গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী জঙ্গিরা থ্রিমা নামক একটি নিরাপদ মেসেজিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহার করেছিল। থ্রিমাকে নিরাপদ মেসেজিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে মনে করা হয়। এটি ব্যবহার করে বার্তা পাঠানোর পর তা সার্ভার থেকে মুছে ফেলতে পারে। পরিচয় গোপন রেখে এটি করা যায় বলে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা যায় না। আর এ কারণেই আইএসের হ্যাকিং ইউনিট সাইবার ক্যালিফেট তাদের যোগাযোগের জন্য টেলিগ্রাম ছেড়ে থ্রিমা ব্যবহার করছে।

থ্রিমা জার্মানির একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ফোনে থ্রিমা ব্যবহার করে বার্তা আদান-প্রদান ছাড়াও মাল্টিমিডিয়া, লোকেশন, ভয়েস মেসেজ ও ফাইল পাঠানো যায়। সুইজারল্যান্ডের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্রিমা জিএমবিএইচ ২০১২ সালে এটি তৈরি করে। এর সার্ভার সুইজারল্যান্ডে। ২০১৫ সালের জুনের তথ্যানুযায়ী, ৩৫ লাখ ব্যবহারকারী থ্রিমা ব্যবহার করে, যার বেশির ভাগ জার্মান। থ্রিমা তৈরির পেছনে কাজ করছেন ম্যানুয়েল ক্যাসপার নামের এক উদ্যোক্তা। আগে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ক্যাসপার সিস্টেমস। সফটওয়্যার নির্মাতা মার্টিন ব্ল্যাটার ও সিলভান অ্যাংগলারকে পরবর্তী সময়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৩ সালে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ উন্মুক্ত করা হয়। ওই বছর স্নোডেন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করার পর থ্রিমার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারিতে ফেসবুক যখন হোয়াটসঅ্যাপকে কিনে নেয়, তার পরই এক দিনেই থ্রিমার ব্যবহারকারী দুই লাখ বেড়ে যায়। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ জার্মানির। ২০১৪ সালে এর নামকরণ করা হয় থ্রিমা জিএমবিএইচ।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.