অনেকদিন আগে গ্রামের বাড়িতে কোনো একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি এবং খালাতো ভাইসহ অনেকেই ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলাম। ছবিও তুলেছি প্রচুর। তবে সেই ছবিগুলোর অধিকাংশই প্রিন্ট করা হয়নি। অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সপ্তাহখানেক পর খালাতো ভাইয়ের কাছ থেকে একটা সিডি পেলাম, যেখানে তিনি নির্বাচিত ছবিগুলো দিয়ে ভিডিও শো তৈরি করেছেন। অর্থাৎ, স্থির ছবিগুলোই একটার পর একটা আসবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক চলতে থাকবে। আমি দেখে অভিভূত হয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না কীভাবে এটা করতে হয়। ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি দু’টোতেই আগ্রহ থাকার পরও শিখতে পারিনি কীভাবে করতে হয়।

using-video-site

আমরা সাধারণত এসব কাজ করতে অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো, ইউলিড মিডিয়া স্টুডিও প্রো ইত্যাদি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকি। অস্বীকার করার উপায় নেই এসব সফটওয়্যার ছাড়া উচ্চমানের ভিডিও এডিটিং করলে খুব একটা ভালো হবে না। তবে আপনার যখন ব্যক্তিগত কিছু ছবি নিয়ে ভিডিও শো তৈরির শখ হবে, তখন আপনি নিশ্চয়ই টাকা খরচ করে বা সময় নষ্ট করে জটিল এইসব সফটওয়্যার নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করবেন না; ঠিক যেমনটা আমি করিনি।

তবে আজ কয়েক বছর পর হঠাৎই মনে হলো গুগলের পিকাসা সেবার ডেস্কটপ সংস্করণটি ব্যবহার করি। গুগলের ছবি শেয়ারিংয়ের একটি সেবার নাম হচ্ছে পিকাসা, যার একটি ডেস্কটপ সংস্করণও রয়েছে। নিতান্ত কৌতুহলী হয়েই সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করি। এক পর্যায়ে দেখি এতে ভিডিও এডিটিংয়ের সুবিধা আছে। বড় আকারের কিছু নয়, তবে আমি যা চাচ্ছিলাম ঠিক তাই পেয়ে গেছি।

এবারে আসুন জেনে নিই কীভাবে আপনি স্থির চিত্রকে চলমান করে তুলতে পারেন এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে পছন্দসই গান বা মিউজিক যোগ করতে পারেন। এই কাজটি করার সহজতম পদ্ধতি হলো গুগল পিকাসা।

তৈরি করুন ভিডিও শো

প্রথমেই গুগল পিকাসা ডাউনলোড করে নিন। লক্ষ্য করুন, পিকাসার লিনাক্স সংস্করণে আপনি ভিডিওর কাজটি করতে পারবেন না। ডাউনলোড করার পর প্রোগ্রামটি চালু করুন। পিকাসা ৩ কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার কম্পিউটার স্ক্যান করে সমস্ত ছবি আপনার সামনে ফোল্ডার বাই ফোল্ডার প্রদর্শন করবে। এখান থেকে আপনি যে ছবিগুলো ভিডিও শো-তে নিতে চান, সেগুলো নির্বাচন করুন। এবারে নিচে দেখবেন মুভি নামে একটা বাটন আছে। সেটায় ক্লিক করলেই আপনার সামনে ভিডিও ক্রিয়েটিং স্ক্রিন প্রদর্শিত হবে।

video-choose-300x187এবার পর্দার নিচের অংশে আপনি টাইমলাইন এবং তারও নিচে ছবিগুলো সাজানো আকারে দেখতে পাবেন। আপনি চাইলে এখান থেকে ছবি মুছে ফেলতে পারেন, অথবা নতুন ছবি যোগ করতে পারেন। একইসঙ্গে আপনি কোন ছবির পর কোন ছবি আসবে তাও সাজিয়ে নিতে পারেন এখান থেকে।

এবার আপনার মুভি এডিটিংয়ের পালা। লক্ষ্য করুন, বাম পাশের প্যানেলটিই আপনার ভিডিও এডিটর। এখান থেকে আপনি ঠিক করতে পারবেন কীভাবে ছবিগুলো পরিবর্তিত হবে, প্রতিটি ছবি কতক্ষণ সময় ধরে প্রদর্শিত হবে ইত্যাদি। তবে তার আগে আসুন ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক যোগ করে নিই।

