নতুন সাইকেল চালাতে শিখেছে- এমন বাচ্চাদের চাকায় প্লাস্টিক কিংবা কাগজ বেঁধে সাইকেল চালাতে দেখেছেন ? সাইকেল চালানোর সময় চাকার টিনের কাভারে ঐ বস্তুটি লেগে গাড়ির মত আওয়াজ সৃষ্টি করে বলেই তারা এমনটি করে। কিংবা নতুন লেবেল লাগানো সাইকেল চলতে দেখেছেন?

ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, রাস্তার পাশের কাগজের বা টুকরো স্পষ্টই দেখা যায় কিন্তু উপরের অংশটি যেন খুব দ্রুতই পেরিয়ে যায়। এতে করে কি স্বাভাবিকভাবে মনে হয়না যে, নির্ঘাত চাকার উপরের দিকটা নিচের দিকের চেয়ে দ্রুত চলছে। নইলে এমনটা হবে কেন? কিন্তু তা কি করে হয়? আমার ও এই বিষয়টা জানার আগে এমনই মনে হত। আপনি যদি কোন চলমান গাড়ির চাকার স্পোকগুলোও দেখেন তবে দেখবেন, উপরের দিকের স্পোকগুলো সবগুলো মিলে একটার মত দেখাচ্ছে আর নিচেরগুলো আলাদা আলাদা করে চোখে পড়ছে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি !! আসলেই এমনটা ঘটে।

The Slowest Point of Wheel

চিত্র: কাঠি হতে উপরের চাকার A ও B বিন্দু দুটির দূরত্ব কল্পনা করে তুলনা করলে দেখা যায়, চাকার ওপরকার কিনারা নিচের দিকের তুলনায় দ্রুত এগোয়

মূল ব্যাপারটা হল, ঘূর্ণায়মান চাকার উপরের দিকের প্রতিটি বিন্দুর যুগপৎ দুটি গতি বিদ্যমান। এদের দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রিয়া করে। একটি হল, অক্ষদন্ডের উপর পাক খাওয়ার গতি এবং অন্যটি হল অক্ষদন্ডসহ সামনের দিকে অগ্রসর হবার গতি। এই দুই গতির যোগে চাকার উপরের ও নিচের ফলাফল হয় ভিন্ন। উপরের দিকের গতির সাথে চাকার ঘূর্ণনের গতির সাথে তার চলনের গতি যুক্ত হয়, কারণ দুটোরই দিশা এক। চাকার নিচের দিকের দিশা কিন্তু বিপরীতদিকে। তাই চলনের গতি হতে তা বিয়োগ হয়। এজন্যই চাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পেরেলমান এই পরীক্ষাটা খুব সহজেই প্রমাণ করেছেন। একটি নিশ্চল গাড়ির চাকার পাশে অক্ষের বিপরীতে মাটির মধ্যে তিনি একটি লাঠি পুঁতে রাখেন। তারপর একটুকরো চক নিয়ে চাকার একেবার মাথায় ও একেবারে তলার দিকে দুটো দাগ দেন। গাড়িটাকে তিনি ডানদিকের সামান্য ঠেলে দেন যাতে অক্ষটা কাঠি ছেড়ে ২০-৩০ সে.মি. সরে যায়। তিনি লক্ষ্য করে দেখেন যে, A দাগটা নিচের B দাগের চেয়ে অনেক বেশি সরে গেছে। নিচে দাগটা প্রায় যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।

পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে। আর একটা কথা বলব ভাবতেছিলাম। পোস্ট দেওয়ার পর অনেকেরই পোস্ট এর বিষয়টি জানা থাকতে পারে। তাই বলে কখনো কোন পোস্টকে কিংবা যে পোস্ট দেয় তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা না করতে আমি সবাইকে আহ্বান জানাব। জ্ঞানকে কখনো পরিসীমার অংক দিয়ে সমাধান করতে যাবেন না। হিতে বিপরীত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাক্তিগতভাবে আমি যা বুঝতে পারি তাই শেয়ার করার চেষ্টা করি। একটাই উদ্দেশ্য থাকে। সেটা হলো যে জানেনা তাকে জানানো। আশা করি ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন ।

সৌজন্যে : সবার জন্য বই
তথ্য ও ছবি:
Physics for Entertainment- Yakov Perelman
comments

5 কমেন্টস

  1. পোস্টটি ভাল লাগল। বোঝার জন্য হাতে কলমে সাথে সাথে কিছু ক্ষন সময় ব্যয় করলাম… তাতে যা বুঝলাম, এটি আসলে অলৌকিক কোন ব্যাপার না শুধুমাত্র আপেক্ষিক ব্যাপার গুলোর মধ্যে একটি।

    আমার মনে হয়… not sure…
    ১। আপনি যদি শুধুমাত্র চাকার কেন্দ্র কে স্থির মনে করেন তাহলে দেখবেন সবকিছু ঠিক ভাবেই চলছে।
    ২। আমরা আসলে চাকা যে তলে রয়েছে মানে মাটিকে স্থির ধরে দেখলে বিভ্রান্তির সৃস্টি হয়।

    আমার কথাগুলো মেনে নিতে সংশয় থাকলে please একই গতিতে, একই দিকে চলতে থাকা দুটি যানবাহনের যেকোন একটি তে বসে থেকে অপরটির চাকা লক্ষ করলেই সমাধান পেয়ে যাবেন বলে আশা রাখি।
    *** যদিও এটি আমার ধারণা, আমি এখনও কোনটাই প্রতক্ষ করে দেখিনি……

  2. ধন্যবাদ মিশেল ভাই | আমি দেখা বলতে স্রেফ স্থির কাঠামো থেকে গতিশীল চাকাকে বুঝাতে চেয়েছি | আর আপনি যেটা বললেন, তাতে অবশ্যৈ পার্থক্য হবে | কেননা গতিশীল কাঠামো আর জড় কাঠমো থেকে কখনই একই দেখা সম্ভব নয় |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.