সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের গবেষনায় প্রকাশ পেয়েছে যে কুকুর মনিবের চেহারা দেখেই মনিব কে চিনে থাকে। ‘এনিমেল বেহাবিয়ার’ নামের বিবরনীতে গবেষকদের দল বলেছেন একটি কুকুর তার প্রিয় মানব বন্ধুর মুখ ঢাকা থাকলে তাকে চিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। এ গবেষনায় মুলতহাজার বছর ধরে গৃহ পালন প্রানীদের আচরন কিভাবে প্রভাবিত করছে তা উঠে এসেছে। দুজন লোকের মধ্যে কুকুর তার পরিচিত মনিবের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে এবং তাকে অনুসরন করে।

ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওলো মঙ্গিলো এই গবেষনার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মতে এ কুকুর নিয়ে অনেক গবেষনা হলেও কুকুর তার মনিব কে পছন্করে তা নিয়ে কোনো গবেষনা হয় নি। ডঃ মঙ্গিলোর দল দুইভাবে বিষয়টি পরিক্ষা করেন । “ আমরা একটি খালি রুমে কুকুর রেখেছি, মনিব ও কুকুরযাকে চিনে না এমন একজন কে রেখেছি।দুজন লোক দুদিক থেকে কুকুরটির সামনে দিয়ে অনেকবার হেটে গেছে এবং আমরা গুনে দেখেছি কুকুরটি তার পরিচিত এবং অপরিচিত লোকের মধ্যে কার দিকে কতোবার তাকায়।”

2010-10-25_193244

গবেষকরা এরপর দুজন লোককে দুটি ভিন্ন দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং কুকুরটিকে ছেড়ে দেন যাতে কুকুরটি এক টি দরজার সামনে যেতে পারে। “ বেশির ভাগ কুকুর ই তার মনিবের দিক বেশি সময় ধরে তাকিয়ে ছিল এবং মনিবের বেরিয়েযাওয়া দরজায় গিয়ে অপেক্ষা করেছে। ডঃ মঙ্গিলো বলেন এটি তাদের কাঙ্খিত ফলাফল।

দ্বিতী্য একটি পরীক্ষায়, দুজনের মুখ ঢেকে দেয়া হয় । এতে কুকুরটি তার মনিবের প্রতি অমনযোগী হয়ে পরে। এটা একথা ই প্রমান করে যে কুকুর মানুষের চেহারা দেখেই চিনে ।গবেষনায় আরো বলা হয় প্রায় ১৫০০০ থেকে ৪০০০০ বছর ধরে পোষা প্রানী হিসেবে থেকেই কুকুরের আচরন এ এরকম প্রভাব পরেছে।

মনিবকে চিনতে গিয়ে কুকুরের বয়স কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারছে কিনা এটিও দেখা হয় এই গবেষনায়। এতে দেখা গেছে মোটামুটি ৭ বছরের বেশি বয়সের কুকুর তাদের মনিবের দিকে খুব একটা মনযোগ দিতে পারে না এবং মনিবের দরজাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিনতে পারে না।

– লিখেছেন রাবেয়া হক স্বর্না

পোস্টটি মাসিক টেকনোলজি টুডের সৌজন্যে। পোস্টের সরাসরি লিঙ্ক এখানে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here