ওয়েবে বিভিন্ন ধরনের জায়গার, ভিন্ন ভিন্ন মানের ও ভিন্ন ভিন্ন পেশার লোক আসে। আর সবার মন মতো কাজ করাটাও কঠিন বেপার। তবে অধিকাংশ সময়ই সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব ওয়েবসাইট বানানোর বেপারে গূরুত্ব দেওয়া হয়। সেদিন ফেসবুকে সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব ওয়েবসাইট বানানোর বেপারে কথা বলতে গেলে একজন মন্তব্যে বললেন পাঠকের চাহিদা আর সুবিধার বেপারে কথা বলতে। সে সম্পর্কিত কিছু কথাবার্তাই থাকছে এই পোস্টে।
ওয়েব পাঠকদের সুবিধার কথা ভেবেছেন কি?

ভিজিটরকে দোষারোপ করা

অনেক সময় কেউ কেউ ওয়েবের ভিজিটর যাতে কোন ঝামেলা সৃষ্টি করতে না পরে সে বেপারে অতিরিক্ত সচেতনাতা দখা যায়। ওয়েব বা ব্লগ পরিচালনার কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা আলোকে দেখলাম কয়েক লক্ষ ভিজিটরের আনাগোনার পরেও সাইটে তারা কোন ঝামেলা সৃষ্টি করতে চায় নি। অধিকন্তু সাইটের পাঠকের মতামতে বিষয়টি আরও গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। কিছু সংখ্যক স্প্যামারের কারনে অনেকে ভিজিটরের চাহিদার প্রতি নিচু ধারনা সৃষ্টি করে।

ভিজিটরের দক্ষতার বেপারে দুশ্চিন্তা

ইন্টারনেট এখন আর নতুন কিছু নয়। ইন্টারনেটে লোকজনের আনাগোনা ও তার ব্যবহার পদ্ধতিতে সবাই অভ্যস্ত ভাবতে হবে। ওয়েবসাইটটি কিভাবে ব্যবহার করবেন এ বেপারে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি। সবচেয়ে বড় কথা হলো অধিকাংশ জনপ্রিয় ওয়েবের ৯০ ভাগের বেশি ভিজিটরই নিয়মিত ভিজিটর এবং তারা জানে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। কেউ কেউ অবশ্য প্রথম এসে বুঝতে পারে না কিভাবে কাজ করবে। তাদের জন্য বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে সাইট পরিচালনার পদ্ধতির টিউটরিয়াল দেওয়াকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না।

নেভিগেশন

  • ভিজিটকে এক পাতা থেকে অন্য পাতায় নিয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে কঠিন বেপার। তাই বলে কি ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ অংশটিই একটি পাতায় দেওয়া সম্ভব? বইয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করুন: একটি বই তো অনেকগুলো পাতায় সন্নিবেশিত থাকে । প্রয়োজনে এক এক পাতায় গিয়ে দেখে। তাই বিভিন্ন পাতায় বিষয়গুলো সন্নিবেশিত করা প্রয়োজনীয়। সেক্ষেত্রে পাতার নম্বর উল্লেখ করা থাকলে সুবিধা। ব্লগের প্রায় সব পাঠকেরাই এ বেপারটি জানেন।
  • আপনি দৈনিক পত্রিকার দিকে একটু নজর দিন। দেখবেন লেখাগুলোর গুরুত্বানুসারে সাজানো আছে। ওয়েবসাইটের ভেতরের অংশের ভাল লেখাগুলো খুবই সহজে ভ্রমন করার ব্যবস্থা করতে পারেন। কিছু কিছু ওয়েব সাইটে সেরা লেখার তালিকা (মতামতের সংখ্যার ভিত্তিতে ও পাঠ সংখ্যার ভিত্তিতে) বা এলো মেলো পোষ্টের তালিকা রাখাটার উদ্দেশ্য এটাই।
  • আপনি কোন অংশে লিখলেন ” আমি পূর্বে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পদ্ধতি আলোচনা করেছিলাম বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন” এটার চেয়ে ভালো হয় যদি লিখেন “আমি পূর্বে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল পদ্ধতি আলোচনা করেছিলাম ” কারন সব পাঠকই হাইপারলিংকের এ ব্যবহারটি সমন্ধে জানে।
  • অনেকে নতুন পাতায় হাইপারলিংকটি খুলুক তা চান। বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েবেও এ বেপারটি লক্ষ করেছি। অথচ অধিকাংশ ভিজিটরই অল্প কয়েকটি উইনডো বা ট্যাবে কাজ করে সাচ্ছন্দ বোধ করে।এ বেপারটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

ভিজিটর হিসেবে আপনি কি কি জিনিস পছন্দ ও অপছন্দ করেন?

বিভিন্ন ওয়েবে আপনি কোন জিনিসটাকে কেমন পছন্দ করেন সে বেপারটি আপনার সাইটে এপ্লাই করতে পারেন। অধিকাংশ সময়ই বিভিন্ন ওয়েবের সৌন্দোর্যে মোহিত হয়ে সবগুলো নিজের ডিজাইনে যুক্ত করতে গিয়ে সাইট স্লো করে ফেলি। আর এ বেপারটাও নজরে আনতে হবে। একটি ওয়েব একটি আলাদা স্বত্ব হিসেবে যেন পরিচিত হয়। আপনি নিজে বিজ্ঞাপন অপছন্দ করেন অথচ আপনার সাইটের ভিজিটররাও কিন্তু এটা অপছন্দ করবে-বেপারটি লক্ষ করা দরকার।

আশা করা যায় ডিজাইনের ক্ষেত্রে পাঠকদের আরও অনেক সুবিধার বেপার লক্ষ রাখা যেতে পারে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

ওয়েব ডিজাইনিং এর বেপারে আলোচনাধর্মী আরও কিছু পোষ্ট:

comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.