কম্পিউটার ব্যবহার করি কিন্তু ক্ষতিকর প্রোগ্রাম ভাইরাস, ওয়ার্ম এর নাম জানি না বা এদের যন্ত্রণা ভোগ করি নাই এমন মানুষ কম আছে। আবার কিছু কিছু মানুষ আছে যারা VRIUS এর নাম শুনলে এতো ভয় পায় যে কম্পিউটারকে গান শুনা, ছবি দেখা, ও ছোট-খাটো কাজ ব্যতীত অন্য কাজই করে না। কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষই এই VRIUS সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। আসা করি এই লেখাটি পড়লে VRIUS সম্পর্কে অনেক ধারনা পাবেন।

VRIUS এর Full Meaning হলো- Vital Information Resources Under Seize . Dr. Cohen (Professor of University of Southern California) Says “A program that can ‘infect’ other programs by modifying them to include a version of itself”. VRIUS অন্যান্য Software এর মতই  কিছু কোড এর সমন্বয়ে তৈরি হয়ে থাকে।  কিন্তু এই কোড গুলো  কম্পিউটার ব্যবহারকারির ক্ষতি সাধন করে। বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধন এর মধ্যে রয়েছে – কম্পিউটার গতি ধীর করা, File মুছে ফেলা, তথ্য চুরি করা, কম্পিউটার Restart করা আরও অনেক কিছু। VRIUS এর ইতিহাস এক এক জায়গায় এক এক রকম। তার মধ্য থেকে সব চেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি যদি কোন ভুল থাকে জানাবেন সংশোধন করে নিবো।

সর্বপ্রথম  VRIUS এর ধারনা করে John von Neumann ১৯৪৯ সালে। তার “Theory and Organization of Complicated Automata” তে বলেন – একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম হতে পারে যার আত্ম-প্রতিলিপি নির্মাণ এর ক্ষমতা থাকবে। মানে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম যে নিজে নিজে কাজ করতে পারবে। আমরা অনেকেই ভাইরাসকে (VRIUS) কম্পিউটার ওয়ার্ম(WORM) ও ট্রোজান হর্স(TROJAN HORSE) এর সাথে মিলিয়ে ফেলি। আসলে ভাইরাস (VRIUS) ও কম্পিউটার ওয়ার্ম(WORM) ও ট্রোজান হর্স(TROJAN HORSE) সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। ভাইরাস আক্রমণের ক্ষেত্রে Host Application বা বাহকের প্রয়োজন পড়ে যেমন Boot-Sector Virus ও Macro Virus কিন্তু ওয়ার্মের (WORM) ক্ষেত্রে তেমনটি নয়। ওয়ার্ম(WORM)  খুব সহজেই নিজেদের একাধিক কপি তৈরি করতে পারে (reproduce) ও বিস্তারের ক্ষেত্রে দুটি কম্পিউটারের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এর ট্রোজান হর্স(TROJAN HORSE)  হল একটি ফাইল যা এক্সিকিউটেড বা Open হবার আগ পর্যন্ত কোন ক্ষতি করে না।তবে Open করলেই শুরু করে দিবে তার কাজ।

কম্পিউটারের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কিছু VRIUS ও WORM এর কথা-

*পৃথিবীর সর্বপ্রথম VRIUS আবিস্কার হয় ১৯৮১ সালে যাকে বলা হয় “in the wild” এটা সর্বপ্রথম Apple II তে floppy disk মাধ্যমে ছড়ায় Elk Cloner নামে। তবে এটা কোন ক্ষতি করতো না শুধু মাত্র ছোট্ট একটা কবিতা Display করতো মনিটরে। কবিতাটা ছিল-

It will get on all your disks

It will infiltrate your chips

Yes it’s Cloner!

 

It will stick to you like glue

It will modify ram too

Send in the Cloner!

