ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভার্চুয়াল জগৎ বেশ সরগরম। আমরা অনেকেরই হয়তো ইতোমধ্যে এ সম্পর্কে বেশ ভাল ধারনা রয়েছে। আবার অনেকের মনে হয়তো এই মাত্র প্রশ্ন জেগেছে, কম্পিউটারের সাথে মেঘের সম্পর্কি কি? তাহলে চলুন ঘুরে আসা যাক ক্লাউড কম্পিউটিং এর জগত থেকে।

আমরা বর্তমানে গতানুগতিক পদ্ধতিতে আমাদের পার্সোনাল কম্পিউটারে আমরা প্রথমে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করি, এরপর প্রয়োজনমত আপ্লিকেশন সফটওয়ার ইন্সটল করে তা ব্যবহার করি। আমাদের সকল ডাটাও আমরা আমাদের কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে সেভ করে রাখি।

কিন্তু আমরা যে সফটওয়ার ব্যবহার করি তার জেনুইন ভার্সন কিনতে আমাদের অনেক টাকা খরচ করতে হয়। আবার যেভাবে প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে তার সংগে তাল মিলিয়ে চলাও অনেক কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। আজ core 2 duo বের হচ্ছে তো পরেরদিনই core i 7 বের হচ্ছে ।

সফটওয়ারগুলর উন্নতির সাথে সাথে তার সাথে কম্প্যাটিবল হার্ডওয়ারগুলোর পরিবর্তন করতে হয় যা অনেক ঝামেলার। তাছাড়া প্রতিটি  কম্পিউটারেরই ডাটা স্টোরেজ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। এতসব সমস্যার সমাধানের জন্যই Cloud computing এর আবির্ভাব।

Cloud Computing –এ আপনার পার্সোনাল কম্পিউটার বলে কিছু থাকবেনা। তার বদলে থাকবে আজকের ipad এর মত smart pad or special netbook or smart phone যাতে শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেম এবং নেট কানেকশান থাকবে। আর আপনার সকল ডাটা,গান,মুভি সবকিছু সার্ভার কম্পিউটারে আপনার account এ থাকবে যেখান থেকে আপনি নেট এর মাধ্যমে আপনার smart pad ব্যবহার করে সবকাজ করতে পারবেন। কাজ শেষ করার পর আপনার কাজ আবার সেই সার্ভারেই সেভ করতে হবে। আপনাকে আর আলাদাভাবে সফটওয়ার ইন্সটল করতে হবেনা।সার্ভারে ইন্সটল করা সফটওয়ার ব্যবহার করেই আপনি কাজ সারতে পারবেন।আসল কথা হচ্ছে আপনি যেকোন নেট কানেকটেড ডিভাইস দিয়ে আপনার সকল কাজ করতে পারবেন।

আসুন এক ঝলকে এর সুবিধার দিকে তাকাইঃ

১. যেকোন smart pad or phone ব্যবহার করে দুনিয়ার যেকোন জায়গা থেকে আপনার ডাটাগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

২. সফটওয়ার ইন্সটল করতে হবেনা।

৩. হার্ডওয়ার আপগ্রেড করতে হবে না ।

৪. Cloud Computing এর সাথে যুক্ত সকলেই একই সু্যোগ সুবিধা পাবে।অর্থাৎ আপনার আছে Celeron আর আরেকজনের আছে core i7 –এই বলে আর আফসোস করতে হবে না।

৫. আপনি যদি করপোরেট ক্রেতা হন তাহলে আপনাকে নানা computer accessories কেনার জন্য অযথা টাকা খরচ করতে হবে না। অর্থাৎ আপনার যদি সার্ভারের দরকার হয় তাহলে সার্ভার না কিনেই Cloud server দিয়ে আপনার কাজ করতে পারবেন।

৬. পারফরমেন্স নিয়েও চিন্তা বাদ।

৭. আনলিমিটেড ডাটা স্টোরেজের সুবিধা।                                                                                                                  

৮. গেমসও খেলতে পারবেন ইচ্ছামত।

নিশ্চয়ই ভাবছেন বাহ!! এতো সুবিধা!

কিন্তু আসলেই কি  Cloud computing এত সহজে বর্তমান ব্যবস্থাকে বাতিল করতে পারবে??

