ক্লেভ ল্যান্ড ক্লিনিক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত হসপিটাল যারা কিনা সব সময় চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বা আবিষ্কার করেছে। এবারের ২০১৪ সালের মেডিক্যাল ইনভেশন সামিটে সর্বমোট ১১০ জন অভিজ্ঞ বেক্তির একটি জুরি বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় এই বছরের সেরা ১০ টি মেডিক্যাল আবিষ্কার।

কি সেই আবিষ্কার যেগুলা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে? দেখি একের পর এক বিস্তারিত।

১। মোবাইল স্ট্রোক ইউনিট- তালিকার প্রথম স্থান দখল করে আছে মোবাইল স্ট্রোক ইউনিট নামের এই যন্ত্রটি। যখন কোন মানুষ স্ট্রোক করে তখন তার জীবনের এক এক সেকেন্ডর হিসেব রাখা খুব জরুরি। এই যন্ত্রটি রোগীকে হসপিটালে নিয়ে যাবার সময় তার হার্ট বিট, রক্তের প্রেসার ইত্যাদি সবকিছু পরীক্ষা করবে তারপর সেই পরিক্ষার ফলাফল অ্যাম্বুলেন্সে রাখা মনিটরে দেখাবে। রিপোর্ট দেখার পরে খুব সহজে দাক্তার বা নার্স রোগীকে সেবা দিতে পারবে।

২। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধক টিকা- পৃথিবীতে প্রতিবছর ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গবেষকেরা নতুন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে যেটি আক্রান্ত রোগীকে দিলে তার জ্বর সেরে যাবে আর যাদের এর আগে কখনো এই জ্বর আসেনি তাদের ভ্যাকসিন দেবার পরে আর আসবে না।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধক টিকা

৩। ব্যাথা মুক্ত রক্ত পরীক্ষা- নতুন একটি সুচ বা ইনজেকশন আবিষ্কার হয়েছে যেটি দিয়ে বর্তমানের থেকে শতকরা ৮০ ভাগ ব্যাথামুক্ত ভাবে মানব দেহের রক্ত পরীক্ষা করা যাবে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে এই যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করতে তুলনামূলক ১০% কম রক্তের দরকার পড়বে। রোগীর শরীরে কখন সূচ প্রবেশ করানো হয়েছে সেটি সে বলতেই পারবে না।

ব্যাথা মুক্ত রক্ত পরীক্ষা

৪। কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে রাখার ইনহিবিটর- গত কয়েক দশক ধরে ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করে আসছে মানুষের শরীরের কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একেবারে ঝুঁকি মুক্ত যন্ত্র বা ঔষধ তৈরি করার। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ঔষধের মাধ্যমে কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হতো তবে সেই পদ্ধতিতে মানুষের হৃদ রোগের সম্ভাবনা বেশী থাকতো। অবশেষে বহু প্রতিক্ষার পরে গবেষকেরা নতুন একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে যেটির নাম “PCSK9 inhibitor” এখন পর্যন্ত এটি সবথেকে কার্যকরী একটি ভ্যাকসিন। এবং এটির কোন সাইড ইফেক্ট নেই। যার কারনে এটি এবারের শীর্ষ ১০ এর তালিকায় যায়গা করে নিতে সামর্থ্য হয়েছে।

কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে রাখার ইনহিবিটর

৫। এন্টি বডি ড্রাগ কনজাগটেস- একজন ক্যান্সার আক্রন্ত রোগীর শরীরের নষ্ট বা ড্যামেজ হয়ে যাওয়া সেল গুলো পুনরায় ঠিক করার জন্য কেমোথেরাপি দেয়া হয়ে থাকে। এর যেমন ভালো দিক আছে ঠিক তেমন খারাপ দিকও আছে। কেমোথেরাপি দেবার সময় শরীরের অনেক ভালো সেল অকার্যকর করে দেয় এবং পরবর্তীতে আর সেগুলা ঠিক হয়না। তবে নতুন এই “এন্টি বডি ড্রাগ কনজাগটেস” এমন একটি প্রযুক্তি যেটির ব্যাবহারে শরীরের ভালো সেল গুলা নষ্ট বা অকার্যকর না করে ক্ষতিগ্রস্ত সেল গুলো ঠিক করে দিবে। কেমোথেরাপি দেবার সময় শরীরের আরও যে সাইড ইফেক্ট গুলা দেখাদেয় এটি সেগুলোকেও নিয়ন্ত্রন করবে। আর যার দরুন এটি উঠে এসেছে শীর্ষ ১০ এর তালিকায়।

