লিখব লিখব করেও লিখতে পারছিনা। আবার না লিখতে পারার জন্য খুব কষ্ট ও হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে মন খারাপ থাকার জন্য লিখা হচ্ছিল না। যাই হোক, আজকে আমি আপনাদের সাথে একটি বিশেষ সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি, আর তা হচ্ছে, কিভাবে আপনি আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর কার্যকারিতা বাড়াতে পারবেন। আমরা যাকে সাধারণত ওভার ক্লকিং বলে থাকি।

লক্ষ্যনীয় হচ্ছে, আমরা কিন্তু আমাদের গ্রাফিক্স কার্ড এবং প্রসেসর দুটোতেই ওভার ক্লকিং করতে পারি। আজকে আমি শুধু দেখাবো সফটওয়্যার দিয়ে কিভাবে শুধু মাত্র আপনার  গ্রাফিক্স কার্ড এ ওভার ক্লকিং করবেন।

প্রথমে শুরু করি ওভার ক্লকিং কি

ওভার ক্লকিং হচ্ছে, এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটার এর কম্পোনেন্ট যেমন; প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড এর কাছ থেকে তাদের উল্লেখিত ক্ষমতার থেকেও বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারেন। আরও সহজ করে বলতে গেলে, ওভার ক্লকিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার কম ক্ষমতা সম্পন্য কম্পিউটার এর কাছ থেকেও বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারেন।

কেন ওভার ক্লকিং

ওভার ক্লকিং কি, থেকেই বুঝে নিতে পারছেন যে কেন আমরা ওভার ক্লকিং করব, অথবা করি। ওভার ক্লকিং এর সবচাইতে বড় যে সুবিধা, তা হচ্ছে, আপনি আপনার কম্পিউটার এর ২৫% ক্ষমতা (কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি) বাড়াতে পারবেন।

যেমন, আমি ছোট্ট একটি উদাহারন দেই;

আমার প্রসেসর, ইন্টেল কোর আই ৩, ২.৯৩ গিগাহার্জ এর।

গ্রাফিক্স কার্ড, এক্স এফ এক্স, জিটিএক্স ৪৬০ (যার জিপিইউ ক্লক স্পীড ৬৬৫ মেগাহার্জ)।

এখন আমি একটি গেম খেলতে চাইলাম অথবা একটি যা কোন ধরনের একটি কাজ করব, যার জন্য আমার দরকার হবে এমন একটি সিস্টেম এর যাতে প্রসেসর আছে ৩.৪ গিগাহার্জ এবং একটি গ্রাফিক্স কার্ড যার ক্লক স্পীড হতে হবে,৭০০ মেগাহার্জ।

আমি কি করতে পারি তখন ?? আমার আগের সিস্টেম টিকে ফেলে দিয়ে নতুন একটি সিস্টেম কিনে আনবো? নাকি পুরাতন টিকে আপগ্রেড করে ফেলব ?

এমন সিচুয়েশনেই ওভার ক্লকিং এর কথা মাথা তে আসবে।

GPU-Z

গ্রাফিক্স কার্ড ওভার ক্লকিং

ইনশাল্লাহ আমি আমার কোন এক পোস্ট এ আপনাদের সাথে প্রসেসর ওভার ক্লকিং নিয়ে আলোচনা করব। তবে আজকে আমি শুধুই আপনাদের সাথে গ্রাফিক্স কার্ড এর ওভার ক্লকিং নিয়ে কথা বলছি।

আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর বায়োস থেকে কিন্তু সহজেই আপনি ওভার ক্লকিং করতে পারবেন না। এর জন্য বাজারে বিনা মূল্যে বেশ কিছু সফটওয়্যার পাওয়া যায়। তবে, আমি বিভিন্ন ফোরাম এবং রিভিউ থেকে যা জেনেছি, তা হচ্ছে, এম এস আই এর আফটার বার্নার সফটওয়্যার টি হচ্ছে, গ্রাফিক্স কার্ড ওভার ক্লকার হিসেবে বেস্ট।

আসুন দেখে নেই এম এস আই এর আফটার বার্নার সফটওয়্যার টি;

এম এস আই এর আফটার বার্নার

afterburner-logoউপরে দেয়া লিঙ্ক থেকেই আপনি সফটওয়্যার টি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এরপর আমরা সাধারন যে ভাবে সফটওয়্যার ইন্সটল করে থাকি, ঠিক সে ভাবেই আপনি এই সফটওয়্যার টি ইন্সটল করে নিন। এবার দেখুন আপনার কম্পিউটার এর ডেক্সটপ এ একটি আইকন চলে এসেছে। এতে ডাবল ক্লিক করে সফটওয়্যার টি কে রান করান।

