ছোটবেলায় ক্লাসে ম্যাপ আঁকাতে হয়নি, আমার মনে হয় এমন মানুষ খুব কমই আছে। আমার নিজের আঁকার হাত খুবই জঘন্য। ক্লাসে কোনরকমে শুধু বাংলাদেশের ম্যাপটা এঁকে রেখে আসতাম।  অনলাইনে যুগে আমরা অনেকেই অনলাইন ম্যাপ ব্যবহার করছি। অনলাইন ম্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধাটা হচ্ছে, এর রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা। যেটা কিনা কাগজের ম্যাপে কখনোই সম্ভব না। আজকাল অনলাইন ম্যাপ অহরহ ব্যবহার হচ্ছে ভিটিএস (ভেহিকাল ট্র্যাকিং সিস্টেম) এর কাজে।

earth-mapঅনলাইন ম্যাপের জন্য আমরা সবাই সাধারণত গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে থাকি। আমার মতে বর্তমানে গুগল ম্যাপটা হচ্ছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যা কিনা সবচেয়ে সঠিক আউটপুটটা দেখায়। তবে গুগল ম্যাপই একমাত্র নয়। এছাড়াও আরও অনেক ইউনিক সার্ভিস বেজড ম্যাপ রয়েছে যেগুলো আপনার কাজে আসতে পারে। আজ এরকমই কয়েকটা এপ্লিকেশন সম্পর্কে লিখব।

১. ফীডম্যাপ

ফীডম্যাপ ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্লগকে জিও-কোড(geo-code) করতে পারেন। আগেই জিও কোড করা ব্লগগুলো দেখতে পারেন বা সার্চ করতে পারেন। একবার আপনার ব্লগের জিও কোড করা হলে আপনি একটা ইউআরএলের মাধ্যম আপনার ব্লগম্যাপ পেতে পারেন। এটা দিয়ে আপনার লোকাল ব্লগারদের সাথে নেটওয়ার্ও তৈরী করতে পারেন এছাড়াও আরও অনেক কিছু করতে পারবেন। এরা ব্লগারের ব্লগের জন্য একটা উইজেট দিয়ে থাকে, ইচ্ছা করলে এটা আপনার ব্লগেও সেট করতে পারেন।

feedmapলিংকঃ Feedmap

২. জিও আইপি টুল

এটার সাহায্যে আপনি আপনার আইপি এবং জিওলোকেশনের বিস্তারিত দেখতে পারবেন। কোন আইপির জিও লোকেশন দেখার জন্য এটা ভাল একটা হ্যান্ডি টুলস।

geo-ip-toolলিংকঃ Geo IP Tool

৩. ওয়েফারিং

ওয়েফারিং একটা চমৎকার টুলস। এটার মজা আপনি নিজে ব্যবহার না করলে বুঝতে পারবেন না। আপনি নিজেই নিজের ম্যাপ তৈরী করতে পারবেন। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। অন্যের তৈরী ম্যাপ এক্সপ্লোর করতে পারবেন। ইমেজশটটা দেখুন। আপনি যে কোন এলাকা ট্যাগ করতে পারবেন। এবং সেটা রেফারেন্স হিসেবে আপনার ব্লগেও সেট করতে পারবেন। এটা কোন মীটআপ আয়োজনের সময় খুবই কাজে আসতে পারে যখন লোকেশনটা ম্যাপের মাধ্যমে আপনি শেয়ার করতে চান।

wayfaring

লিংকঃ Wayfaring

৪. ইয়াহু লোকাল

ইয়াহু লোকাল মূলত একটি লোকাল বিজনেস ডিরেক্টরী। এটার মাঝে অনেক কিছুই দেয়া থাকে যেমন রেটিং, রিভিউ, ম্যাপ ইভেন্ট এবং আরও অনেক কিছু। আপনি শহরের যে কোন রেস্তোরা, ফ্লোরিস্ট এমনকি জুতা সেলাইয়ের দোকানও খুজে বের করতে পারবেন।

yahoo-local-map-service

লিংকঃ Yahoo Local

৫. ফ্ল্যাগার

ফ্ল্যাগারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি এটা মোবাইল ফোন থেকেও ব্যবহার করতে পারবেন।  আপনার ছবি আপলোড করতে পারবেন। সেটাও করতে পারবেন যে কোন সাধারণ ক্যামেরা মোবাইল থেকেই। বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান। জেনে নিন বন্ধুরা কোথায় আছে। এই ম্যাপে আপনি ছবি ভিডিও এবং বিবরণ যোগ করতে পারবেন।

লিংকঃ Flagr

৬. গুগল ম্যাপ

এটার কতা আর কি বলব। উপরও কিছুটা বলেছি আর কিছু বলার নেই। শুধু এককথায় বলি বর্তমান দুনিয়ায় সবচেয়ে একুরেট এবং তথ্যবহুল ম্যাপ।

google-maps

লিংকঃ Google Map

৭. প্লেসোপিডিয়া

এটা আরেকটা মজার জিনিস। আপনি উইকিপিডিয়ার আর্টিকেলগুলো এটার ম্যাপে জিও লোকেট করতে পারবেন। ম্যাপের উপরে আর্টিকেলগুলো থাকবে। স্ন্যাপশটটা দেখুন।

placeopedia

লিংকঃ Placeopedia

৮. জিভিজিট

এই টুলটা মূলত ব্লগারদের জন্য বানানো হয়েছে। এরা গুগল ম্যাপের এপিআই ব্যবহার করে। এটা দিয়ে ভিজিটরের জিওগ্রাফিকাল লোকেশন ট্র্যাক করা যায়। ওদের দেয়া জাভাস্ক্রীপ্টটা আপনার সাইটে বসান। ওরা আপনাকে একটা ইউআরএল দিবে। যেটা দিয়ে সহজেই আপনি আপনার ভিজিটরদের ট্র্যাক করতে পারবেন।

লিংকঃ Gvisit

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here