A spilled jar of US coins on a white background.

আমরা এখন বাস করছি তথ্যপ্রযুক্তির যুগে, যেখানে কম্পিউটার আমাদের জন্য একটি আশীর্বাদ । কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, স্বচ্ছন্দ জীবন-যাপন করতে গিয়ে কতখানি মূল্য দিচ্ছি আমরা? ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় যে পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তার ১৫ শতাংশ শুধু কম্পিউটারের পেছনেই ব্যয় হয়।অর্থাৎ নিজেদের কম্পিউটারকে আরো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করে তোলার জন্য নিম্মলিখিত কিছু ধাপ অবলম্বন করতে পারেন-

১।আপনার কন্ট্রোল প্যানেলে এনার্জি সেটিং পরিবর্তন করুন।আপনার কন্ট্রোল প্যানেল বা সিস্টেম প্রিফারেন্সে গিয়ে কম্পিউটারের সেটিং এমনভাবে পরিবর্তন করুন, যাতে এটি ১ মিনিট পর ‘স্লিপ’ মোডে চলে যায়। দেখা গেছে।কম্পিউটার অব্যবহৃত অবস্থায় ১ ঘণ্টা পড়ে থাকলে ঘণ্টায় গড়ে ৭৪ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। এ বিদ্যুতের অপচয় কমাতে ব্যবহারের ১ মিনিটের মাথায় কম্পিউটার যেন ‘স্লিপ’ মোডে চলে যায়, সেই অপশন চালু করুন। এর পর পিসির সামনে এসে মাউসটি সামান্য নাড়া দিলেই কম্পিউটারটি আবার জেগে উঠবে,আপনাকে বারবার সেটি খোলা বা বন্ধ করার ঝামেলা পোহাতে হবে না, কিন্তু একই সঙ্গে এটি হ্রাস করবে বিদ্যুৎ এর অপচয়।

২।স্ক্রিন সেভার বন্ধ রাখুন।স্ক্রিন সেভারের প্রচলন যে সময় হয়েছিল, তখন এটি করা হয়েছিল কম্পিউটারে কোনো কারণে একটি ইমেজ ঘণ্টাখানেক ধরে রিস্ক্যান হতে থাকলে তাতে ‘বার্ন-ইন’ না ঘটে। আজকের প্রযুক্তি আসলে এতটা পথ হেঁটে এসেছে যে, এ সময়ের কম্পিউটারগুলোর আর স্ক্রিন সেভারের প্রয়োজন হয় না। তবুও ফাংশনটি এখনকার কম্পিউটারেও রয়ে গেছে। তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না ,কিন্তু কিছু কিছু গ্রাফিকস-ইনটেনসিভ স্ক্রিন সেভার আসলে কম্পিউটারের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়ে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ খরচ করে।একটি সিআরটি মনিটরের ক্ষেত্রে এটি হয় ঘণ্টায় গড়ে ৬৫ দশমিক ১ ওয়াট, আর এলসিডি মনিটরের ক্ষেত্রে এটি ২৭ দশমিক ৬১ ওয়াট। এমনকি এটি কম্পিউটারকে স্লিপ মোডে যাওয়া থেকেও বিরত রাখে। অতএব এ যুগের সচেতন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ফাংশনটি এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের পরিচয়।

৩।মনিটরের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন।মনিটরের উজ্জ্বলতা কমিয়ে এনে আপনি আপনার মানিব্যাগ, আর চোখ, দুটির প্রতিই সদয় হতে পারেন। একটি সিআরটি মনিটর ১ ঘণ্টায় গড়ে ৬৫ দশমিক ১ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকে। এবার আপনি যদি আপনার কম্পিউটারের ‘ব্রাইটনেস’ অর্ধেকে নিয়ে আসেন, তাহলে এটি বিদ্যুৎ এর ব্যবহার প্রতি ঘণ্টায় ৩২ দশমিক ৫৫ ওয়াটে নিয়ে আসতে পারে। দেখা যাবে তখন, সামান্য উজ্জ্বলতা কমিয়ে এনেই আপনি বছরে ৯৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াটের মতো বিদ্যুৎ এর ব্যয় কমিয়ে আনতে পারেন।
চলুন কাজটি করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করি।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.