সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ২ হাজার বছর আগের একটি খুলি আবিস্কারের পর এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় চেলিয়াবিনস্কের অবলেস্ট অঞ্চলে খননকালে যে নারীর খুলি প্রত্মতাত্ত্বিকেরা পেয়েছেন তা স্বাভাবিক মানুষের নয়। তারা বলছেন, এটির আকার অনেকটাই কাল্পনিক এলিয়েনের কথা মনে করিয়ে দেয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর আগেও এমন আবিস্কার হয়েছে যা এলিয়েনের পৃথিবীতে আসার প্রশ্নকে উসকে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই হাজার বছরের আগের এই খুলিটির মাথার দিকটি অনেকটাই বড়। আকৃতিতে যা ডিমের মতো। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, সেই সময়ের মানুষের আকৃতিতে অস্বাভাবিক। আবিস্কারের পর খুলিটির ছবিও প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে এলিয়েন বিশ্বাসীরা এমন আবিস্কারের পর তাদের মতবাদ আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তারা দাবি করছেন, মানব সভ্যতার উৎকর্ষতার পেছনে যে ভিনগ্রহের প্রাণীদের অবদান আছে। এবং হাজার হাজার বছর ধরেই যে তারা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, এই আবিস্কার তারই প্রমাণ।

তবে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে এভাবে দেখছেন না। তারা খতিয়ে দেখছেন, সেসময় মানুষের শরীরের গড়নই কি তবে এমন ছিল? রাশিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের প্রধান মারিয়া মাকুরোভা জানিয়েছেন, খুলিটি পরীক্ষা করে মনে হয়েছে, সম্ভবত ঐ সময়ে তাদের গোষ্ঠীর মধ্যে কৃত্রিমভাবে মাথাকে এমন আকৃতি দেওয়ার চল ছিল। তাই শিশুকাল থেকেই দড়ি বা শক্ত কিছু দিয়ে তাদের মাথা বেঁধে রাখা হতো, যেন পূর্ণবয়স্ক হলে তাদের মাথার আকৃতি এমন হয়।

অবশ্য এরপরও খুলিটির প্রকৃত বয়স অনুসন্ধানে নৃবিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আবিস্কারের সময় খুলিটির সাথে লোহার ছুরি, সিরামিকের বাটি ও জগও পেয়েছেন। ডেইলি মিরর প্রতিবেদনে জানায়, গত বছরের আবিস্কারের সঙ্গে এসবের মিল রয়েছে। সে সময়ও খুব ভাল অবস্থায় যে দুটি খুলি তারা খুঁজে পায়, সেগুলোর আকৃতিও অনেকটা এমনই ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, এরা যাযাবর জাতি ছিল। সম্ভবত এরা ছিল খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর সময়কার সার্মাশিয়ান জাতির অন্তর্গত। যারা ইউক্রেন, কাজাখস্তান এবং রাশিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.