পৃথিবীতে যদি মানুষের সৃষ্টি কোন দুর্লভ যায়গা থেকে থাকে তবে “এরিয়া ৫১” তার মদ্ধে অন্যতম। আজ পর্যন্ত কোন সাধারণ মানুষ বলতে পারবে না যে সে এই এলাকার মদ্ধে প্রবেশ করতে পেরেছে।

কি আছে ওখানে আর কেনই বা কোন সাধারণ মানুষ ওখানে প্রবেশ করতে পারে না-

এটি মূলত একটি সামরিক ঘাটি যেটি খোদ ইউএসএ গভ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি পশ্চিমা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত। মূল ঘাটির আয়তন প্রায় ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। ইউএসএ গভারমেন্টের যত ধরনের গোপন সামরিক পরিক্ষা আছে তার সব এখানে করা হয়। যেমন নতুন নতুন অস্ত্র তৈরি, যুদ্ধ যান আবিষ্কার ইত্যাদি। এমনটি ধারণা করা হয় কারন এই জায়গারটির কাছে আসলে আপনি দেখতে পাবেন বড় একটি সাইনবোর্ড লিখা আছে “অনধিকার প্রবেশকারীকে গুলি করা হতে পারে” লিখাটি পড়ার পড়ে স্বাভাবিক ভাবেই আপনি আর এগোতে চাইবেন না। “এরিয়া ৫১” ইউএসএ গভ এতোটায় গোপন করে রেখেছে যে, যখন আমেরিকা ও সোভিয়েত উইনিয়নের মধ্যকার “স্নায়ুযুদ্ধ” হয়েছিলো তখনও এটির সম্পর্কে সোভিয়েত উইনিয়নের অভিযোগ করার পরেও তার অস্তিত্ব সিকার করে নি। তবে বেশ কিছু সময় আগে অবশেষে আমেরিকা শিকার করতে বাধ্য হল যে এমন একটি ঘাটি তাদের আছে।

এটি অন্যসব বিমান ঘাটির মতো সাধারন কোন বিমানঘাটি নয় এবং এখানে সাধারন কোন কাজও হয় না। এখানে চরম গোপনীয়তার মধ্যে সামরিক বাহিনীর জন্য এমন সব অস্ত্র, বিমান, ক্ষেপনাস্ত্র তৈরী করা যা অন্য কেউ জানে না। এক কথায় বলা যায় অত্যন্ত শ্রেণীবদ্ধ সামরিক/প্রতিরক্ষা বিশেষ এক্সেস প্রোগ্রাম Special Access Programs (SAP)। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নতুন বিমান অস্ত্র পদ্ধতি বা গবেষনা প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন, টেস্টিং, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। মার্কিন বিমান বাহিনী ও CIA এর দ্বারা এই প্রকল্প অনুমোদিত।

অতীতে যখনি কেউ বিমান বাহিনির কাছে এই এরিয়া ৫১ সম্পর্কে জানতে চেয়ে কোন বার্তা পাঠিয়েছে, উত্তরে তাকে বলা হয়েছে, এরিয়া ৫১ কাল্পনিক বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই।

অবশেষে ১৮ই আগষ্ট ২০১৩ সালে  প্রথমবারের মত আমেরিকার সরকার স্বীকার করে নেয় যে, হ্যাঁ এই এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্ব আছে। তাঁরা স্বীকার করে যে “যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটির এক গোপন সামরিক পরীক্ষার স্থান হিসেবে ‘এরিয়া ৫১’ নামক জায়গাটি ব্যবহার করে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) নথি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ডিসির জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মহাফেজখানা গত বৃহস্পতিবার ওই নথি অনলাইনে দেয়। নথিতে দেখা যায়, মার্কিন ইউ ২ গোয়েন্দা বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হয়েছিল এরিয়া ৫১ নামের ওই গোপন পরীক্ষার স্থানেই। জায়গাটা নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহর থেকে প্রায় ১০০ মাইল উত্তরে মোহাভে মরুভূমিতে। বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনি ভিত্তিক বিভিন্ন চলচ্চিত্রে এরিয়া ৫১ কে দেখানো হয়েছে ভিন গ্রহের প্রাণী ও অজানা ‘বিভিন্ন বস্তুর’ উড্ডয়নের স্থান হিসেবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এত দিন কখনোই এরিয়া ৫১ নামে কোনো স্থানের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেনি। তবে প্রকাশিত নথিতে ভিন গ্রহের প্রাণী বা এ জাতীয় কোনো কিছুর সঙ্গে এরিয়া ৫১ এর সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়েছে।

