গেম খেলতে কে না ভালবাসে? সবাই বিনোদনের জন্য কম বেশি গেম খেলে, আমিও খেলি। ছোটবেলায় আমার এক বড় আপুর বাসায় নিয়মিত যেতাম কারণ ওনার একটা পেন্টিয়াম ১ কম্পিউটার ছিল যেইটায় উনি টুম্ব রেইডার খেলতেন। উনি সকাল বিকাল গেমটা খেলতেন আর আমি তন্ময়ের মত ওনার খেলা দেখতাম। আমি ভাবতাম, উনি অত কঠিন একটা গেম কিভাবে খেলতেন? যাই হোক এ তো বহুদিন আগের কথা, বস্তুত এখনের গেম আজ থেকে ১০ বছর আগের গেমের চেয়ে ১০ গুণ জটিল হয়ে গেছে। এখন আমি যাদের গেমিং দেখি তাদের কাছে ওই আপুর কৃতিত্ব সেই ১৯৫৩ সালেই তুলোধুনো হয়ে গেছে (অবশ্যই এই কথাটা আমার আপুকে ছোট করার জন্য বলিনি)। বর্তমান গেমারদের গেমিং দেখে যদিও আমার গেমের দক্ষতার চার আনারও উন্নতি হয়নাই, তাও অনেক অজানা বিষয় সম্বন্ধে জানলাম এবং মূলত যেই বিষয়টা জানলাম তা হল গেমিং হল পুরোদস্তুর কৌশলের খেলা। আমার ক্ষুদ্র পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে আমি গেমিং এর যে সকল কৌশল ও দক্ষতার বেপারে জানলাম সেগুলোই আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

আমার কাছে খারাপ লাগে আজকালের অনেক মানুষই গেমিং কে “বাঁ হাতের খেইল” মনে করে। গেমিং মোটেও বাঁ হাতের খেল না, বরং তা মাঝেমধ্যে বাস্তবের চেয়েও হাজার গুণ কঠিন। আজ থেকে এক যুগ আগেও গেম খুব বেশি খেলা হত না এবং এত ধরণের গেমও তখন ছিল না, কিন্তু বর্তমানে গেমও যেমন অসংখ্য গেমিং ও তত কঠিন এবং বাস্তব। বিশেষত ফিফা, এনএফএস, গ্রিড, কল অফ ডিউটি, রেড ডেড রিডেম্পটন, জিটিএ ইত্যাদি বহুল জনপ্রিয় গেমের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে এত বেশি জটিল করে তৈরি করা হচ্ছে যে এখন কম্পিউটারকে হারাতেও ভয়াবহ মাত্রার কৌশল অবলম্বন করতে হয়। বিশেষত ডিটেকটিভ লেভেলের গেম খেলতে হলে পুরোদস্তুর ডিটেক্টিভের মতই কৌশলী-বুদ্ধিমান হতে হয়। আর এখনের গেমগুলোও অনেক বড় হয় তাই গেমগুলোকে শেষ করতেও অনেক ধৈর্য থাকতে হয়। আবার বারংবার হারের কষ্ট সহ্য করার মত মানসিক শক্তিও থাকতে হয়। তাই আপাতদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষন করলেও ভাল গেমার হওয়ার কিছু কৌশল পাওয়া যায়, অন্তত নিচের গুণ ও কৌশলগুলো মাথায় আসে। আমার মতে ভাল গেমার হতে অন্তত এ গুণ আর কৌশলগুলো উপস্থিত থাকতে হবে।

আত্ববিশ্বাসঃ আমার মনে হয় ভাল গেমার হতে শুধু আত্ববিশ্বাস থাকলেই হয় কারণ এইটা এমন এক শক্তি যেইতা একজনকে শূণ্য থেকে অসীম বানিয়ে দেয়। আমি এই গেম অবশ্যই ভালভাবে খেলতে পারব এইরকম আত্ববিশ্বাস থাকলে তবেই একজন হবে ভাল গেমার, তা যদি ১০ বছর পরেও হয় তাও সে একদিন না একদিন ভাল গেমার হবেই।

অনুশীলনঃ অনুশীলন ছাড়া মানুষ কোন কাজেই সাফল্য পায়না, সুতরাং গেমিং এও পাবেনা। প্রচুর অনুশীলন একজনকে দক্ষ গেমার হিসেবে গড়ে তুলবে, আর অনুশীলনের কমতি একজন ভাল গেমারকেও হার এনে দিবে। ওই যে কথায় বলেনা? –“Practice makes a man perfect”

