গ্রীন হাউজ ইফেক্ট সম্পর্কে জানেন? এই জায়গায় বসে এই ধরনের প্রশ্ন করাটা আমার মনে হয় নিখাদ বোকামি। আজকাল এই ব্যাপারে জানেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াটা কষ্টকর। বেশিরভাগ মানুষই পরিবেশ রক্ষায় আজ অনেকটা সচেতন। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ এই গ্রীন হাউজ ইফেক্ট।

সকলেই জানি, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বনাঞ্চল ধ্বংস প্রভৃতি কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। আর এই কার্বন ডাই অক্সাইড আমাদের পরিমন্ডলকে ঘিরে রাখা ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে সূর্য হতে আগত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি সরাসরি আমাদের পৃথিবীতে পৌঁছে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নানা ধরণের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সোজা কথায় বলতে গেলে এটিই গ্রীন হাউজ ইফেক্ট।

গ্রীন হাউজের দৃশ্যকল্প...

কেউ কি জানেন এই থিওরির প্রবক্তা কে? ভেন্টে আরহেনিয়াস! যিনি ইলেক্ট্রন জোড় দান-গ্রহণের তত্ত্ব দিয়ে অম্ল-ক্ষারকের সংজ্ঞা দিয়েছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের রসায়ন পাঠ্যবইয়ে প্রথম জানি আরহেনিয়াসকে।

এই আরহেনিয়াসই ১৮৯৬ সালে তিনিই প্রথম বরফযুগ বা আইস এজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের এই ক্রমাগত বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন। আরহেনিয়াস আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ও বাষ্পের শোষণ নিয়ে আরো কয়েকজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে কাজ করছিলেন তখন। স্টিফেন বোল্টজম্যানের সূত্র ব্যবহার করে তিনি তাঁর গ্রীন হাউজ মতবাদটি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর এই সূত্রটি হলো,

‘If the quantity of carbonic acid increases in geometric progression, the augmentation of the temperature will increase nearly in arithmetic progression.’

গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে,

ΔF = α ln(C/C0)

C0 mens C0(subscript)

বলা বাহুল্য, তিনিই প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে জীবাশ্ম জ্বালানি হতে কার্বন ডাই অক্সাইডের এই অবিরত নির্গমনই একদিন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ হবে। এর আগ পর্যন্ত সার্বিয়ান গণিতবিদ ও নির্মাণ প্রকৌশলী মিলাটিন মিলানকভিচ এর পৃথিবীর অরবিটাল পরিবর্তনের মতবাদ প্রচলিত থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অর্থাৎ গ্রীন হাউজ মতবাদ নিয়ে ভাবার মত প্রমাণ পান নি। আরহেনিয়াস আরো বলেছিলেন যে কার্বন ডাই অক্সাইডের উত্থান যদি অর্ধেকও নামানো যায় তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪-৫°C করে কমবে এবং দ্বিগুণ কার্বন ডাই অক্সাইড ৫-৬°C করে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ হবে।

২০০৭ সালে IPCC (ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেইঞ্জ) একটি বিবৃতি প্রদান করেন যাতে ২-৪.৫°C উষ্ণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ আছে। ২০০৭ সালেই যদি আরহেনিয়াসের করা ভবিষ্যদ্বাণী ফলে যায় তবে ২০১১ কিংবা তাঁর পরবর্তী সময়ে কি হবে তা বের করার চেষ্টা করবেন কি?

তথ্যসূত্র:

1. উইকিপিডিয়া
2. Fellow of the month – Arrhenius

comments

4 কমেন্টস

  1. গ্রীন হাউজ আনেক আগে পড়ছিলাম মনে করিযে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ

  2. উষ্ণতা ও কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধির কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে তার উন্নয়নশিল দেশ সমুহ। আর তাই সচেতন হওয়া জরুরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.