এখন শুনবো “এরিয়া ৫১” জায়গাটিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া কিছু অবাক করা কাহিনী-

খোদ যুক্তরাস্ট্রের জনগনের মধ্যেই “এরিয়া ৫১” ঘিরে অনেক গল্প চালু আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এই স্থানে নাকি কোন এক সময় UFO এসেছিলো এবং পরবর্তীতে সেই UFO ওর মধ্যে থেকে ভীনগ্রহের প্রানীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গল্প, সিনেমা, টিভি প্রোগ্রাম ইত্যাদি মাধ্যমে নানাভাবে এই এরিয়া ৫১ এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালে হলিউডের বিখ্যাত ছবি “ইনডিপেনডেন্স ডে” তে দেখানো হয়েছে যে ভীন গ্রহের প্রানীরা এরিয়া ৫১ এর উপর আক্রমন করেছে এবং এই ছবির শেষ দিকে দেখানো হয়েছে এই প্রানীদের ব্যাবহার করা বিশাল আকারের UFO  কে উন্নত প্রযুক্তির মিসাইলের সাহায্যে ধংস করে দেয়া হয়। এই মিসাইল প্রযূক্তি তারা পেয়েছে রসওয়েলের দূর্ঘটনায় ধংস হওয়া সেই UFO থেকে।

এরিয়া ৫১ সর্ম্পকে খোদ যুক্তরাস্ট্র সরকার একেবারে নিশ্চুপ। এ বিষয়ে তারা জনগনকে কিছু তো জানাতে দেয়ই না, বরং বেসামরিক লোকদের এরিয়া ৫১ এলাকাতে প্রবেশ করাও সম্পূর্ন নিষেধ। এই জন্য এই স্থান সর্ম্পকে মানুষ তেমন কোন খবর জানে না। এ ছাড়াও এরিয়া ৫১ এর ভিতরে যে সব স্থাপনা আছে তারও তেমন ভাল কোন ছবি পাওয়া যেত না, যে সব ছবি পাওয়া গেছে সেগুলো সব স্যাটেলাইট থেকে তোলা।

এই স্থানটি নেলস মিলিটারি অপারেশন এরিয়ার অর্ন্তগত। এরিয়া ৫১ এর চারদিকের আকাশ সীমা অন্য সবার জন্য নিষিদ্ধ, এই আকাশসীমা (R-4808N) হিসাবে পরিচিত। পাইলটরা এই এলাকার আকাশকে বলে “দি বক্স” অথবা “দি কনটেইনার”।

মার্কিন সরকারের অবাধ তথ্য অধিকারের সুযোগ নিয়ে ১৯৬০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহ “করোনা” র সাহায্যে এরিয়া ৫১ এর ছবি তোলে এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে মার্কিন সরকার সেই ছবি মুছে ফেলে।

একই ভাবে মার্কিন “টেরা” উপগ্রহ ৫১ এর অনুরুপ ছবি তুলে তা প্রকাশ করে, মার্কিন সরকার সেই ছবি ২০০৪ সালে মুছে ফেলে। সেই সময় এই ছবি মাইক্রোসফট ও টেরা স্যাটেলাইটের সার্ভারেও ছিল সেখান থেকেও এই ছবি মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে “নাসার” ল্যান্ডস্যাট ৭ উপগ্রহের সাহায্যে ৫১ এর ছবি তোলা হয়, বর্তমানে এই ছবিটিই সরকারি ভাবে প্রকাশিত এরিয়া ৫১ এর ছবি।

কিন্তু এত কিছু চেস্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাশিয়ার গোয়েন্দা উপগ্রহ “ইকনস” ও রাশিয়ার বেসামরিক উপগ্রহ আমেরিকা রাশিয়ার ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এই এরিয়া ৫১ এর ভিতরে কি হচ্ছে তা জানার জন্য (রাশিয়ার নিজেদের প্রয়োজনে) এর উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তোলে। এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার প্রায় সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এরিয়া ৫১ এর ভিতরকার ছবি আর গোপন নেই নেটে এর প্রায় সব ছবি পাওয়া যায়।

এই ছবিতে দেখা যায় যে এরিয়া ৫১ এর ভিতরে সাতটি রানওয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে রানওয়ে 14R/32L এটি লম্বায় প্রায় 23,300 feet (7,100 m)। অন্য রানওয়ে গুলি পীচের তৈরী এর মধ্য 14L/32R রানওয়ের দৈর্ঘ্য 12,000 feet (3,700 m), রানওয়ে 12/30 এর দৈর্ঘ্য 5,400 feet (1,600 m)।