1এটি হচ্ছে এম এস আই আফটার বার্নার এর গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস। আসুন আবার এর বিভিন্ন কম্পোনেন্ট নিয়ে আলোচনা করা যাক;

2

একে বারে উপরে আপনাকে দেখিয়ে দিবে, আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর নাম এবং বর্তমানে ইন্সটল করা ড্রাইভার ভার্সন। এর পাশেই, যে “i” লিখা দেখতে পাচ্ছেন, সে খান থেকে আপনি আপনার গাফিক্স কার্ড এর সমস্ত ইনফর্মেশন দেখে নিতে পারবেন।

3

এটা হচ্ছে, কোর ভোল্টেজ। এখনকার দিনের গ্রাফিক্স কার্ড এর জন্য কোর ভোল্টেজ গুলো আন লকড অবস্তা তে থাকে। এখান থেকে আপনি আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর কোর ভোল্টেজ পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

4

এর পরেই থাকছে, কোর ক্লক স্পীড এবং শেডার ক্লক স্পীড।কোর ক্লক স্পীড হচ্ছে, আপনার গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট টি কত দ্রুত কাজ করে। সাধারনত (সর্বোচ্চ) হিসাব টি হচ্ছে,

কোর ক্লক স্পীড =২ .৫  X শেডার ক্লক স্পীড

তবে, এই সফটওয়্যার টিতে আপনি যখন নরমাল মুডে কাজ করবেন তখন আপনাকে আলাদা ভাবে কোর ক্লক স্পীড এবং শেডার ক্লক স্পীড কে বাড়াতে হবে না। একটি কে বাড়ালেই অন্যটি বেড়ে যাবে।

5

এবার আসছে, মেমোরি ক্লক এর পালা। মেমোরি ক্লক হচ্ছে,  কত দ্রুত আপনার গ্রাফিক্স কার্ড টি তার জি পি ইউ এর কাছে তথ্য পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে পারে। সাধারনত মেমোরি ক্লক এর গতি, কোর ক্লক এর গতির থেকে বেশি হয়। এটাকেও আপনি বাড়িয়ে অথবা কমিয়ে নিতে পারবেন (যদিও আমার মনে হয় না, ওভার ক্লকিং টুলস দিয়ে কেউ আন্ডার ক্লকিং করার চেষ্টা করবেন)

6

ফ্যান স্পীড, ধুর…… কিসের মধ্যে কি ??? না ভাই। ওভার ক্লকিং এর ক্ষেত্রে সব চাইতে প্রয়োজনীয় জিনিষ টি হচ্ছে, আপনার কুলিং সিস্টেম। আমার নিজের কার্ড দিয়ে টেস্ট করে দেখেছি, ওভার ক্লকিং এর জন্য যে পরিমাণ তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তাতে আপনার কার্ড এর ডিফল্ট স্পীড এ থাকা ফ্যান কিছুতেই ঠাণ্ডা করে না। আর এটাত আমরা সবাই জানি, বেশি পারফর্মেন্সে বেশি তাপ হবে। এবং সেই তাপ ঠিক মতন বের না করে দিতে পারলে, আপনার সেই ডিভাইস টির ক্ষতিও হওয়াটা স্বাভাবিক।

এই একটি মাত্র ক্ষেত্রে আমি সফটওয়্যার টির উপরে নির্ভর করি না। সফটওয়্যার টি নিজে থেকেই ৪৫% এ সেট করে নেয়, তবে আমি আমার কার্ড টির নিরাপত্তার কথা ভেবে ৫০% করে রাখি।

ব্যাস আপনার গ্রাফিক্স কার্ড কে ওভার কল্ক করা শেষ হয়ে গেছে। এখন আপনার নতুন সেটিংস্‌ টি কি আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর সাথে মানান সই হয়েছে কি না তা দেখার বিষয়। চাইলে আপনি যে হাই প্রোফাইল গেম খেলে দেখতে পারেন, অথবা এম এস আই এর কম্বাস্টোর (MSI Kombustor (Furmark) 0.7.0 Beta) নামের সফটওয়্যার টি ডাউনলোড করে আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর পারফর্মেন্স দেখে নিতে পারে।

7

সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে, এবার, আপ্লাই করে দিন। আপনি চাইলে মোট পাঁচ ধরনের প্রোফাইল সেভ করে রাখতে পারবেন। আবার আপনি যদি চান, কম্পিউটার প্রতিবার চালু হবার সময়, নিজে থেকেই ওভার ক্লকড হয়ে থাকবে, তাহলে, Apply Overclocking at system startup এ ক্লিক করে দিন (দেখুন সবুজ হয়েছে কি না)।

