দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন নানা ফিচারের নিত্যনতুন স্মার্টফোন সাশ্রয়ী দামে গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে শুরু থেকেই বাজারে জনকপ্রিয়তা পেয়ে এসেছে।

সম্প্রতি ৪টি মডেলের স্মার্টফোনে মূল্য ছাড় সুবিধা ঘোষণা করেছে ওয়ালটন। মডেলগুলো হচ্ছে: ‘প্রিমো এফ৬’, ‘প্রিমো এইচ৪’, ‘প্রিমো এইচএম২’ এবং ‘প্রিমো ভিএক্স’।

‘প্রিমো এফ৬’ স্মার্টফোনটি এখন সাশ্রয়ী মূল্যে ৪,৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে (আগে এর মূল্য ছিল ৫,৪৯০ টাকা)।

‘প্রিমো এইচ৪’ স্মার্টফোনটি এখন মাত্র ৮,২৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে (আগে এর মূল্য ছিল ৮,৭৯০ টাকা)।

‘প্রিমো এইচএম২’ স্মার্টফোনটি বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮,৯৯০ টাকায় (আগে এর মূল্য ছিল ৯,৪৪০ টাকা)।

‘প্রিমো ভিএক্স’ স্মার্টফোনটি এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৩,৯৯০ টাকায় (আগের এর মূল্য ছিল ১৫,৯৯০ টাকা)।

জেনে নেয়া যাক স্মার্টফোনগুলোর ফিচার সম্পর্কে।

 

প্রিমো এফ৬

অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেমে চালিত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৪.৫ ইঞ্চি স্ক্রিনের এফডব্লিউভিজিএ ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে। প্রসেসর হিসেবে রয়েছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর, গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি ৪০০।

 

মেমোরির ক্ষেত্রে রয়েছে ১ জিবি র‍্যাম, ৮ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি এবং মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে আরো ৩২ জিবি পর্যন্ত বর্ধিত মেমোরির ব্যবহারের সুবিধা। প্রিমো এফ৬ স্মার্টফোনটির ক্যামেরার ক্ষেত্রে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ সুবিধাসহ বিসিআই সেন্সরের ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ভিজিএ ফ্রন্ট ক্যামেরা। রয়েছে ফুল এইচডি (১০৮০পি) ভিডিও রেকর্ডিং ও প্লেব্যাক সুবিধা। কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ওয়াই-ফাই হটস্পট এবং ওটিএ আপগ্রেড এনাবল সুবিধা। সেন্সর হিসেবে রয়েছে অ্যাকসিলেরোমিটার (থ্রিডি), লাইট এবং প্রক্সিমিটি সেন্সর। ডুয়াল সিম, ডুয়াল স্ট্যান্ডবাই সুবিধার এই স্মার্টফোনটিতে অন্যান্য আকর্ষণীয় ফিচারের মধ্যে রয়েছে থ্রিজি নেটওয়ার্ক, রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও, জিপিএস সুবিধা, ১৬৫০এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্রভৃতি।

 

প্রিমো এইচ৪

প্রিমো এইচ৪ স্মার্টফোনটি মাত্র ৮মিমি পুরুত্বের স্লিম ডিজাইনের। অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম চালিত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে আইপিএস প্রযুক্তির ৫.০ ইঞ্চি এইচডি (১২৮০ বাই ৭২০ রেজ্যুলেশন) স্ক্রিনের ডিসপ্লে। হাতের পাঁচ আঙুল পরিচালনার মাল্টি টাচ সুবিধার এই স্মার্টফোনটির ডিসপ্লের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস। প্রসেসর হিসেবে রয়েছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর, গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি ৪০০, মেমোরির ক্ষেত্রে রয়েছে ১ গিগাবাইট র্যা ম, ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি এবং মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে আরো ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত বর্ধিত মেমোরির ব্যবহারের সুবিধা। প্রিমো এইচ৪ স্মার্টফোনের ক্যামেরাটি নানা ফিচার সমৃদ্ধ। এর রিয়ার ও ফ্রন্ট উভয় ক্যামেরা সিমস সেন্সর সমৃদ্ধ এবং রিয়ার-ফ্রন্ট উভয় ক্যামেরায় রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ সুবিধা। রিয়ার ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে অটোফোকাস সুবিধার ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও ফ্রন্টে রয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ফুল এইচডি (১০৮০পি) ভিডিও রেকর্ডিং ও প্লেব্যাক সুবিধা রয়েছে।

কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে রয়েছে হটস্পটসহ ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.০, মাইক্রো ইউএসবি যা ওটিজি সমর্থন করে এবং ওটিএ আপগ্রেড এনাবল সুবিধা। সেন্সর হিসেবে রয়েছে অ্যাকসিলেরোমিটার (থ্রিডি), লাইট এবং প্রক্সিমিটি সেন্সর।

ডুয়াল সিম, ডুয়াল স্ট্যান্ডবাই সুবিধার এই স্মার্টফোনটিতে এছাড়াও রয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) নেটওয়ার্ক, জিপিএস সুবিধা, রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও, স্মার্ট গেশ্চার, নোটিফিকেশন লাইট, ২০০০এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্রভৃতি সুবিধা। স্মার্টফোনটি সিলভার, গোল্ডেন ও ব্ল্যাক-এই তিন কালারে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রিমো এইচএম২

প্রিমো এইচএম২ স্মার্টফোনটি মাত্র ৭.৯মিমি পুরুত্বের পাতলা ডিজাইনের এবং দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। ডুয়াল সিম, ডুয়াল স্ট্যান্ডবাই সুবিধার এই হ্যান্ডসেটটির উভয় সিম স্লটেই থ্রিজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে। দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের জন্য ৩০০০এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি।

অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম চালিত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে আইপিএস প্রযুক্তির ৫.০ ইঞ্চি স্ক্রিনের এইচডি (১২৮০ বাই ৭২০ রেজ্যুলেশন) ডিসপ্লে। স্ক্র্যাচ থেকে ডিসপ্লে সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস। প্রসেসর হিসেবে রয়েছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর, গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি ৪০০, মেমোরির ক্ষেত্রে রয়েছে ১ গিগাবাইট র্যা ম, ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি এবং মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে আরো ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত বর্ধিত মেমোরির ব্যবহারের সুবিধা।
অটো ফোকাস ও এলইডি ফ্ল্যাশ সুবিধাসহ বিসিআই প্রযুক্তির ৮ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং সেলফিপ্রেমীদের জন্য বিসিআই প্রযুক্তির ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে প্রিমো এইচএম২ ফোনটিতে। ফুল এইচডি (১০৮০পি) ভিডিও রেকর্ডিং ও প্লেব্যাক সুবিধা রয়েছে।

কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.০, মাইক্রো ইউএসবি যা ওটিজি সমর্থন করে, ওয়াই-ফাই হটস্পট, ওয়্যারলেস ডিসপ্লে শেয়ারিং সুবিধা এবং ওটিএ আপগ্রেড এনাবল সুবিধা।
মোশন সেন্সর হিসেবে রয়েছে অ্যাকসিলেরোমিটার (থ্রিডি), গ্রাভেটি। এনভায়রনমেন্ট সেন্সর হিসেবে রয়েছে লাইট (ব্রাইটনেস)। পজিশন সেন্সর হিসেবে রয়েছে প্রক্সিমিটি, ম্যাগনেটিক ফিল্ড (কম্পাস)।

স্মার্টফোনটিতে আরো রয়েছে নোটিফিকেশন লাইট, জিপিএস সুবিধা, রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও,  এসএমএসের মাধ্যমে মোবাইল নিরাপত্তা সুবিধা সহ প্রভৃতি ফিচার।

Screenshot_3

 

প্রিমো ভিএক্স

ডিজাইনের দিক থেকে ওয়ালটনের এই স্মার্টফোনটি অনন্য। মাত্র ৭.৩ মিমি পুরুত্বের পাতলা ও ১২০ গ্রাম ওজনের হালকা প্রিমো ভিএক্স স্মার্টফোনটি যেমন অত্যাধুনিক সুবিধার তেমনি স্টাইলিশ ডিজাইনের।