অন্য চারটি রানওয়ে সল্ট লেকের মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে 09L/27R ও 09R/27L রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় 11,450 feet (3,490 m), আর অন্য দুইটি 03L/21R ও 03R/21L, দৈঘ্য প্রায় 10,000 feet (3,000 m)। এছাড়াও আছে হেলিপ্যাড।

ছবিতে আরো দেখা যায় বড় বড় গুদাম ঘর, আবাসিক এলাকা,ফায়ার স্টেশন,বিশাল আকারের পানির ট্যাংকি, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রন টাওয়ার, খেলাধুলা করার জন্য টেনিস এবং বেসবল কোর্ট। আরো আছে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট ডিশ।

ছবিগুলা দেখে যে ধারণা করা হয়েছে যে, সেখানকার কর্মীদের জন্য প্রায় সব ধরনের আবাসিক সুজক সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে বাহিনীর লোকজন তথা এরিয়া ৫১ প্রজেক্টে যারা কাজ করে তাদের অবাধ বিচরণের কিন্তু কোন সুজক নেই। এমনকি কারা সেখানে কাজ করছে তাদের পরিচয় কি সেটিও বাইরের কোন মানুষ বলতে পারবে না। কর্তিপক্ষের ওপরে সবসময় একটি চাপ কাজ করতো যে, হয়তো এটি যদি শত্রু পক্ষ জানতে পারে তবে যেকোনো ভাবে চেষ্টা করবো তাদের কাছ থেকে ভেতরের তথ্য বের করার।

এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অনেক শক্তিশালী। এই বেজের আনুমানিক ১৫৫ মাইল উত্তর এবং উত্তর পূর্বকোনে ৯৪০০ ফুট উঁচু “বেলডে” নামক একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল একটি রাডার স্থাপনা আছে। কিন্ত এই রাডারটি কি ধরনের তা জানা যায়নি। তবে ধারনা করা হয় এটি আকাশ পথ নজরদারী রাডার ARSR 4 (Air Route Surveillance Radar) এই ধরনের রাডার মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাবহার করে।

এটি কিন্তু শুধু একটি রাডার নয়, এটি একই সাথে অনেকগুলি রাডারের সংমিশ্রণে একটি নেটওর্য়াক ব্যাবস্থা। এই রকম আরো একটি রাডার আছে গ্রুম লেকের উওর সাইডের একটি পাহাড়ের চুড়ায়। মাটি থেকে যেটির উচ্চতা প্রায় ৪৩০০ ফুট। এই রাডার গুলি পরিচালনা করার জন্য কোন মানুষের প্রয়োজন পড়ে না কারন এই রাডার গুলো সবই স্বয়ংক্রিয়, এরা নিজে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

এরিয়া ৫১ এ ঢোকার জন্য কোন পিচের রাস্তা নেই। শুধু একটি মাটির রাস্তা আছে যা নেভেদার হাইওয়ে ৩৭৫ সিস্টেমের সাথে সংযোগ করা। এই রাস্তাটি প্রায় ৩৫ মাইল লম্বা, এর মধ্যে পশ্চিম এবং উওর পশ্চিম দিকের ১০ মাইল পড়ে এই রাস্তার এক মাথা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরিয়া ৫১ এর মূল গেট ঘাটি থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত। এই গেটের কাছে বিশাল এক সাইন বোর্ডে বড় করে সতর্কবাণী সাইন জানায় যে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং “ফোটোগ্রাফি নিষিদ্ধ” এলাকা।

