মালভিকা রাজ যোশী

পুরো নাম মালভিকা রাজ যোশী। বয়স মাত্র ১৭। আর এইটুকু বয় সেই অবাক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে সে। মাত্র ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েই আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি  তে পড়ার সুযোগ পেয়েছে সে। মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাসের সনদ তাঁর নেই।অথচ তিনিই এখন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) শিক্ষার্থী! স্কুলের গণ্ডি না পেরোলে কী হবে,পরপর তিনবার আন্তর্জাতিক ইনফর মেটিকস অলিম্পিয়া ডে পদক পেয়েছেন এই মেধাবী।

যার মধ্যে আছে দুটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক। কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে তিনি কতটা ঝানু,তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। এ ছাড়া গণিত,পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও রয়েছে তাঁর সাফল্য। এমআইটি কর্তৃপক্ষ এই গুণটি ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করেছে। এমআইটিতে তাই মালবিকা কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। মালবিকার বাবা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ করেন। গত চার বছর ধরে পুরোপুরিভাবে মেয়ের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী তারা। ক্লাস টেন বা টুয়েলভ পাসের কোন সার্টিফিকেট না থাকায় সুযোগ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়-তে। কিন্তু,তাতে স্বপ্নপূরণে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। আর এমআইটির-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও ডিগ্রীর থেকে মেধাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তাই মালবিকাকে এমআইটি  বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।এর আগে অবশ্য চেন্নাই ম্যাথামেটিক্যাল ইনস্টিটিউটে সুযোগ হয়েছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমআইটি -কেই বেছে নেয় সে। শুরুর লড়াইটা এতটা মসৃণ ছিল না মালবিকার। মা সুপ্রিয়া দেবী ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছিল তার। প্রথমে মেয়ের স্কুল ছাড়ার চিন্তাভাবনায় আপত্তি ছিল বাবার। কিন্তু,বেশ কালঘাম ছুটিয়েই বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হন মালবিকার মা।

মেয়ের যে প্রথাগত বিদ্যার চেয়ে প্রকৃত শিক্ষার বেশি প্রয়োজন,তা বুঝতে পেরেছিলেন মা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে মালবিকার ভাল লেগে যায় কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়টি। মালবিকা মুম্বাইয়ের দাদার পারসি ইয়ুথ অ্যাসেম্বলি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। সে সময় অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মালবিকার মা সুপ্রিয়া। ক্যান্সার নিয়ে কাজ করছে,এমন একটি বেসরকারী সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। সুপ্রিয়া বলেন,‘অষ্টম-নবম শ্রেণীপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের আমি ক্যান্সার আক্রান্ত হতে দেখেছি। এত অল্প বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়াটা আমাকে খুব প্রভাবিত করল। তাই চেয়েছিলাম,আমার মেয়েরা সুখী হোক।’ ক্লাসের নম্বর নয়,মেয়ের জন্য সুপ্রিয়া সুখটাই চেয়েছিলেন।

তাই স্বামী রাজের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করে মালবিকা আর তাঁর ছোট বোন রাধা দুই মেয়েকেই স্কুল থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন তিনি। সুপ্রিয়া চেয়েছিলেন,মেয়েদের যা ভালো লাগে,ওরা তাই করুক। চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাসায় তিনি মেয়েদের পড়ানো শুরু করলেন। খুঁজে বের করলেন,মালবিকার আগ্রহের বিষয় মূলত প্রোগ্রামিং। তবে তা-ই হোক! দিন-রাত প্রোগ্রামিং নিয়েই পড়ে থাকতে লাগলেন মালবিকা। নম্বরের জন্য নয়,নিজের আগ্রহ থেকে। সুযোগ এসে যায় প্রোগ্রামিং অলিম্পিয়া ডে তে যোগ দেয়ার। সেখানেই বাজিমাত করল মালবিকা।এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া। তার জীবনে নতুন দিশা দেখাবে বলে আশাবাদী প্রতিভাবান কিশোরীরাও।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.