উত্তর- না ।

আসুন এবার সমস্যাগুলোর দিকে তাকাই……………

Cloud computing এর জন্য যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দরকার তা হল হাই স্পিড ইন্টারনেট কানেকশান।আমাদের ইন্টারনেটের স্পিডের কথা মনে হলেই  Cloud computing এর স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন বলে মনে হয়!!! এটা আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য একটা বড় বাধা হবে। ইন্টারনেট চালাতে ISP  দের প্রতিমাসে যে টাকা দিতে হবে সেটা বিবেচনা করলেও অনেকেই Cloud computing  এর সুবিধা নিতে আগ্রহী হবে না।

আরেকটা বড় সমস্যা হ্যাকিং এবং সিকিউরিটির অভাব। এটি বর্তমানে  সারা  বিশ্বের সকল টেক জায়ান্টদের মাথা ব্যাথার কারণ। সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও হ্যাকারদের দমান যাচ্ছে না।এই সমস্যার সমাধান না হলে কেউই সার্ভারে ডাটা রাখতে চাইবেনা, Cloud computing ও মুখ থুবড়ে পড়বে।

খরচও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিবে। যারা সার্ভিসটি দিবে তারা নিশ্চয়ই বিনামূল্যে সুবিধা দিবে না। সার্ভিস চার্জ থাকবে। আবার ইন্টারনেট কানেকশান এর জন্য ISP দেরও চার্জ দিতে হবে। সবমিলিয়ে খরচ বেশ ভালই হবে মনে হয়। সার্ভিস চার্জ  বেশি হলে সাধারন ব্যবহারকারীরা আকৃষ্ট হবেনা।হার্ডওয়ারের দামও ধীরে ধীরে কমে আসছে,এখেত্রে ব্যবহারকারীরা Cloud computing এর সুবিধা নিতে চাইবে বলে মনে হয়না।

আবার সারা দুনিয়ার সকল মানুষদের ডাটা স্টোরেজ ও আদান প্রদানের সক্ষমতা আমাদের নেটওয়ার্কের এবং সার্ভারের আছে নাকি তাও দেখতে হবে।

পরিবেশও একটা বড় ইস্যু হতে পারে।

অনেকেই মনে করেন Cloud computing এর ধারনা আসলে নতুন কিছু না। বর্তমান সিস্টেমও Cloud computing এর মতই ।কারণ আমাদের অনেক ডাটাই এখন সার্ভারে রাখা হচ্ছে।যেমন-ইমেইল,ছবি।   কাজেই তাদের ভাষায় Cloud computing হল নতুন মোড়কে পুরোন মাল!!!

নিশ্চয়ই আপনার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে। যাই হোক, ব্যাপার না । Cloud computing এর ভবিষ্যৎ কি হবে তা জানার জন্য আর হয়ত কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।তবে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কি করবে বলা যাচ্ছে না,কিন্তু করপোরেট গ্রাহকরা এটা লুফে নিবে,কারন এতে তাদের খরচ তুলনামুলক ভাবে অনেক কমে যাবে।

আশা করি সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এখন খালি অপেক্ষা।

ভাল থাকবেন। অবশ্যই মতামত দিবেন আর CLOUD COMPUTING সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা থাকলে জানাবেন।

 

comments

7 কমেন্টস

  1. ব্যাপারটা সম্পকে এত ভাল করে জানতাম না আগে। সুন্দর সবলীল লেখা……
    ধন্যবাদ……………

  2. অসাধারন লিখেছেন আকাশ ভাই । আসলেই, আমাদের মতন তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য এটা স্বপ্নই থেকে যাবে। কেননা আমাদের দেশের ইন্টারনেট স্পীড খুব বড় একটা বাধা। তবে আমার মনে হয়, যদি আমাদের দেশের মধ্যে একটি ক্লাউড করা যায়, তবে অনেক ঝামেলাই মিটে যাবে। আপনার কি মনে হয় ?

    • অবশ্যই হাশেম ভাই , অনেক সমস্যাই মিটে যাবে। আসলে ক্লাউড কম্পিউটিং এখনো গবেষণার পর্যায়ে আছে,কি হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। তবে কোন সমস্যাই সমস্যা না ।আশা করি আমাদের কথাও চিন্তা করবে।:-D

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.