হার্ডওয়্যার মনিটরিং

আফটার বার্নারের এ অংশটি মূলত আপনার হার্ডওয়্যার এর বিভিন্ন এন্টিটির মনিটরিং করে থাকে। যেমন;

জিপিইউ টেম্পারেচার, জিপিইউ ইউজেজ, ফ্যান স্পীড, ফ্যান টেকনোমিটার, শেডার ক্লক, মেমোরি ক্লক, মেমোরি ইউজেজ, ইত্যাদি। এর সুবিধা হচ্ছে, আপনি চাইলেই দেখে নিতে পারবেন আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এর কোন অংশটি কি রকম ব্যবহার হচ্ছে।

শেষ হয়ে গেল আপনার গ্রাফিক্স কার্ড ওভার ক্লকিং। এখন আসুন দেখি, ওভার ক্লকিং এর ভালো এবং খারাপ দিক গুলো;

গ্রাফিক্স কার্ড সাপোর্টঃ

এম এস আই এর আফটার বার্নার মোটামুটি সকল গ্রাফিক্স কার্ড (nVIDIA 8XXX থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সব এবং Radeon এর 4XXX থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সব তবে 69XX এখনও সম্ভব হয় নি )

ভালো দিকঃ

১. কম ক্ষমতা সম্পন্য হার্ডওয়্যার দিয়ে আপনি বেশি ক্ষমতার কাজ করিয়ে নিতে পারছেন।

২. নতুন আপগ্রেডেড হার্ডওয়্যার কেনার খরচ বেচে যাচ্ছে।

৩. পুরাতন সিস্টেম এর বটল নেক প্রব্লেম কে সমাধান করা যায়।

খারাপ দিকঃ

১. আপনার হার্ডওয়্যার এর (যা কে ওভার ক্লকড করা হচ্ছে) আয়ুষ্কাল কমে যাবে।

২. কোন দূর্ঘটনা ঘটলে হার্ডওয়্যার এর ওয়ারেন্টী বাতিল হয়ে যাবে।

৩. ভুল ভাবে ওভার ক্লক করলে হার্ডওয়্যার বাতিল হয়ে যেতে পারে।

৪. হার্ডওয়্যার অতিরিক্ত গরম হওয়া.

ছোট্ট একটি টিপসঃ

একটি খুবি সাধারণ কিন্তু খুবি কার্যকরি টিপস দিবো, একেবারে অনেকটা ওভার ক্লকিং করবেন না। একটু একটু করে বাড়ান, এবং দেখুন আপনার সিস্টেম টি স্টেবল আছে কি না । থাকলে, আবার একটু বাড়ান। যদি সিস্টেম তার স্টেবিলিটি হারায়, তাহলে আর ওভার ক্লক করার দরকার নেই।

এইতো……… আমি আশা করব, আপনারা সফটওয়্যার টি কে চালাবেন। এবং আপনাদের মতামত জানাবেন। আমার নিজের গ্রাফিক্স কার্ড এর ওভার ক্লক টি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম (যদিও মাত্র ১১% ওভার ক্লক করেছি।)

পোস্ট টি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না।

comments

13 কমেন্টস

  1. আসাধারন ।কিছু গেমস খেলতে পারছিলামনা এখন ধুম ধারাক্কা খেলব :lol:ধন্যবাদটা একটু পরে দেই:lol:

  2. স্টক ফ্যান চেঞ্জ করে ভাল কুলিং ফ্যান লাগিয়ে ওভারক্লক করলে কাজে দেয়। যদি হিটসিংক থাকে তাইলে আরো ভাল। আর লিকুইড কুলিং মারলে কথাই নাই! 😀
    রিয়াজ ভাই…ঢাকাতে লিকুইড কুলিং এর জিনিষপত্র পাওয়া যায়?

      • লিকুইড কুলিং ভাল মত সেটআপে অনেক খরচ হয়ে যায়! হিসাব করে বের করেছিলাম আমার কমপক্ষে ৩০০-৬০০ ডলার যাবে মোটামুটি ফাটানো কুলিং সেটআপ দিতে! ইচ্ছা আছে করার! 😛
        আমার একটা পুরানা ATI HD 2600HD 256MB কার্ড আছে।ভাবছি কয়দিন পরে ভাল কুলিং ফ্যান লাগিয়ে ওভারক্লক করব। স্টক ফ্যান নষ্ট হয়ে গেছে। পিসি রান করার ৫ মিনিটের মধ্যে ইন্তেকাল ফরমায়! 😛

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.