আমাদের শিক্ষাজীবনের শুরু হয় অনেক স্বপ্ন নিয়ে। কেউ স্বপ্ন দেখেন বড় হয়ে ডাক্তার হবেন আবার কেউ হবেন ইন্জিনিয়ার। আবার কেউ কেউ শিল্প সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরে জীবনের সমৃদ্ধির পথ খোঁজেন। আবার এমন ও কয়েক জনকে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে যাদের সবাই একটু বেশি আনমনা, একটু আনস্মার্ট আবার ভুলোমনাও বটে। কিন্তু গুটিকয়েক বিশেষ বিষয়ের দিকে গভীরভাবে চিন্তামগ্ন।

……………………………………………………………………………………………….

গল্প, উপন্যাস, নাটকে লেখক তার নিজের ধরণা গুলিকে পরোক্ষভাবে প্রকাশ করে থাকেন এবং পাঠকের সাথে লেখকের কোন যোগাযোগ থাকে না। আমি আমার কথা গুলোকে, আমার ধারণা গুলোকে সকলের সাথে সহজভাবে ব্যক্ত করার একটা প্রদ্ধতি হিসেবে এটাকে বেছে নিলাম জানিনা কি হল; ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাকি, সমসাময়িক ভাবনা।আর প্রিয় পাঠক আপনারা কেউই আমার থেকে অভিন্ন নন, আমাকেও খুঁজে পাবেন আপনাদেরই মাঝে।আমাদের সকলের কথা, ধারণা, মতামত পরিপূর্ণতা দেবে আজকের সূচিত বিষয়টিকে।সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করছি। হয়তা আমাদের কথামালার ফাকেঁ উঠে আসতে পারে বর্তমান সময়ের নানা মুখী সমস্যা, তার গতি প্রকৃতি, তার সমাধান। মূল অংশে আসা যাক……………

সবুজে ঘেরা পাড়াগায়ের ছেলে অন্তু। বাবা গ্রামের সফল ব্যবসায়ীদের একজন।গ্রামের স্কুল থেকে ক্লাস এইট পাশ করার পর বাবার সিদ্ধান্তে তাকে ঢাকায় একটি স্কুলে ভর্তি হতে হল। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান অন্তু কখনোই বাবা মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকে নি। কিন্তু অগত্যা তাকে এখন থেকে বাবা মায়ের কাছ থেকে দূরে খালার কাছে থাকতে হবে। অন্তু একটু সহজ সরল এবং বাবা মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় প্রথমে আপত্তি করলেও পরে রাজি হয়।

 

প্রিয় পাঠক বলতে পারেন অন্তু কেন রাজি হয়েছিল? তার এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোন কোন বিষয় গুলি কাজ করেছে? অন্তু কি আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তার জীবনের শেষ পরিণতিই বা কি হতে পারে? আর কি পরিণতি হবে তার বাবা-মা, তার পরিবারের? আর গ্রামের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা অন্তু কি পারবে গ্রাম্য খোলামেলা পরিবেশ ছেড়ে শহরে যান্ত্রিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে?

বর্তমান সময়ে এই অন্তুদের সংখ্য কিন্তু একেবারে কম নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ নামটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত হলেও এই দেশের পনের কোটি মানুষের কাছে এই শব্দ দুটির অর্থ কিন্তু এক নয়। অনেকের কাছেই এর অর্থ নিজের ঘরে মাথার উপর বৈদ্যুতিক বাতি, অথবা নিজের সন্তানের হাতে খাতা ও কলম।কারণ এ দুটোর সংস্থান করার সাধ্যই তাদের নেই। এটুকুই তাদের কাছে অনেক কিছু। প্রায় ৪০ ভাগ মানুষের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দ দুটির কোন অর্থই নেই তাদের ভাষায়

“আমাগো প্যাডে বাত নেই, ডিজিট্যাল বাংলা দ্যাশ দিয়া আমাগো কি হব; এসব বড়লগগোর জন্যি; সরকার যদি আমাগো দুই বেলা বাতের পথ কইরে দিত তই অমরা পুয়া মাই নিয়া ভালা থাইকতুম”।

