরিয়ালেএখনো খুব ভাল কিছু শরু করতে পারে। আর আস্তে আস্তে এই সদস্য সংখ্যা ৪০-৫০ এর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারলে খুব বেশি খারাপ হয় না। একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যায়।তাই আসুন আজ থেকেই কাজ শুরু করি সমৃদ্ধ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য ভান্ডার প্রতিষ্ঠায়।

………………………………………………………………………………..

আজ এ পর্যন্তই। আগামী লেখায় টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতির কর্মপদ্ধতি লক্ষ এবং উদ্দেশ্য এবং সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করব।সে পর্যন্ত সবার জন্য শুভকামনা রইল । 

comments

5 কমেন্টস

  1. অতুলনীয় লিখেছেন। আসলে আমি নিজেও একথা বিশ্বাস করি যে, আমার ক্ষুধা আমাকেই মেটাতে হবে। কেউ আমাকে তুলে খাওয়াবে না। ঠিক তেমনটাই দেশের সরকারের। সরকার শুধু দেশকে ডিজিটাল ঘোষনা দিয়েই ক্ষ্যান্ত আছেন্ কিন্তু ডিজিটাল হতে যা আনুসাংগিক কাজ করতে হয় এটার পদক্ষেপ নাই বললেই চলে। শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা এর কারন দর্শানো চাড়া এনারা কিছুই করতে পারেন নাই আজ অবধি।

    তাই আমরা যদি আমাদের উন্নয়ন আসলেই করতে চাই তবে এখনি সময় আমাদের মাথা তুলে দাড়াবার। সময় থাকতেই যদি আমরা তা কাজে লাগাতে পারে তাহলেই আমাদের উন্নতি কেউ ঠেকাতে পারে না। আর তা করতে হলে আপনার উদাহরন কে অবশ্যই অনুসরন যোগ্য বলে আমি মনে করি।

    আপনার সুন্দর উপস্থানের জন্য ধন্যযোগ। পরবর্তী পোষ্টের অপেক্ষায় ……………… 🙂

  2. অসাধারন আপনার এই পোস্টটি !!!
    টেকনোলজি ব্যাংক পদ্ধতি আমাদের দেশের ছাএ / ছাএী দের মেধা বিকাশে অনেক গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
    অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর ভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.