হঠাৎ করে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই মার্টিন দার কথা মনে পড়ে গেল। আমার বিশ্বাস আজকের দিনটা আমার খুব ভাল যাবে। কে জানে দিনের শেষে হয়তবা কোন শুভ মূহর্ত অপেক্ষা করছে আমার জন্য। আজো দাদার সাথে আমার প্রথম দেখা করার দিনটা স্মৃতির পাতায় অম্লান হয়ে আছে। একদিন সকালে হঠাৎ করেই ফোন করে দাদাকে বলি, আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। দাদা খুবই ব্যাস্ত মানুষ, কিন্তু দিনটা যেহেতু শুক্রবার ছিল তাই তিনি একটা নির্দিষ্ট স্থানে আসতে বললেন। টিপটিপ করে বৃষ্টি পরছিল । আমি আর আমার বন্ধু নির্দিষ্ঠ স্থানে পৌছাতেই গাড়ির ভেতর থেকে ফোনে কথা বলতে বলতে চশমা পড়া একজন আমাদেরকে গাড়িতে ওঠার ইঙ্গিত দিলেন। আসলে তিনিই জোসেফ মার্টিন, আমাদের প্রিয় মার্টিন দা।

c6গাড়িতে করে যেতে যেতে অনেক কথা হল। কথা বলতে গিয়ে মনে হচ্ছিল যেন এর আগেও আমাদের অনেক বার দেখা হয়েছে। তিনি তার জীবনের শরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত আমার সাথে বিনিময় করলেন। আমরাও আমাদের ছোট্ট জীবনের ক্ষদ্র অভিজ্ঞতা টুকু বিনিময় করলাম।

দাদা তার দীর্ঘ ২০ বছরের প্রফেশনাল জীবনে অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। একেবারে শূণ্য থেকে শুরু করে কয়েকটা ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছেন তার সততা, সৃজনশীলতা, আর বাস্তবের প্রতিটা মূহর্তকে একজন আদর্শ নেতার মত পরিচালনা করার দূরদর্শী দক্ষতা দ্বারা। আমাদের কথামালার এক পর্যায়ে উঠে আসল আমাদের দেশে রোবটিক্স শিল্পকে প্রতিষ্ঠিা করার সম্ভাবনার বিষয়টি। দাদা বলছিলেন বর্তমান সময়ে প্রফেশনাল জীবনে সৎ থাকাটা বেশ কষ্টসাধ্য। আসলে প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এত বেশি প্রতিযোগিতা চলে যে প্রোডাক্টের গুণগত মানের চেয়ে দাম এবং বাইরের চাকচিক্যই মুখ্য হয়ে দাড়ায়। তাই নতুন কিছু শুরু করা দরকার যেন অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে না হয়।

c5ইতোমধ্যেই দাদার PLC ফার্মটিও বেশ নাম করে ফেলেছে। বেশ কিছু নতুন ধরণের স্বয়ংক্রিয় মেশিন দাদার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। তাই রোবটিক্সকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিটুকু ইতোমধ্যেই যে সম্পূর্ণ হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দাদার মত ব্যাক্তিদেরর পক্ষেই রোবটিক্স নিয়ে চিন্তা করাটা সম্ভব। আমিও বিষয়টিতে উৎসাহী হয়ে উঠলাম। আমরা রোবটিক্স শিল্পকে প্রতিষ্ঠিা করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সমস্যা গুলো চিহ্নিত করলাম। যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ছিল VLSI ডিজাইন এবং ফেব্রিকেশন। আমাদের দেশে ইন্ট্রিগেটেড চিপ তথা IC তৈরি করার মত কোন প্রতিষ্ঠান নেই। আবার অন্যদেশ থেকে আমদানি করলে, স্থানিয় মার্কেটে আংশিক সফল হতে পারলেও আন্তর্জাতিক পর্যয়ে পৌছানো যাবে না। এ ধরণের আরো বেশ কিছু বিষয়ে আমরা কথা বললাম। দাদার সাথে একটা ভাল দিন অতিবাহিত করে বিকেলে  ফিরে এলাম।

………………………………………………………………………………..

দৃষ্টি আকর্ষণ

একজন প্রযুক্তি প্রেমী সুখী মানুষের কল্পকাহিনী সম্পূর্ণরূপে কাল্পনিক । বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই।

একজন প্রযুক্তি প্রেমী সুখী মানুষের কল্পকাহিনীঃ খন্ড-১

………………………………………………………………………………..

আজ এখানেই শেষ করছি। সবার জন্য শুভকামনা রইল ।

comments

5 কমেন্টস

  1. বেশ ভালই। মনে হচ্ছে যেন কোন বিখ্যাত লেখকের গল্প পরছি। 🙂

    • ধন্যবাদ শাওন ভাই। না বিখ্যাত হবার কোন ইচ্ছা নেই ,তবে স্বপ্ন দেখি প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ একটা বাংলাদেশের। এ জন্যই নিজের স্বপ্নটাকে নিজের মত করে কল্পকাহিণী রূপে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

      • স্বপ্ন দেখতে নেই মানা। এই স্বপ্নই একদিন মানুষকে বিখ্যাত করে তুলে। 🙂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.