 

অ্যান্ড্রয়েড ৫.১.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম চালিত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে কোয়ানটাম শার্প পিওর ব্ল্যাক আইপিএস এবং ওজিএস প্রযুক্তির ৫.০ ইঞ্চি ফুল এইচডি (১৯২০ বাই ১০৮০ রেজ্যুলেশন) স্ক্রিনের ডিসপ্লে। তৃতীয় প্রজন্মের কর্নিং গরিলা গ্লাস ব্যবহৃত হয়েছে ডিসপ্লের নিরাপত্তায়। মাল্টি টাচ সুবিধায় হাতের পাঁচ আঙুল পরিচালনা করা যাবে।

 

থ্রিজি ও টুজি প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রিমো ভিএক্স স্মার্টফোনটি সর্বাধুনিক ফোরজি এলটিই প্রযুক্তি সাপোর্টেড। ডুয়াল সিম স্লট সুবিধার এই হ্যান্ডসেটটির একটি সিম স্লটে মাইক্রো সিম এবং আরেকটি সিম স্লটে ন্যানো সিম কার্ড বা মেমোরি কার্ড স্লট হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
স্মার্টফোনটিতে প্রসেসর হিসেবে রয়েছে ৬৪ বিট কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ চিপসেটের ১.৫ গিগাহার্জ অক্টা কোর প্রসেসর, গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাডরেনো ৪০৫, মেমোরির ক্ষেত্রে রয়েছে ২ জিবি র্যা ম, ১৬ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি এবং মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে আরো ৩২ জিবি পর্যন্ত বর্ধিত মেমোরির ব্যবহারের সুবিধা।

 

 

 

প্রিমো ভিএক্স স্মার্টফোনটির ক্যামেরার ক্ষেত্রে রয়েছে অটোফোকাস ও এলইডি ফ্ল্যাশ সুবিধাসহ বিসিআই প্রযুক্তির ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা। ভিডিও কল ও সেলফির জন্য রয়েছে বিসিআই প্রযুক্তির ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। রিয়ার ক্যামেরার অ্যাপাচার সাইজ এফ২.০ এবং ফ্রন্ট ক্যামেরার অ্যাপাচার সাইজ এফ২.৪। রয়েছে ফুল এইচডি (১০৮০পি) ভিডিও রেকর্ডিং ও প্লেব্যাক সুবিধা।

 

কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ওয়াই-ফাই হটস্পট, ওয়্যারলেস ডিসপ্লে এবং ওটিএ আপগ্রেড এনাবল সুবিধা।

 

স্মার্টফোনটিতে মোশন সেন্সর হিসেবে রয়েছে অ্যাকসিলেরোমিটার (থ্রিডি), রোটেশন ভেক্টর। এনভায়রনমেন্ট সেন্সর হিসেবে রয়েছে লাইট (ব্রাইটনেস), প্রেসার। পজিশন সেন্সর হিসেবে রয়েছে প্রক্সিমিটি, ম্যাগনেটিক ফিল্ড (কম্পাস), ওরিয়েন্টেশন। এছাড়া স্টেপ সেন্সর হিসেবে রয়েছে প্যাডোমিটার।

 

প্যাডোমিটার সেন্সর থাকায় এই স্মার্টফোনটিতে এ সংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই জগিংয়ের সময়ের প্রতি স্টেপের দূরত্ব, হাটা বা দৌড়ানোর গতি ও সময় প্রভৃতি কিছু মাপা যাবে।
অন্যান্য ফিচারের মধ্যে স্মার্টফোনটিতে রয়েছে জিপিএস সুবিধা, এফএম রেডিও, ২৩০০এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি প্রভৃতি সুবিধা।

আরো জানতে যোগাযোগ করুন ওয়ালটনের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে। যেকোনো মোবাইল এবং ল্যান্ডফোন থেকে ০৯৬১২৩১৬২৬৭ নম্বরে অথবা মোবাইল থেকে ১৬২৬৭ নম্বরে।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.