জেনে নেই এই এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থার একটু ঝলক। এত সুরক্ষিত স্থান, নিরাপত্তাও সর্বাধুনিক। এর এলাকার চারিপাশে না আছে কোন দেয়াল বা কোন বেড়া। শুধু আছে কয়েকটি সাইনবোর্ড। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে কাজ করে অনেক প্রযুক্তি। যেমনঃ Mobile CC Camera, Motion detector (নড়াচড়া পর্যবেক্ষক), Laser detector (লেজার পর্যবেক্ষক), Sound detector (শব্দ পর্যবেক্ষক) আর সব থেকে আধুনিক Smell detector (ঘ্রান পর্যবেক্ষক) আর এছাড়া আকাশ পথ দেখার জন্য রয়েছে রাডার। এই ঘ্রান পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আসে পাশে থাকা যে কোন মানুষ বা বন্য প্রানীর অস্তিত্ব তারা পর্যবেক্ষন করতে পারে। এখন মনে করেন, আপনি কোন ভাবে ঢুকে গেলেন. আর আপনার অস্তিত্ব ধরা পরবে এই সেন্সর গুলিতে তা নিশ্চিত থাকেন। আর ধরা পড়লেই চলে আসবে সুরক্ষায় নিয়জিত বাহিনী। সুরক্ষায় যারা থাকে তারা আবার পদাতিক বাহিনী (Army) বা বিমান বাহিনীর কোন পোষাক পরা থাকবে না। এরা শুধু মাত্র এরিয়া ৫১ এর সুরক্ষার জন্য নিয়জিত। তবে এদের আচার আচারন সামরিক বাহিনীর লোকদের মতই। এখানে অনেক উপরের নীতি নির্ধারকদের অনুমতি বাদে প্রবেশ সম্পুর্ন নিষেধ আর ঢুকলেই তার মৃত্যু অনেকটাই অবধারিত। কেননা ক’দিন আগেও যে স্থানের কোন অস্তিত্ব ছিল না কাগজ কলমে সেখানে সাধারন আইন কানুন মানা হয় না। তাই আপনার কোন বিচার হবে না কোন আদালতে। মাঠেই আপনার বিচার, মাঠেই আপনার শাস্তি। মানবাধিকার এখানে কোন মূল্য রাখে না। এবার ধরুন আপনি কোন মতে এই সব সুরক্ষা ব্যাবস্থাকে কাটিয়ে ভিতরে ঢুকলেন। এবার আরো বড় সমস্যা। মনে রাখবেন এটি মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত। আর আপনাকে পারি দিতে হবে প্রচন্ড গরমে শুকিয়ে যাওয়া গ্রুম লেক। এখানে যদি আপনি অবস্থান করতে যান তাহলে দিনে আপনাকে ৪ গ্যালন পানি পান করতে হবে। তা না হলে আপনি ৪ দিনের বেশী টিকে থাকতে পারবেন না। আর রাতের বেলা সম্মুক্ষিন হবেন শীতের। অর্থাৎ এত কিছু নিয়ে কোন ভাবেই আপনি সুরক্ষা দেওয়ার ভেদ করতে পারবেন না। আর ধরুন আপনি একটা গাড়ি নিয়ে কোন এক ভাগ্যের জোরে পার করলেন সব সুরক্ষা ব্যাবস্থা। এখন আপনাকে পারি দিতে হবে এই গ্রুম লেক। গাড়ি চালাচ্ছেন মনের সুখে। ভাবছেন একটানে চলে যাবেন এরিয়া ৫১ এর প্রানকেন্দ্রে। কিন্তু আপনি যাচ্ছেন শুকিয়ে যাওয়া এক লেকের উপর দিয়ে। আপনার পিছে উড়ছে বালি। আর অনেক দূর থেকেই বোঝা যাবে আপনার অবস্থান। এখন বুঝলেন প্রাকৃতিক ভাবেও এই এরিয়া ৫১ কেমন সুরক্ষিত।

এরিয়া ৫১ এর আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকে অনেক রকম কথা বলেছে। তাদের অনেকের দাবী এরিয়া ৫১ এর আকাশে ফ্লাইং সসারের মত মত কিছু উড়তে তারা দেখেছেন। আবার অনেকেই নাকি এমন দ্রুতগতির বিমান উড়তে দেখেছেন যার গতি সাধারণ বিমান বা যুদ্ধবিমান কোনোটার সাথেই মিলে না।