৬। ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর- কেমোথেরাপি বা লেজার চিকিৎসা আরও সহজ এবং আধুনিক করার জন্য ইমিউন সিস্টেম নামের একটি ড্রাগ আবিষ্কার হয়েছে এটির ব্যাবহারে ভবিষ্যতে লেজার ও কেমোথেরাপি আর উন্নত হবে। অন্যান্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এই ড্রাগের মাধ্যমে চিকিৎসার গ্রহন করলে আগের মতো আর অনেকদিন ধরে সময় লাগবে না।

৭। উন্নত কার্ডিয়াক পেসমেকার- গত ২ শতাব্দীতে বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বহু রোগির শরিরে কৃত্রিম পেসমেকার বসানো হয়েছে তাদের হার্ট বিট ঠিক রাখার জন্য। এটি মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয় শিরার বা রগের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করিয়ে। এই অপারেশনে নুন্নতম ২% ঝুঁকি থাকে এবং ভবিষ্যতে রোগীর শরীরে ইনফেকশন হবার মতো ঝুঁকি থেকে যায়। তবে নতুন আবিষ্কৃত “উন্নত মানের কার্ডিয়াক পেসমেকার” ব্যাবহার করার মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেক অংশে কমে যাবে। বর্তমানে এটি দেখতে একটি ক্যাপসুলের মতো এবং এটি মানব দেহে প্রতিস্থাপন করার জন্য ছোট্ট একটি অপারশনই যথেষ্ট।

উন্নত কার্ডিয়াক পেসমেকার

৮। ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস- মানব দেহের বায়ু থলিতে দাগ একটি মারাত্মক অসুখ এটি হলে খুব খারাপ ভাবে মানব দেহের ফুসফুসের কার্যকারিতা হানি হয়ে যায়। এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে যদি ঠিক মতো চিকিৎসা করানো না হয় তবে তার আয়ু খুব তারাতারি কমে আশে। বলতে পারেন ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সে বাচতে পারবে। নতুন যে ২ টি ড্রাগ আবিষ্কার হয়েছে সেটি এই রোগ প্রতিরধে ভীষণ কার্যকরী প্রমানিত হয়েছে এবং এফডিএ এই বছরে এটি শীর্ষ ১০ এর তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

৯। স্তন ক্যান্সারের জন্য অপারেটিভ বিকিরণ থেরাপির- স্তন ক্যান্সার এখন পৃথিবীর অন্যতম একটি ভয়াবহ রোগ। কমবেশী পৃথিবীর সব দেশেই এই রোগের ভয়াবহতা দেখা যায়। কিন্তু যদি সময় মতো এই রোগ ধরা পরে এবং চিকিৎসা করা হয় তবে খুব অল্প সময়ে এটি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর যদি খুব বেশী দেরি করে ফেলা হয় তবে মৃত্যু অবধারিত। এই ঝুঁকি মাথায় রেখে গবেষকেরা একটি নতুন ধরনের লেজার বা অপারেটিভ বিকিরণ থেরাপি আবিষ্কার করেছে যেটির মাধ্যমে রোগীকে সময় মতো চিকিৎসা প্রদান করলে গতদিনের তুলনায় আরও অনেক আগে সুস্থ হয়ে যাবে। গবেষকেরা এটির নাম দিয়েছে “IORT”

১০। হার্ট এটাক প্রতিরোধে নতুন ঔষধ- হার্ট ফেইলার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আজ পর্যন্ত বহু ঔষধ বের হয়েছে। তবে নতুন এই ঔষধ গত দিনের আবিষ্কৃত ঔষধের তুলনায় অনেক বেশী কার্যকরী। বিজ্ঞানীরা এটির নাম দিয়েছে এফডিএ এবং এটি তাৎক্ষনিক ভাবে ফাস্ট ট্র্যাকের মতো কাজ করবে এবং রোগীকে হার্ট এটাক বা ফেইলার থেকে প্রাথমিক ভাবে ঝটপট রক্ষা করবে।

হার্ট এটাক প্রতিরোধে নতুন ঔষধ-

২০১৪ সালের রিসার্চ অনুযায়ী এই গুলা হচ্ছে এই বছরের মেডিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে আলোচিত আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে পৃথিবীতে বিনা চিকিৎসায় আর একটি মানুষও না মরে। কিন্তু তারপরেও শেষ রক্ষা হয়না। তবে আমরা কোনভাবেই আশাহত হতে রাজি না। সমস্যা সে যত বড়ই হোকনা কেনো সমাধান তার ঠিকই আছে।

সূত্রঃ- ফোর্বস এবং ইন্টারনেট

comments

1 COMMENT

  1. আরও এগিয়ে যাক চিকিৎসা বিজ্ঞান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.