“ফরমালিন” নামটা এখন আর কারোর অপরিচিত থাকার কথা না। কমবেশী সবাই এখন ফরমালিন সম্বদ্ধে জানেন। “ফরমালিন” মানব দেহে যে কি পরিমাণ ক্ষতি করে তা জানা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে পরে প্রায় প্রতিনিয়ত খাবারে এই বিষ মেশাচ্ছে। এতে করে তাঁরা লাভবান হলেও আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তারা মারাত্মক শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ফরমালিন মেশান হয় মূলত খাবারের পচন রোধ করার জন্য। যেমন, কাঁচা তরকারি, ফলমূল, মাছ ইত্যাদিতে। খাবারে ফরমালিনের উপাদান খালি চোখে বা খুব সহজে ধরতে না পারার কারনে আমরা খুব সহজে এটি খেয়ে নিচ্ছি। ফলে আমাদের শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা রকমের সমস্যা।

Abu-shufian...-68

মানব দেহে ফরমালিন গ্রহনের পার্স প্রতিক্রিয়া খুব দ্রুত দেখা যায়না। এটি ধিরে ধিরে মানব দেহের ক্ষতি সাধন করে এবং এক পর্যায়ে প্রায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। কি হবে যদি আপনি নিয়মিত ফরমালিন যুক্ত খাবার তবে?

  • এটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ক্ষতি তো করেই পাশাপাশি বাচ্চাদের গ্রধ নষ্ট করে দেয়। বাচ্চাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার জন্য এটি একাই যথেষ্ট। কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা। আমরা প্রিতিনিয়ত বাচ্চাদের দুধ সহ নানা রকমের ফলমূল খেতে দিচ্ছি, আর সেই শুজগে তাদের শরীরে ঢুকে যাচ্ছে এটি।
  • গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে ও প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।
  • বৃক্ক, যকৃত, ফুলকা ও পাকস্থলী সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। লিভারেও সমস্যা হতে পারে । দেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
  • ফরমালিনের “ফরমালডিহাইড” চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে দেয় ফলে মানুষ চোখে কম দেখা শুরু করে এবং ধিরে ধিরে অন্ধ হয়ে যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশী ইফেক্ট করে। এখন অনেক শিশুই জন্মগ্রহণ করে তাদের চোখের সমস্যা নিয়ে।
  • এটি মানব দেহের অস্থিমজ্জাকে আক্রান্ত করে ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে।
  • তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে।

 

এবার শুনি কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে খাবার থেকে ফরমালিন দূর করতে হয়-

  • মাছের শরীর থেকে ফরমালিন দূর করতে মাছটি অন্তত ১ ঘণ্টা ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরিক্ষায় দেখা গিয়েছে এতে করে মাছের শরীরে যে ফরমালিন থাকে সেটি প্রায় ৬১% কমে গেছে।
    আরও একটি কার্যকর উপায় হল মাছটি রান্না করার আগে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা লবন পানিতে ডুবিয়ে রাখা, এতে করে মাছের ফরমালিনের পরিমাণ প্রায় ৯০% কমে যাবে।
    আরও একটি কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, আপনি যখন চাউল ধুবেন এবং প্রথম বার চাউল ধোবার সময় যে পানি বের হবে সেটি দিয়ে প্রথমে মাছটি ধুয়ে নিন এরপর আবার সাধারণ কলের পানি দিয়ে ধুবেন। দেখবেন এতে করে প্রায় ৭০% ফরমালিন দূর হয়ে যাবে।
  • কোন ফলমূল খাবার আগে সেটি হালকা গরম এবং লবন মিশ্রিত পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে ফরমালিনের পরিমাণ প্রায় ৯৮% ভাগ দূর হবে (পরিক্ষিত)।
  • আমাদের দেশে এখন শুঁটকি মাছেও প্রচুর পরিমানে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে। শুঁটকি মাছ থেকে ফরমালিন দূর করতে ঠিক একই রকম পন্থা অবলম্বম করবেন। প্রথমে ১ ঘণ্টা লবন মিশ্রিত হালকা গরম পানিতে পরে ১০ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ফরমালিন তো দূর হবেই পাশাপাশি মাছের স্বাদও বাড়বে।
  • অনেক সময় ফলমুলে বিশেষ করে আম, লিচুতে স্প্রে করার মাধ্যমে ফরমালিন দেয়া হয়। সেজন্য গাড় বা উজ্জল রঙের ফল কেনা থেকে বিরত থাকুন।
  • খাবার বা ফলমূল থেকে ফরমালিন দূর করার সব থেকে কার্যকরী উপাদান হল ভিনেগার। প্রথমে এক লিটার পানিতে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে নিন। মিশ্রিত পানিতে শাকসবজি, ফলমুল কিংবা মাছ ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। ব্যাস! এই পদ্ধতিতে খাদ্য দ্রব্য থেকে প্রায় ৯৮% ফরমালিন দূর করা সম্ভব।

 

আপনাদের সুস্থতা কামনা করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার নতুন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে আশা করি।

 

সূত্রঃ ইন্টারনেট

comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.