আসলেই আধুনিকতার সকল ছোঁয়া যেন শহর কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ভাল স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরী গুলো সবই গড়ে উঠেছে শহরে, কিন্তু আমাদের সহজ সরল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা গ্রামেও কিন্তু কম নয়। বর্তমান সময়ে SSC এবং HSC সহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর রেজাল্ট তার বাস্তব প্রমাণ। আমাদের গ্রামের ছেলে মেয়েরাও তাদের সীমিত সুযোগ সুবিধা গুলোকে কাজে লাগিয়ে শহরের ছেলে মেয়েদের সমতুল্য ফলাফল অর্জন করছে।

অনেকেই হয়তবা মনে করতে পারেন আমি আমার মূল লেখা থেকে বেশ খানিকটা সরে এসেছি। আসলে আমি সেই বিষয় গুলিই তুলে ধরতে চেয়েছি যে বিষয় গুলি অন্তু নিজে গ্রামে থেকে প্রত্যক্ষ করেছে, প্রত্যক্ষ করেছে তার পরিবার। অন্তুর পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা তাকে বিজ্ঞান শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে তোলা।

……………………………………………………………………………..

আজ এখানেই শেষ করছি। সকলের কাছ থেকে প্রশ্ন গুলোর উপর সুচিন্তিত মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। প্রশ্ন গুলোর উত্তরের একটা অংশ আজ এখনই সম্মিলিতভাবে আমরা সকলে মিলে দেয়ার চেষ্টা করব। আর বাঁকী গুলোর উত্তর খুঁজব আগামী পর্বে। কি ঘটল অন্তুর জীবনে দেখতে চোঁখ রাখুন আগামী পর্বে। সবার জন্য শুভকামনা রইল ।

comments

13 কমেন্টস

  1. বরাবরের মতই সাজানো গোছানো অনেক সুন্দর এবং বাস্তবতার আলোকে গুরুপ্তপূর্ণ একটি লিখা। আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার নিজ চিন্তা এবং ভাষায় দিলাম :

    অন্তু কেন রাজি হয়েছিল? তার এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোন কোন বিষয় গুলি কাজ করেছে?
    উত্তরঃ হয়তো তার বাবা মার স্বপ্ন কে শ্রদ্ধা জানাতেই তাকে রাজি হতে হয়েছে। হয়তো তাকে চিন্তু করতে হয়েছে তার ভবিষতকে নিয়ে। শহরে গিয়ে ভাল পড়াশুনা করতে পারলে সে হয়তো তার বাবমর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। নিজের তথা পরিবারের দ্বায়িত্ব কাধে নিতে পারবে। আরো অনেক কারন থাকতেই পারে।

    অন্তু কি আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
    উত্তরঃ আসলে জীবনে চলার পথে আমরা অনেক সিদ্ধান্তকেই হেয় করি যেটা কিনা পরবর্তী জীবনে আমাদের সাফল্য এন দেয়।

    তার জীবনের শেষ পরিণতিই বা কি হতে পারে?
    উত্তরঃ জীবনতো কেবললি শুরু একে নিজের থেকে ভাল করে চালাতে শুরু করতে পারলে জীবন স্বার্থকই হবে।

    আর কি পরিণতি হবে তার বাবা-মা, তার পরিবারের?
    উত্তরঃ সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করাতে হলে বাবা,মা এবং পরিবারকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এটাও তার বহিঃ প্রকাশ হিসাবেই ধরতে হবে। আসলে সব কিছুই ভাবিষত কেন্দ্রিক, আজ খারাপ থাকতে পারে কিন্তু কাল বা পরশু ভালওতো হতে পারে। 🙂

    আর গ্রামের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা অন্তু কি পারবে গ্রাম্য খোলামেলা পরিবেশ ছেড়ে শহরে যান্ত্রিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে?
    উত্তরঃ নতুন পরিবেশে সবারই খারাপ অবস্থা থাকে, ভবিষত নিযে যারা ভাবতে পারে, তারা এসবকে অনেক সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। এটা সদা প্রমানিত।

    ধন্যযোগ। 🙂

  2. শাওন ভাই, প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে আপনার নিজস্ব চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিটা উত্তরেই আপনি বাস্তবতা , ইতিবাচক ভবিষ্যতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এব্যাপারে আমি আপনার সাথে সম্পর্ণ একমত প্রকাশ করছি। কষ্টকরে লিখে পূর্ণাঙ্গ মতামত প্রকাশ করার জন্য আবারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শুভ কামনা রইল।

  3. BIDU – latest company news, stock quote, historical share prices, splits, options, earnings, estimates, ratings, cash flow and market valuation for Baidu Inc. ADS.
    baidu

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.