এডিটিং প্যানেলের অডিও ট্র্যাক এর নিচের লোড বাটনে ক্লিক করে পছন্দের মিউজিকটি নির্বাচন করুন। এবার নিচে অপশন ড্রপ-ডাউন বক্স থেকে ছবির সঙ্গে মিউজিকের খাপ খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিগিনারদের জন্য ফিট ফটোস ইনটু অডিও অপশনটি সেরা হবে বলে আমি মনে করে। এতে করে পিকাসা নিজেই ঠিক করে নেবে পুরোটা মিউজিক প্লেব্যাক করতে প্রতিটি ছবিকে কত সেকেণ্ড স্ক্রিনে রাখতে হবে। আর যদি অল্প কয়েকটি ছবি দিয়েই পুরো গান শেষ করতে চান, তাহলে লুপ ফটোস সিলেক্ট করুন।

প্যানেলে দেখবেন স্লাইড নামে আরেকটি ট্যাব আছে। আপনি প্রয়োজনে এটিরও সহায়তা নিয়ে প্রতিটি ছবিতে ক্যাপশন যোগ করতে পারবেন। অবশ্য এটি করলে একটু বাজে দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় শো এর শুরুতে এবং শেষে দু’টি টেক্সট শো বসিয়ে দিলে। এ জন্য আপনার ছবিগুলোর উপর রাইট ক্লিক করুন এবং ইনসার্ট এ টেক্সট স্লাইডে ক্লিক করুন।

এবার প্লে বাটনে প্লে করে পরীক্ষা করুন আপনার ভিডিও শো।

এক্সপোর্ট

পছন্দ হলে প্রথমে আপনাকে বাম পাশের প্যানেলের নিচ থেকে ক্রিয়েট মুভি বাটনে ক্লিক করতে হবে। একটি প্রগ্রেস বার স্ক্রিনের বাম পাশের নিচে দেখতে পাবেন। মুভি তৈরি হতে একটু সময় নিতে পারে । ততক্ষণ অপেক্ষা করুন। মুভি তৈরি হয়ে গেলে মাই ডকুমেন্টস > মাই পিকচারস > পিকাসা > মুভি ফোল্ডার থেকে প্লে করতে পারবেন।

তবে এখানেই শেষ নয়, সবকিছু ফাইনাল হলে এক্সপোর্ট ক্লিপে ক্লিক করতে হবে। এটি আপনি পিকাসার বাম পাশের প্যানেলেই পাবেন। এক্সপোর্ট করার ফলে আপনার ক্লিপের সাইজ কিছুটা কমে আসবে এবং wmv ফরম্যাটে সেভ হবে। আপনি চাইলে পরবর্তীতে তা যেকোনো ফরম্যাটে কনভার্ট করতে পারবেন।

অথবা আপনি পিকাসা থেকেই সরাসরি ইউটিউবে আপলোড করে দিতে পারবেন ক্লিপটি। এ জন্য লগইন করার প্রয়োজন হবে। গুগল পিকাসা দিয়ে তৈরি আমার একটি ভিডিও শো দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি কি স্থিরচিত্রকে ভিডিও শোতে রূপান্তরের কাজ করেছেন? এ কাজে আপনি কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করেছেন? আপনার মতে কোন সফটওয়্যার দিয়ে কাজটি সবচেয়ে সহজে সম্পন্ন করা যায়? সকলের মন্তব্য আমন্ত্রিত।

comments

16 কমেন্টস

  1. বছর দুয়েক আগে উইন্ডোজ মুভি মেকার ব্যবহার করে এরকম করেছিলাম। তখন নিজেকে বড় মাপের ভিডিও এডিটর মনে করতাম। কিন্তু এখন বুঝতেছি, এটা আসলে ভিডিও এডিটিং এর ‘ক’ ও না 🙁

    • বড় মাপের ভিডিও এডিটর!! হে: হে: হে:

      আমার শখ আছে অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো শেখার। এটা দিয়ে সহজে জটিল সব ভিডিও এডিটের কাজ করা যায়। ইন্টারফেসও ব্যবহারবান্ধব।

  2. Export clip করার পর এটা 99.3% পর্যন্ত হয়ে বসে আছে, আর সামনে এগুচ্ছে না।
    কি সমস্যা?

  3. আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ এরকম একটি সৃষ্টিশীল প্রতিবেদনের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.