ডাইনোসরঃ এখনো আমাদের চমকিত করে

জুরাসিক ওয়ার্ল্ড বা জুরাসিক পার্ক ফ্র্যাঞ্চাইজের ছবিগুলো যারা দেখেছেন, তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবেন যে, পর্দায় দেখা বিশালকায় সে প্রাণীগুলোকে দেখে একবারের জন্য হলেও সে যুগটায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করেছে। কেমন করে তারা পা ফেলত, কি ধরণের খাবার খেত, আসলেই কি তারা এত বৃহৎ ছিল কি না- তা জানতে অনেকেরই ইচ্ছা করে।

মজার কথা হচ্ছে, এই প্রাণীগুলোকে জানতে আপনাদের সে যুগে ফিরে যেতে হবে না।বরং বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণার মাধ্যমে ডাইনোসরদের সম্পর্কে নানা চমকপ্রদ তথ্য আমাদের দিচ্ছেন। এমনি তিনটি ডাইনোসর নিয়ে কিছু কথা আজকের এই রচনায়ঃ

১) মোজাসর ছিল ঠান্ডা মাথার শিকারীঃ

মোজাসর আদতে কোন ডাইনোসর ছিল না। বরং একে বলা যায় বিশাল একটি সামুদ্রিক গিরগিটি। যদিও এটির বড় বড় ভয়ানক দু পাটি দাঁত রয়েছে, ধারণা করা হয় যে মোজাসরের সমুদ্রের গভীরতা সম্পর্কে খুব একটা ভালো ধারণা ছিল না। এছাড়াও সে গন্ধ নেবার বেলায় খুবই দুর্বল ছিল। ফলে শিকাররা তার কাছ দিয়ে গেলেও অনেক সময় সে টের পেত না। বিজ্ঞানীরা এটির শিকার করার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছেন যে এটি স্থির অবস্থায় এক জায়গাতেই অপেক্ষা করে থাকে এবং বাতাসের জন্য যখনই কোন প্রাণী সমুদ্রের উপরিভাগে এসে পড়ত, তখন সে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। ২০১৩ সালে এঙ্গোলায় একটি মোজাসরের ফসিল পাওয়া যায়।

২) সব দোষ ব্রন্টোসরাসের? ঃ

শান্তিপ্রিয়, লম্বা ঘাড়ের অধিকারী অ্যাপাটোসরাস, যেটিকে অনেকে ব্রন্টোসরাস নামেও ডেকে থাকেন, ছিল তৃণভোজী ডাইনোসর। এটি গাছের পাতা খেয়েই জীবন ধারণ করত। ব্রন্টোসরাসের হাড়ের যে ফসিল পাওয়া গিয়েছে তা বিজ্ঞানীদেরও খুব ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, মোজাসর ও ব্রন্টোসরাসের দৈহিক গঠনের সাথে আকস্মিক মিল পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে ব্রন্টোসরাস এত বেশি মিথেন গ্যাস তৈরি করত যে মেসোজয়িক যুগে খুব বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। এর পেছনে ব্রন্টোসরাস দায়ী।

৩)  আদিম কালের মুরগীঃ ভেলোসিরাপটরস

জুরাসিক ওয়ার্ল্ড যারা যারা দেখেছেন তাদের অনেকেই একটি পাখি জাতীয় ডাইনোসরকে সনাক্ত করতে পেরেছেন। এটি আশ্চর্যজনকভাবে দেখতে একটি মুরগীর মত। কিন্তু মজার ব্যপার হচ্ছে ছবিতে এই পাখিটিকে ভেলোসিরাপটরস বলে চালিয়ে দেয়া হলেও এটি আসলে তা নয়। বরং এটির নাম ডেইনোনিকাস।ভেলোসিরাপটরসের আসল দৈহিক আকৃতি ছিল আরো ছোট ও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এটির মুরগীর মত পালকও ছিল। এটির শরীরের চাইতে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ছিল কয়েকগুন বেশি। ফলে এটি অন্যান্য শিকারী প্রাণিদের থেকে খুব সহজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারত।

সূত্রঃ স্মিথসোনিয়ান

 

 

 

 

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.