আর সেই জলের স্রোত কি মৌসুমী বায়ুর মতো শুধুই মরশুমি? মানে, মঙ্গলে যাকে বলে ‘গরম কাল’, সেই গা পুড়ে যাওয়া ‘লাল গ্রহে’র নিরক্ষরেখার (ইকুয়েটর) কাছে কি বয়ে চলে এখনও জলের স্রোত? আর ‘গ্রীষ্ম’ চলে গিয়ে মঙ্গলে ‘শীত কাল’ এলে কি সেই জলের ধারা শুকিয়ে যায়? তখন ‘লাল গ্রহে’র গা থেকে মুছে যায় ‘জলের রেখা’?

সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে নাসা-র তরফে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান-জার্নাল ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ; প্ল্যানেট্‌স’-এ। মূল গবেষক টাক্সনে, আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি ল্যাবরেটরির বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যাথু শোজনাকি তাঁর গবেষণাপত্রে বলেছেন, ‘‘মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছে ‘ভ্যালেস মারিনারিজ’ নামে যে সুবিশাল গিরিখাত রয়েছে, সেখানে ‘গরম কালে’ আমরা এমন কয়েক হাজার কালো রেখা দেখতে পেয়েছি। দু’টি মার্কিন ‘রোভার’ মহাকাশযান- ‘কিউরিওসিটি’ ও ‘অপরচ্যুনিটি’র পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করেই ওই কালো রেখা বা দাগগুলোর হদিশ মিলেছে। ওই গিরিখাতই আপাতত এই সৌরমণ্ডলের অন্য গ্রহগুলোতে হদিশ মেলা গিরিখাতগুলোর মধ্যে বৃহত্তম। মঙ্গলে ওই সুবিশাল গিরিখাত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন পরীক্ষা করে আমাদের কখনওই মনে হয়নি, নীচ থেকে জল সরাসরি ওপরে উঠে আসার ফলেই ওই কালো দাগ বা রেখাগুলোর জন্ম হয়েছে। তা হলে নীচ থেকে জল ওপরে উঠে আসার চিহ্ন মিলত ‘লাল গ্রহে’র পিঠে (সারফেস)। এমনকী, মঙ্গলের পিঠের নীচের স্তরে থাকা পাতলা বরফ-স্তর ‘লাল গ্রহে’র ‘গ্রীষ্মে’র তাপমাত্রায় গলে গিয়ে জল হয়ে যাচ্ছে আর সেই জলের স্রোতের জন্যই মঙ্গলের পিঠে ওই কালো রেখা বা দাগগুলোর জন্ম হচ্ছে, এটাও কোনও বিশ্বাসযোগ্য কারণ হতে পারে না। যেহেতু যে সংখ্যায় ওই কালো রেখা বা দাগগুলো দেখা যাচ্ছে, তার তুলনায় মঙ্গলের পিঠের নীচে থাকা বরফ-স্তর একেবারেই পাতলা।’’

তা হলে কী ভাবে ওই ‘জলের রেখা’র সৃষ্টি হচ্ছে মঙ্গলের পিঠে, এখনও?

সহযোগী গবেষক মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা, ‘‘মঙ্গলের পিঠে প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়ে রয়েছে লবণ। নানা রকমের নুন। ক্লোরাইড, ক্লোরেট, পারক্লোরেট, ফ্লোরাইড, কার্বনেট, বাই-কার্বনেট- হরেক রকমের লবণ। কোনও লবণের তালকে খোলা অবস্থায় রাখলে আমরা কিছু ক্ষণ পর দেখি, তার গা’টা ভিজে গিয়েছে। তার গা বেয়ে জল গড়াচ্ছে। কেন? কারণ, বাতাসে যে জলীয় বাষ্প থাকে, নুন তা টেনে নিয়ে ভিজে যায়। একই রকম ভাবে মঙ্গলের পিঠে ছড়িয়ে থাকা হরেক রকমের প্রচুর লবণও ‘লাল গ্রহে’র বায়ুমণ্ডল থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নেয়, নিচ্ছে। তার ফলে, ওই জলের স্রোতের (কালো রেখা) সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। আরও একটু সময় লাগবে।’’

মঙ্গলের পিঠে ওই সুবিশাল গিরিখাত এলাকা ‘ভ্যালেস মারিনারিজ’-এর ক’টি জায়গায় ওই জলের স্রোত বয়ে চলার ‘চিহ্ন’ মিলেছে?

 

 

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.