স্লিপ ওয়াকিং ডিজিজে সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট

বটতলায় যে মানুষটি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে, তাকে দেখে চোখ লাল করে থাকা কেউ একজন হিংসে করতেই পারে। আর করবে নাই বা কেন বলুন? সারারাত নির্ঘুম জেগে থাকার যে কষ্ট, তা তো আর বটতলার এই ঘর্মাক্ত মানুষটি জানে না। কিন্তু তারপরও কিছু একটা কিন্তু থেকেই যায়। আসলে না ঘুমানোর কারণটা কি হতে পারে? মানসিক কোন রোগ নাকি কোন রহস্য? আসুন আজ জেনে নিই ঘুমের কিছু মানসিক রোগ। গত পর্বে আপনাদের দেয়া হয়েছিল স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম ও নাইটমেয়ার ডিজঅর্ডার। আজ দেয়া হল আরো নতুন দুটি স্লিপ অর্ডার ডিজিজঃ

৩) স্লিপ ওয়াকিং ডিজঅর্ডারঃ 

স্লিপ ওয়াকিং ডিজিজ ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
স্লিপ ওয়াকিং ডিজিজ
ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫ শতাংশ মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে যান এবং ঘরের আশেপাশে ঘুরতে শুরু করেন। এই ঘোরাটা সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অনবগত এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি আরো বেশি। বিজ্ঞানীরা এখনো এটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন যে ঠিক কোন কারণে মানুষ মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে আপনমনে হাঁটা শুরু করে, তবে তাদের ধারণা সারাদিনের ক্লান্তি এবং ভেঙ্গে যাওয়া ঘুম স্লিপ ওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে হাঁটা রোগের প্রধান কারণ।
বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ এটি জিনগত কারণেও হতে পারে। কারো পরিবারে যদি এমন কোন রোগী থাকে যারা ঘুমের মধ্যে হাঁটেন, তবে সে পরিবারে এই রোগী বেড়ে যাবার সম্ভাবনা আরো বেশি বেড়ে যায়।

স্লিপ ওয়াকিং এর রোগীরা এমনভাবে হাঁটাচলা করেন যেন তাদের সামনে কিছু নেই। সাধারণ মানুষের মতই তারা চলাচল করেন। তবে একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এই রোগের রোগীদের সবচেয়ে মারাত্মক যে সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হচ্ছে বারান্দার কার্নিশে উঠে যাওয়া কিংবা ছাদের কিনারায় চলে যাওয়া। এর ফলে মৃত্যুও ঘটে অনেক ক্ষেত্রে।

 

৪) মস্তক বিস্ফোরণ (হেড এক্সপ্লোডিং সিনড্রোম): 

মাথায় কি প্রচন্ড শব্দ হচ্ছে?  ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট
মাথায় কি প্রচন্ড শব্দ হচ্ছে?
ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট

ধরুন, আপনি ঘুমিয়ে আছেন। এমন সময় মাথার ভেতর শোঁ শোঁ একটি শব্দ শুরু হল। আস্তে আস্তে শব্দটি বেড়েই চলেছে। সারা মাথায় ছড়িয়ে পরছে শব্দটি। ঘুমের মাঝেই আপনি আপনার মাথা আঁকড়ে ধরলেন, যেন খুলিটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

আপনার মনে হতে পারে এটি একটি ভূতের ছবির গল্প কিন্তু, না। বাস্তবে এমনটি হয় এবং একটি এক ধরণের রোগ। আমাদের মস্তিষ্কে যখন অক্সিজেনের অভাব হয় কিংবা প্রচন্ড দুশ্চিন্তায় আমরা থাকি, তখন সারাদিনের কাজের চাপ একসাথে মাথায় এসে ভিড় করে। এর ফলে মাথায় নানা ধরণের শব্দের আনাগোনা শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা এটির নাম দিয়েছেন মস্তক বিস্ফোরণ বা হেড এক্সপ্লোডিং সিনড্রোম।

(চলবে)

 

সূত্রঃ লাইভ সাইন্স

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.