স্যার বেনের উড়ন্ত নৌকা। হাল্কা বাতাস বইলে ওটা ঘণ্টায় প্রায় ৩০ নট অর্থাৎ ৩৫ মাইল গতিতে সাগরের ওপর উড়ে যেতে পারে। বায়ু যদি প্রবল হয় তাহলে এমন নৌকার প্রতি ঘণ্টায় ৫০ মাইলেও পৌঁছাতে পারে। এই জাতীয় নৌকাকে বলে ক্যাটামারান। এর দুটি কাঠামো সমান্তরাল অবস্থায় থাকে। বিশাল পাল এই নৌকাতে শক্তি যোগায়। পালটিকে দেখতে লাগে যাত্রীবাহী জেটের ডানার মতো। পালটির আচরণও কতকটা তাই। স্যার বেন আইসলাই একজন কৃতী ইয়ট প্রতিযোগী। তিনি ও তার দল চার চারবার অলিম্পিক স্বর্ণ জয় করেছে। তার নাবিকরাও অতিমাত্রায় দক্ষ এবং শারীরিক দিক দিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন। তবে তাদের সাফল্য নিজেদের ক্ষমতা ও সামর্থ্যরে ওপর যতটা নির্ভর করে প্রযুক্তির ওপর। তবে যে কোন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সাফল্যের গুরুত্ব অপরিসীম। স্যার বেন বলেন, এটা হলো ডিজাইনের রেস এবং একই সঙ্গে পালতুলে চলার প্রতিযোগিতা। ডিজাইন ও পাল তুলে চলার দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য হচ্ছে অর্ধেক অর্ধেক। স্যার বেনের নৌকাগুলো, হাইড্রোলিক এবং এফআই মোটরস্পোর্ট ও এরোনটিক শিল্প থেকে নেয়া কম্পোজিট সামগ্রীতে পরিপূর্ণ। নৌকাগুলোর ডিজাইন এমন যে ওজনে বেশ হাল্কা। আবার একই সময় যটতা সম্ভব এবোডাইনামিকও বটে। তবে সেই সঙ্গে ওগুলোকে এফআই মোটরস্পোর্টের ফ্রেমে উল্লেখযোগ্যমাত্রায় বেশি বেগ বা শক্তির ধকল সইতে পারার মতো ক্ষমতাও থাকতে হয়। সোজা কথায় এগুলো দ্রুতগতির, ডাইনামিক। বহু কাঠামের এই নৌকাগুলো এমন সব ব্যবস্থা দিয়ে মোড়ানো যার বদৌলতে সেগুলো উড়তে পারে এবং অন্যান্য নৌকার চেয়ে দ্রুত বাঁক নিতে বা দিক বদলাতে পারে। তবে অন্তর্নিহিতভাবে এগুলো যথেষ্ট বিপজ্জনকও বটে। কারণ এগুলো বিপুল ভার বয়ে অতি দ্রুতগতিতে ছুটে চলে। এর বিশাল ডানার মতো পালগুলো বায়ুর গতির তিনগুণ গতি সৃষ্টি করে যার ফলে প্রকৃতপক্ষে টেক অফ না করেও এগুলো পানির ওপর দিয়ে উড়ে চলে। পাল, কাঠাম ও ফয়েলে লাগানো শত শত সেন্সর দিয়ে নৌকার ওপর চাপ ও ধকলের মাত্রা, বায়ুর গতি ও দিক নির্ণয় করা হয়। এ সমস্ত ড্যাটা বা উপাত্ত মুহূর্তে মধ্যে পাঠানো হয় প্রযুক্তি কেন্দ্রে। সেখানে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয় কিভাবে দলটি এসব সাজসরঞ্জাম থেকে আরও বেশি গতি বের করে নিতে পারে। এসএমএসের মতো প্যাকেট প্রযুক্তি ব্যবহার এই টেলিমেট্রি ড্যাটা তীরে পাঠানো হয়। নৌকা তীরে এসে ভিড়লে এর এইচডি ক্যামেরায় ধারণ করা সমস্ত তথ্য ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা হয়। এমন নৌকার গূঢ় রহস্য হলো ফয়েল প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিটা নতুন কিন্তু নয় বরং বহু বছর ধরে ফেরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ফয়েলের দ্বারা সৃষ্ট লিফটকে কাজে লাগিয়ে নৌকার কাঠামোকে পানি থেকে শূন্যে তুলে ফেলা হয়। ফলে পানির সঙ্গে সংঘর্ষ না হওয়ায় নৌকার গতি যায় বেড়ে। এ হলো পদার্থ বিজ্ঞানের সহজ সরল সূত্র। তবে এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অন্যান্য উপকরণ যেমন-একচুয়েটর,হাউড্রোলিক ও ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যার ফলে আবহাওয়া ও সাগরের অবস্থা অনুযায়ী ওগুলো দক্ষতার সঙ্গে চালানো যায়।

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.