ধৈর্য্যঃ গেম সফলভাবে খেলতে হলে ধৈর্য্য থাকা লাগে। বিশেষত একশন, স্ট্রাটেজি এবং রেসিং গেমে প্রচুর ধৈর্য্য থাকতে হয়, নাহলে প্রচুর ভুল হয় যা হারের দিকেই নিয়ে যায়।

ক্ষীপ্রতাঃ মোটামুটি সব গেমেই ক্ষীপ্রতা বিষয়টা দরকার। শুটিং গেমে মূলত ক্ষীপ্রতা বিষয়টা জরুরি, কারণ এখানে চোখের পলকে নিখুঁত শ্যুট করার বিষয় রয়েছে।

দুরদৃষ্টিঃ একজন গেমারের দুরদৃষ্টি থাকা বাঞ্ছনীয়। রেসিং গেমে গেমারের বর্তমান পজিশনে গাড়ি কোন দিকে যেতে পারে, অর্থাৎ গাড়ি সামনের কোথাও ধাক্কা খাবে কিনা বা রাস্তার কোথায় থাকবে তা গেমারের মাথাতে আগে থেকেই আসতে হবে।

হার মেনে নেয়ার ক্ষমতাঃ অনেককেই দেখা যায় গেমের কোথাও আটকে গেলে বা বারবার হারতে থাকলে গেম কঠিন বা গেম ফালতু ইত্যাদি বলে আর গেম খেলেননা। কিন্তু ভাল গেমার হতে হলে অবশ্যই এই মনোবৃত্তি ত্যাগ করতে হবে এবং হার মেনে নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।

উন্নতির আশাঃ আপনি অবশ্যই ভাল গেমার হবেন- এই আশা অবশ্যই থাকতে হবে। অনেকের মধ্যে এই মনোভাব আছে- “ভাই আমি পারবনা” বা “আমাকে দিয়ে এইগুলা হবেনা”… কিন্তু এই মনোভাব থাকলে আপনি হয়ত ভাল গেমার হলেও হতে পারেন, কিন্তু এই দক্ষতাকে কখনো কাজে লাগাতে পারবেননা।

গেমিং এর প্রতি সম্মানঃ গেমিং ছেলেখেলা- এইরকম মনোভাব থাকলে আপনার গেমার হওয়াই উচিৎ না, কারণ তার মানে আপনার গেমিং এর প্রতি জন্মগত বা বংশগত কোন শত্রুতা আছে। গেমার হতে হলে এই ধারণা পাল্টাতে হবে, নাহলে বুঝবেন না যে গেমিং মাধেমধ্যে বাস্তবের চেয়েও কঠিন।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাঃ ভাল গেমার হতে হলে, বিশেষত স্পোর্টস গেমগুলোতে আপনার  ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের খমতা থাকতে হবে। যেমন- সামনে থেকে একজন ফুটবল নিয়ে আসছে, তাকে বোকা বানিয়ে কিভাবে বলটি ছিনিয়ে নিবেন এই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনি কম সময়ই পাবেন, তাই আপনাকে নিতে হবে ত্বরিত সিদ্ধান্ত।

মাউস এবং কীবোর্ডের উপর ভাল জ্ঞান ও দক্ষতাঃ গেমিং এর জন্য ভাল কীবোর্ড ও মাউসের ব্যবহার জানতে হয়। আবার কোন কীবোর্ড-মাউস গেমের জন্য ভাল, অথবা আদৌ ভাল কিনা, নাকি গেম কন্ট্রোলার ভাল ইত্যাদি ধারণা গেমারের থাকতে হবে, আর ধারণা না থাকলে জেনে নিতে হবে।

সুস্থ্যতাঃ সুস্থ্যভাবে গেম খেলা এবং না খেলার মধ্যে প্রচুর তফাত রয়েছে। সুস্থ্য না থাকলে সময়মত রেসপন্স দেয়া যায়না, তাই গেমপ্লেও বাজে হয়।

নিজের কৃতিত্বের চেয়ে অন্যের কৃতিত্বকে বড় করে দেখাঃ আমি যা করলাম অন্য কেউ এটা পারবে না এই কথাটা অন্তত গেমিং এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রতিনিয়ত বিশ্বের আনাচে কানাচে গেমাররা একে অন্যের রেকর্ড অনবরত ভেঙ্গে যাচ্ছেন। তাই যদি আপনি রেকর্ড করার পর ভাবেন আপনার মত কেউ নেই তাহলে মনে রাখবেন, কেউ না কেউ হয়ত কালকে আপনার রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলবেই। তাই অন্যদের কৃতিত্বকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আপনার জয়যাত্রা চালিয়ে যান, কে জানে হয়ত আপনি তত দিনে দুর্জয় হয়ে গিয়েছেন।

