খুব দ্রুতই এমন একটা সময় আসবে যখন চালকবিহীন গাড়ির বদৌলতে ভ্রমন হবে আনন্দদায়ক এবং ঝুকিহীন। আপনার জীবনাচরণ বহুলাংশে বদলে এসব আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন গাড়ি। চলুন জেনে নেই চালকবিহীন গাড়ি কি করে বদলাবে আমাদের সকলের দীর্ঘদিনের অভ্যাসগুলো।

১। দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য আপনাকে দরকার হবে না : গাড়িটি যদি একাই চলতে পারে তাহলে লণ্ড্রি থেকে কাপড় আনতে বা ঘরের যাবতীয় কেনাকাটায় অথবা বাচ্চাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনায় আপনার উপস্থিতির আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। আপনাকে ফুয়েল নিতে সময় নষ্ট করতে হবে না। গাড়িগুলো হবে ইলেক্ট্রিক এবং যেখানেই পার্কিং করা হবে সেখানেই তারবিহীন চার্জ হতে থাকবে। এমনকি প্রতিটি রেস্তোরাঁই নিঃসংকোচে আপনার চালকবিহীন গাড়ির বাম্পারে খাবার সরবরাহ করতে পারবে। অপরদিকে লক্ষাধিক সরবরাহ কাজে নিয়োজিত মানুষ চাকরি হারাবে।

 

২। পার্কিংজনিত সমস্যা থেকে আপনি চিরতরে মুক্তি পাবেন : গাড়িগুলো পুরোপুরি চলে যাবে না, শুধু আপনার চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে। চালকবিহীন গাড়িগুলোর পাহারায় কাছাকাছি থেকে অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না। তাই পার্কিং গ্যারেজ হতে পারে শহর থেকে কিছুটা দূরে, বাড়ির পাশে থাকা অব্যবহৃত স্থানে। অথবা গাড়িগুলো যদি এখনকার মতো বাড়ির গ্যারেজেই থাকে, তাহলেও সমস্যা নেই। কারণ চালকবিহীন গাড়িগুলো অল্প জায়গায় সেঁধে থাকতে জানবে। ফলে একই গ্যারেজে অনেক গাড়ির জায়গা দেওয়া যাবে।

 

বিপরীতে থাকা সত্যটা হলো, আপনি যদি প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র গাড়িতে ফেলে চলে যান, তবে হেঁটে গাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার চেয়েও বড় অসুবিধায় পড়তে পারেন।

google-driverless_3147440b

৩। আপনি আরো বেশি ব্যায়াম করতে পারবেন : অধিক দক্ষ এবং ঝামেলাহীন ট্র্যাফিক ব্যবস্থা আপনার শহরের রাস্তায় হাঁটার অভিজ্ঞতা বদলে দেবে। চাইলেই কোনো এক বিকেলে পছন্দের রেস্তোরাঁয় নিশ্চিন্তে ভরপেট খেয়ে ফেলা যেতে পারে, যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন যে আপনার গাড়িটি ঠিক সময়ে বাড়ি পৌছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।

 

এখানেও আছে বিপক্ষ মত। যদি আপনার আর্জি পালনের জন্য সদা প্রস্তুত ব্যক্তি বা বস্তু থাকে, তাহলে আপনি অনবরত আদেশই দিয়ে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। অভ্যাসের বশে তখন সবাইকে আদেশ দিতে থাকবেন, যা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

৪। আপনার নিজস্ব কোনো গাড়ি থাকার প্রয়োজন পবে না :আপনার বর্তমান গাড়িটি সময়ের তুলনায় গড়ে ৫ শতাংশ গতি দেয়। যেটি কি না আপনার বিনিয়োগকে শতভাগ ভেস্তে দিচ্ছে। কিন্তু চালকবিহীন গাড়িতে আপনি হয়তো মাইল হিসেব করে বা মাসিক গ্রাহক হিসেবে টাকা দিতে পারবেন। আপনি আপনার দূরত্ব এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে বিল পরিশোধ করবেন এবং গাড়িটি আপনাকে গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাবে। এক্ষেত্রে আপনি কখনোই গুরুত্বপূর্ণ কিছু গাড়িতে রেখে যেতে পারবেন না। এমনকি আপনার জিমের ব্যাগটাও।

 

৫। আপনাকে একাধিক ট্রাফিক সিগন্যালে পতে হবে : যদি আপনি গাড়িতে বসে কাজ করেন অথবা গেম খেলেন তাহলে এটাকে আর সময় অপচয় মনে হবে না। আপনি চাইলে কোনো একা পথচারীকে পৌছে দিতে পারেন কাঙ্ক্ষীত ঠিকানায়।

৬। আপনি অধিক কাজ করবেন : এর ফলে আপনার মধ্যে একটা একগুয়েমি কাজ করতে শুরু করবে। প্রকৃতপক্ষে, টিভি সিরিয়ালের চেয়ে আপনি হাতের কিছু কাজ এগিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করবেন। ফলে ৬ থেকে ১২ শতাংশ চালকবিহীন গাড়ির মালিক মোশন সিকনেসে ভুগতে পারেন। এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে ঘুম। চিকিৎসকরা আপনাকে ভ্রমণের সময়ে ঘুমিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেবেন।

 

৭। গাড়িতে একা ঘুরে বেড়ানোয় কোনো বাধা থাকবে না : আঘাত বা ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে অনেকে গাড়ি চালানো নিরাপদ মনে করেন না। চালকবিহীন গাড়ি সমভাবাপন্ন মানুষের জন্য মঙ্গলময় হবে। এটি একই সঙ্গে বয়স্কদের দীর্ঘসময় স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেবে।

 

এটি কৈশোরেও এনে দিতে পারে রঙের ছটা। কিশোরেরা সহজেই উপযুক্ত সময়ের কিছু আগেই পেয়ে যাবে একা চলার স্বাধীনতা। এর কারণ, তাদের বাবা-মা নিশ্চিত থাকবেন, গাড়িটি অবশ্যই নির্দেশিত গতি মেনে চলবে এবং সন্তানকে সঠিক স্থানেই পৌছে দেবে। অপরদিকে, এর ফলে গাড়ি চালানোর মতো আনন্দদায়ক মুহূর্তগুলো আপনার স্মৃতিতে জায়গা পাবে না।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.