*১৯৮৬ সালে তৈরি হয় প্রথম Documented file VRIUS। যা MS-DOS অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত কম্পিউটারে আক্রমন করে। সেই বছরই প্রথম Trojan horse VRIUS মুক্তি পায় তখনকার জনপ্রিয় PC Write নামক shareware প্রোগ্রামে।

*১৯৮৭ সালের নভেম্বরে Lehigh University,U.S.A  তে আবিস্কার হয় Lehigh নামক VRIUS । এটাই হল প্রথম VRIUS যা কম্পিউটারের মেমরিতে কাজ সম্পাদান করতো। এটা তখনই কজ করতে পারত যখন এই VRIUS File টা Open করা হতো। এই Lehigh VRIUS টি “COMMAND.COM” নামে একটি File এর মাধ্যমে আক্রমন করতো।

*১৯৯২ সালে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম সব চেয়ে বড় আঘাত আনে Michelangelo নামক VRIUS।এটা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ছিল।

*১৯৯৬ সালে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে প্রথম Macro Virus ছড়িয়ে পড়ে। যা মূলত অপারেটিং সিস্টেম Windows 95 এর ক্ষতি করতো। পরবর্তীতে অবশ্য Linux অপারেটিং সিস্টেমেও ক্ষতি করতো।

*১৯৯৯ সালে Melissa নামক VRIUS এর উৎপত্তি ঘটে। এটা Macro Virus এবং WORM এর সমন্বয় ছিল।এটা Microsoft Outlook and Outlook Express এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর  E-mail প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তো। তখন এই Melissa নামক VRIUS বিশ্ব অনেক গুলো Company ও সাধারন ব্যবহারকারীর ক্ষতি করে।

*২০০০ সালে LoveLetter WORM এর উৎপত্তি ঘটে। যা “Love Bug” নামেও পরিচিত। এটা E-mail এর মাধ্যমে ছড়াত। ব্যবহারকারি যখন ঐ E-mail টি Open করার সাথে সাথে ঐ ব্যবহারকারীর তো ক্ষতি হতই সাথে সাথে তার Address Book এ যত E-mail ID থাকতো সেগুলতেও ছড়িয়ে পড়তো। তখন এই Love Bug প্রায় ১০ হাজার Corporate e-mail Systems বন্ধ করে দেয়।

*২০০৩ সালের জানুয়ারীতে “Slammer” নামক WORM প্রায় ১০০০০০০ টি  কম্পিউটার আক্রমন করে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে। এতে ব্যবসায়ী ও Airlines  Company গুলোর বেশী ক্ষতি হয়।

*২০০৭ সালে “Storm WORM ”  নামক WORM এর উৎপত্তি ঘটে। এটা E-mail এর মাধ্যমে ছড়াত। একটি E-mail আসতো, সেখানে একটি News থাকতো আর Film Download করার কথা জিজ্ঞাসা করতো। এই WORM টি ১৩ দিনের মধ্যে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন কম্পিউটারের ক্ষতি করে।

*২০০৯ সালে “Conficker” নামক WORM ইন্টারনেট এর মাধ্যমে প্রায় ৯ মিলিয়ন Windows অপারেটিং সিস্টেমে চালিত  কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ছিল আমার জানা কম্পিউটারের ক্ষতিকর প্রোগ্রামের (VIRUS,WORM) ইতিহাস এর কিছু অংশ।

বিনা অনুমতিতে লেখাটি কপি করে অন্য কোন ব্লগে বা ওয়েবসাইট এ নিজের বলে চালাবেন না।(একই লেখা বিভিন্ন ব্লগে এক এক নামে দেখি বলে কথাটি বললাম।)

যদি সময় থাকে আমার ব্লগে একটু ভিজিট করলে খুশি হব। – বিদ্যালয়

আর ভালো লাগলে FaceBook Like করতে ভুইলেন না।

ধন্যবাদ।

comments

5 কমেন্টস

  1. bro u may know a lot about virus, but u dont even know its spelling itself. Throughout the post u’ve spelled it as V-R-I-U-S, where it is V-I-R-U-S in real. good day.

    • sorry. জানি VIRUS বানান ভুল হয়েছে। কিন্তু এই লেখাটা পোস্ট করি প্রায় ১ মাস আগে কিন্তু লেখা প্রকাশ হয় নি। তাই কয়েক দিন আগে আবার Update করার চেষ্টা করি তার পরেও হলো না।
      তাই আর ঠিক করি নি আর এর আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ comment এর mail পেয়ে বুঝলাম লেখাটি পোস্ট হয়েছে। সকলের কাছে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত বানান ভুল হবার জন্য। একই লেখা টেকটিউনস, টেকটুইটস ও আমার নিজের ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু এমনটা না। শুদ্ধ ভাবেই প্রকাশিত হয়েছে।শুধু মাত্র এখানে ই ভুল টা হয়ে গেছে। sorry again….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.