বুদ্ধি এবং গাণিতিক দক্ষতাঃ বর্তমান গেমগুলি আসলে বুদ্ধির আর পরিমাপেরই খেলা। গাড়ির হ্যান্ডব্রেক কষলেন, এখন গাড়িটা রাস্তার উপরে কিভাবে স্লাইড করবে এবং স্লাইড করে কোথায় যাবে তা মাপজোঁক করে বের করতে একটু জ্যামিতিক জ্ঞান ত থাকা লাগেই।

এইগুলো ছাড়াও আরও অনেক বিষয়ই আছে কিন্তু আমার নিতান্ত অপারগতার কারণেই সেগুলো আপনাদের কাছে পৌছাতে পারলাম না। কিন্তু extra-ordinary গেমার হতে অবশ্যই extra-ordinary’ই হতে হবে, এই জিনিসটা মাথায় রাখবেন। আমরা আরো নতুন ও দক্ষ গেমার দেখার প্রতীক্ষায় থাকলাম।

comments

35 কমেন্টস

  1. সানি ভাইয়া,
    আপনি কি এ্যাসাসিন ক্রীড ১ গেমটি শেষ করেছেন? করলে আমাকে জানান। কারণ, আমি একটা যায়গায় গিয়ে আঁকটে যায়। তারপর আর কি করবো বুঝতেই পারি না।

        • অ্যাসাসিন ক্রীড ১,২ সবই খেলা আছে… কোথায় আটকে গেছেন??

          • হা হা হা। মাশাল্লাহ গেমস টা প্রচুর বড় বানাইছে। চিন্তা করবেন না একটা শহর এ গিয়া এক মেয়ে চোরের সাথে দেখা হবে। 😛

          • Honestly..আমি “Fantasy”/”Magic”…এই genre’র গেম মোটেই পছন্দ করি না। Any that’s why, I never even attempt them. I play games that has some “reality” in them, such as, Call of Duty, Need For Speed, Uncharted, Grand Theft Auto – I hope my choice of games back me up in my previous statement. “Assassin’s Creed” কি এতটাই ভালো?…প্লিজ জানাবেন ভাইয়ারা। আপনারা recommend করলে নিশ্চই ট্রাই করব।

  2. ব্রাদার, 1998 এর টুম্ব রেইডার 2 আজকের এ্যাসাসিন ক্রীড 2 থেকে অনেক অনেক বেশি কঠিন আর জটিল। ইচ্ছা হলে খেলে শেষ করুন…

    “এখনের গেম আজ থেকে ১০ বছর আগের গেমের চেয়ে ১০ গুণ জটিল হয়ে গেছে” লাইনটা পুরোপুরিই ভুল বললেন

    • ভাই আমি তো ‘জটিল’ বলেছি, ‘কঠিন’ তো আর বলিনাই। দেখুন তখনের টুম্ব রেইডারের চেয়ে এখনের টুম্ব রেইডার গ্রাফিক্যালি, গেমপ্লে, ইন্টেলিজেন্স সব দিক থেকেই জটিল। এখন টুম্ব রেইডারে গ্র্যাপল, রোপ ক্লাইম্বিং, কর্নারড জাম্পিং, গ্র্যাপল দিয়ে লিভার বা পাথর টানা, কোন প্রাণী আক্রমণ করলে বা ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে দ্রুত উঠার বাটন আছে যেগুলো তখন ছিলনা, এবং এসব কন্ট্রোল গেমে প্রায় জায়গাতেই ব্যবহৃত হয়। আশা করি আমার পয়েন্টটা বুঝাতে পেরেছি।

  3. AC 1 খেলছি।।কারন আগে খেলা হয়নি।তবে আটকানর মত জটিল গেম মনে হয়নি।ac2 কিনে রেখেছি…এতা শেষ হলেই ওটা শুরু করব।

  4. ভালো লিখেছেন কিন্তু লিড-ইনে বাস্তবের চেয়ে হাজারগুণ কঠিন কথাটা ভুল বলেছেন। গেম কখনোই বাস্তবের চেয়ে কোনো অংশে কঠিন হতে পারে না।

  5. দক্ষ গেমার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আপনার এই টিপস গুলো নতুন দের কাজে লাগবে। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্যে।

  6. Saboteur শেষ করলাম দুইদিন আগে…গেমটা জোস…আরো কিছু ঘষা-মাজা করলে ভাল হইত…EA’র পাগলামী স্বভাব যে কবে যাইব কে জানে!

  7. আপনি বোধ করি রেসিং গেম বেশী পছন্দ করেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.