তবে এসব বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছেন এরিয়া ৫১ এ কর্মরত পদার্থ বিজ্ঞানী বব লেজার। এক টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন এরিয়া ৫১ এমন কিছু মৌলিক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয় যা আবিষ্কারের ঘোষণা এখনও দেওয়া হয় নি। তিনি অবশ্য কিছু ধোয়াটে বক্তব্য দিয়েছেন একটি মৌলিক পদার্থ নিয়ে। তার মতে সুপারনোভা বা বাইনারি স্টার সিস্টেম থেকেই সম্ভবত একটি মৌল সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মাত্র ২.২ পাউন্ড কিন্তু এটি দ্বারা ৪৭টি ১০ মেগাটন হাইড্রোজেন বোমা বানানোর জন্য যথেষ্ট। ওখানে নাকি একটি টাইম মেশিন আছে। টাইম মেশিনে এই মৌলটি রাখা হলে টাইম মেশিনটি সময়কে স্থির করে রাখতে পারে। তারা নাকি সময় স্থির করে রাখার পরীক্ষা চালিয়ে সফলও হয়েছেন। তার মতে  টাইম মেশিনটি ঐ মৌলিক পদার্থটিকে ব্যবহার করে কোন এক ভাবে অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করে এবং তারফলে বিপুল শক্তি উৎপাদিত হয়। অ্যান্টিম্যাটার রিয়েক্টরে শক্তি উৎপাদনের ফলে বস্তুর নিজস্ব মহাকর্ষ বলের সৃষ্টি হয় এবং নিজস্ব শক্তিতে তা বিদুৎ বেগে ছুটতে পারে এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাকি ওখানে ফ্লাইং সসার তৈরির গবেষণা চলছে।

তবে বব সবচেয়ে বড় বোমা ফাটান এই বলে যে, সেখানে নাকি এলিয়েন দের ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক ফ্লাইং সসার আছে। সেখান থেকে এলিয়েনের মতো একটি প্রাণীর মৃত দেহ পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা প্রাণীটি নাকি এসেছে রেটিকুলাম ৪ নামক জ্যোতিষ্ক থেকে। প্রাণীটির উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট শরীর রোমহীন কালো বড় বড় চোখ এবং শরীর কৃশকায়। দেহ ব্যবচ্ছেদ করে নাকি ফুসফুস ও হৃৎপিন্ডর বদলে বিশাল এক পতঙ্গ পাওয়া গেছে।

তবে এতসব বিতর্কই শেষ নয়। এরিয়া ৫১ নিয়ে চলমান বিতর্কের সব চেয়ে বড়টি হল মানুষের চাঁদে যাওয়া নিয়ে নাটক। আপনারা হয়ত বলবেন, মানুষ চাঁদে গিয়েছে এ নিয়ে নাটকের কি আছে? কিন্তু দুনিয়াতে প্রচুর সন্দেহবাদী আছেন যাদের ধারনা মানুষ কখন চাঁদে যায়নি। পুরো নাটকটি সাজানো হয়েছে এই এরিয়া ৫১ এর ভেতরে। মানুষ প্রথম চাঁদে গিয়েছিল ১৯৬৯ সালে, এর পর আজ পর্যন্ত একবারও কেন মানুষ চাঁদে যায় না? মজার ব্যাপার হচ্ছে এত বিতর্ক চললেও আমেরিকান সরকার এসব কোনোকিছুই স্বীকার করেনি আজ পর্যন্ত। আর তাতে করে সন্দেহ কমার বদলে আরো বেড়েছে।

একটা ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৫০ এবং ১৯৬০ সালের দিকে অক্সকার্ট নামে একটা প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয় A12 বিমান। এই বিমানটি ছিল U2 নামের একটি স্পাই বিমানের উত্তরসূরী এবং বর্তমান SR71 BLACKBIRD স্পাই বিমানের পূর্বরুপ।

বিমানটির বিশেষত্ব ছিলো, এটি রাডারের হাতে চিহ্নিত না হয়ে ঘন্টায় ২২০০ মাইল (৩৫৪০ কিঃমিঃ) বেগে উড়বার ক্ষমতা ছিল। ৯০০০০ হাজার ফুট উপর থেকে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে মাটিতে থাকা ১ফুট দৈঘ্য সমান বস্তুর ছবি তোলার ক্ষমতা ছিল এই বিমানটির। কিন্তু আমেরিকার সরকার একে আরো উন্নত করতে গিয়ে এক বিশাল দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে। দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে সরকার ব্যাপারটি লুকিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।

উপরের কথা গুলো পড়ার পড়ে নিশ্চিত ভাবেই বলা যাই, আমেরিকা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তাদের দেখাদেখি অন্যরা যে থেমে আছে তা কিন্তু না। যেমন রাশিয়া বা কোরিয়া, প্রচণ্ড ক্ষমতা সম্পন্ন এই ২টি দেশও কিন্তু থেমে নেই।

এরিয়া ৫১ কে কেন্দ্র করে কিছু ভিডিও ডকুমেন্টরি তৈরি করা হয়েছে। চলুন দেখি ভিডিও গুলো তাহলে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সূত্রঃ উইকি, হাইব্রিড নলেজ

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.