আধুনিক প্রযুক্তির অনন্য সংযোজন মনুষ্যবিহীন যান ড্রোন। এতোদিন প্রতিপক্ষ দেশের আকাশসীমায় গুপ্তচরবৃত্তি, নিজ দেশের আকাশসীমা পাহারা দেওয়া, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, শত্রুদের বেতার ও রাডার সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটানো, আড়ি পেতে তথ্য সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে ছোটখাটো অনেক কাজ করে আসছিল ড্রোন। কিন্তু এবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) একটি গবেষকদল কৃষি জমিতে কীটনাশক ছিটানোর জন্য বিশেষ ড্রোন তৈরি করেছে।

দলের প্রধান গবেষক ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। সঙ্গে রয়েছেন সহকারী গবেষক একই ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. তারিক হাসান ও সহকারী গবেষক ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের ছাত্র কাজী মাহমুদ হাসান

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা বিশ্বিবিদ্যালয় খেলার মাঠে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী ড্রোনের সফল উড্ডয়ন করানো হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে ড্রোনটি তৈরি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ৮০ ফুট উচ্চতা দিয়ে উড্ডয়ন করে ড্রোনটি কীভাবে কৃষি জমিতে কীটনাশক ছিটাবে তা দেখানো হয়। এছাড়া উঁচুতে আম গাছে বা অন্য ফলজ গাছেও প্রয়োজনে কীটনাশক ছিটাতে পারবে এটি।

ড. মো. শামীম আহসান বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ড্রোনটি তৈরি ও উড্ডয়ন করা হয়েছে। ড্রোনের গতি ঘণ্টায় ৩৮ কিলোমিটার। প্রতি মিনিটে পাঁচ কাটা জমিতে কীটনাশক ছিটাতে পারবে এ ড্রোন।

দ্রুতই এটির আনুষ্ঠানিক উড্ডয়ন উদ্বোধন করা হবে বলে জানান প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক।

ড্রোনের বিবরণ সম্পর্কে প্রধান তত্ত্বাবধায়ক বলেন, অটোনমাস মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন এটি। ড্রোনটি কীটনাশক স্প্রে, মনিটরিং/সারভেইল্যান্স, আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।

বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, ৫ কেজি ওজনের ড্রোনটি একবারে ২৫ মিনিট উড়তে পারবে। এর সর্বোচ্চ উড্ডয়ন উচ্চতা ২০০ মিটার, যা ৩ লিটার কীটনাশক বহনে সক্ষম।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.