বেসিস সভাপতি ও এফবিসিসিআই পরিচালক শামীম আহসান বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুবই সাফল্যজনক। আমাদের তরুণরা এখন এসব বিষয়ে বিশ্বজয় করছে। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চললে একদিন নাসার মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেই তৈরি হবে। আমাদের তরুণদেরকে সেই স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

IMG_4232

তিনি সোমবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের ডাটা বুটক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। বক্তব্য রাখেন বেসিসের মহাসচিব উত্তম কুমার পাল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. তৌহিদ ভুইয়া। নাসা ¯স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৬ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন বেসিসের পরিচালক এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম ও নাসা ¯স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৬ এর আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু। এছাড়া বেসিসের যুগ্ম-মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ সহযোগি ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে আমাদের সফল হতে ডাটা নিয়ে খেলতে হবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও রিসোর্স থেকে ডাটা নিয়েই একটু খেলাধুলা বা গবেষনা করলেই আমরা ভালো কিছু তৈরি বা উদ্ভাবন করতে পারবো। এই আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা বেসিসকে ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, বিজ্ঞানের প্রচার-প্রসার বা ব্র্যান্ডিং না থাকার কারণেই আমরা এক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি। এখন বিষয় হিসেবে কেউ বিজ্ঞান নিতে চায় না। এ অবস্থা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। বিজ্ঞানের প্রচার-প্রসার ঘটাতে হবে। নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ তেমনই একটা আয়োজন। আমাদের শুধু অংশগ্রহণই নয়, বিজয়ী হওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

বেসিস পরিচালক ও নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৬ এর আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু বলেন, এবার দেশের ৩টি বিভাগে বৃহৎ পরিসরে বুটক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। সেখান থেকে ২টি করে মোট ৬টি টিম নাসার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এছাড়া প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারী সকলকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় মেন্টরদের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মেন্টরিংসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আয়োজিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৬’। বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি নগরীর মতো বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বড় পরিসরে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা আগামী ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। যে কেউ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্যায়ের বিজয়ীরা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এই আয়োজন প্রত্যক্ষভাবে দেখতে নাসা স্পেস অ্যাপস প্রতিযোগিতার কর্মকর্তারা বাংলাদেশে আসবেন।

গতবারের মতো বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। এই প্রতিযোগিতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম ৬৪ টি জেলার ১০০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেমিনার আয়োজন করছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ডাটা বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের প্রতিযোগিতায় বিমানচালনাবিদ্যা, স্পেস স্টেশন, সোলার সিস্টেম, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থ ও মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন প্রতিযোগিরা। একক বা দলবদ্ধভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে যে কেউ নাসার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। আগ্রহীরা http://studentsforum.basis.org.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবে। আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। প্রতিযোগিতা সম্পর্কে http://spaceappschallenge.org ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জানা যাবে।

এবারের প্রতিযোগিতার সহযোগিতায় রয়েছে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম ও ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশ। পৃষ্ঠপোষকতা করছে বাগডুম ডটকম, পিবাজার ডটকম ও পিপল এন টেক। এছাড়া অ্যাকাডেমিক পার্টনার হিসেবে থাকছে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.