আমাদের জীবনে নিত্যদিন কাজে আসা এরকম এক নির্ভরশীল ডিভাইস হচ্ছে ট্যাব। পোর্টেবল এই ডিভাইসটি আমাদের জীবনকে করেছে সহজ।

প্রযুক্তি বাজার ঘুরলে বিভিন্ন দামে বিভিন্ন রকমের ট্যাব দেখতে পাবেন আপনি। হরেক রকম মূল্যের এই ট্যাবগুলোর স্পেসিফিকেশনও নির্ভর করে মূল্যের উপরেই। সবাই বেশি টাকা খরচ করে হাই-কনফিগারেশনের ট্যাব কিনতে পারে না ফলে অনেকেই কম মূল্যে সস্তা ট্যাব কিনে থাকেন। কিন্তু, অনেকের প্রয়োজনে পরেও সস্তা এসব ট্যাবের উপর আস্থা রাখতে পারেন না। তাই সস্তা ট্যাব কেনার আগে বা কেনার সময় কিছু বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরী।

গুগল প্লে স্টোর প্রি-ইনস্টল করা আছে কিনা দেখে কিনুন

সস্তা ট্যাবলেটগুলোতে স্পেসিফিকেশন কিছুটা কম থাকবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে গুগলের অ্যাপলিকেশনগুলো থাকবে না সেটা কি মানা যায়? অনেক কম মূল্যের ট্যাবেই গুগলের প্রয়োজনীয় ফিচার সমূহ যেমন, জিমেইল, গুগল সার্চ, গুগল ক্যালেন্ডার ইত্যাদি থাকে না। ভাবছেন, ‘ডাউনলোড করে নিলেই তো হলো?!’ ভুল ভাবছেন! কেননা, গুগলের প্রোডাক্টের মধ্যে গুগল প্লে স্টোরও পড়ে। আর গুগল প্লে স্টোর না থাকা মানে আনঅফিসিয়াল থার্ড পার্টি স্টোরগুলো থেকে অ্যাপলিকেশন ইনস্টল করা অনেক দিক দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই, চেষ্টা করবেন অন্তত গুগল প্লে সহ গুগলের সকল সেবা সাপোর্ট করে থাকে এমন একটি ট্যাব কিনতে।

ডিসপ্লের মান নিয়ে একটু ঘাঁটুন

স্বল্প মূল্যের ট্যাবগুলোতে ডিসপ্লে কোয়ালিটির দিকে আপনাকে একটু ছাড় দিতেই হবে। কেননা, স্বাভাবিক ভাবেই ভালো ডিসপ্লে প্যানেলের মূল্য কিছুটা বেশিই হবে ফলে ট্যাবের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। ট্যাবে একটি ডিসেন্ট এবং ভালো ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল সম্বলিত ডিসপ্লের জন্য কখনোই হাই রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে প্যানেলের দরকার নেই। আর শুধুমাত্র হাই রেজ্যুলেশনই ডিসপ্লে প্যানেলের মান নির্ধারন করেনা। রেজ্যুলেশনের পাশাপাশি কনট্রাস্ট, ব্রাইটনেস, কালার রিপ্রোডাকশনও একটি ভালো মানের ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য জরুরী।

তবে ট্যাবলেট কেনার আগে ডিসপ্লে প্যানেল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন। কম দামি কিছু ট্যাবলেটেও ডিসেন্ট ডিসপ্লে প্যানেল থাকে।

আপডেট পাবেন না বললেই চলে

কম মূল্যের ট্যাবগুলোতে এটাই প্রধান সমস্যা। ট্যাবগুলোতে অপারেটিং সিস্টেমের ফার্মওয়্যার আপডেট পাওয়া যায় না বললেই চলে। তাই আপনি যদি একটি ট্যাব কিনে থাকেন যার অপারেটিং সিস্টেম আন্ড্রয়েড জেলিবিন তাহলে সেটি শেষ পর্যন্ত হয়তো জেলিবিনই থেকে যাবে। ফলে, পুরাতন ফার্মওয়্যারেই বন্দী থাকতে হবে আপনাকে।

ব্যাটারি লাইফ

স্মার্ট ডিভাইসগুলোতে যদি কোন কমন সমস্যা থেকে থাকে তবে সম্ভবত এর ব্যাটারি লাইফই হবে। আর কম মূল্যের ট্যাবগুলোতে এই সমস্যা আরও বেশি হয়ে থাকে।

এমনিতেই ট্যাবের স্ক্রিনের আঁকার কিছুটা বড় হবার কারণে এতে ব্যাটারি খরচও হয় কিছুটা বেশিই, তার উপর কম ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি কম মূল্যের ট্যবগুলোতে দেয়ার কারণে ট্যাবগুলোর পারফর্মেন্স কমে যায় বেশ খানিকটা। তাই কেনার আগে চেষ্টা করবেন কিছুটা হলেও বেশি ক্ষমতা যুক্ত ব্যাটারি আছে এমন ট্যাব কেনা। এক্ষেত্রে হয়তো আপনাকে প্রসেসর ছাড় দিতে হতে পারে তবে আশা করি গেম না খেললে কোয়াড কোরের স্থানে ডুয়াল কোরে খুব বেশি সমস্যা হবেনা আপনার।

ব্র্যান্ডের দিকে একটু খেয়াল রাখুন

আমি বলছি না যে সব বড় বড় ব্র্যান্ড ধরেই আমাদের চলা উচিৎ তবে ব্র্যান্ডের ডিভাইস ব্যবহার করলে ডেভেলপার সাপোর্ট কিছুটা হলেও আপনি পাবেন।

ক্যামেরার কথা ভুলে যান

যে সকল ক্যামেরা ইউনিটগুলো কম মূল্যের ট্যাবগুলোতে ব্যবহার করা হয় সেগুলো দিয়ে ছবি তুলে আপনি কোন আনন্দ পাবেন না। তাই, এর ক্যামেরা আশানুরূপ হবে না ধরেই আপনাকে বাজারে যেতে হবে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.