২০১৪ সাল ছিল নতুন নতুন মোবাইল ফোনের বছর। এই বছরে বহু প্রতীক্ষিত এমন অনেক স্মার্টফোন বাজারে এসেছে। এর মধ্যে যেমন ছিল কমদামের বাজেট বান্ধব ফোন আবার ছিল বেশি দামের হাই কনফিগারের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। ১৪ সালে বাজারে আসা নতুন এই ফোন গুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

চলুন আর দেরি না করে জেনে নেয়া যাক সেই স্পেশাল ১০টি ফোনের কথা-

১। আইফোন ৬ প্লাস-

apple-iphone-6-plus-1

অনেকদিন ধরেই শোণা যাচ্ছিল যে বাজারে আসতে চলেছে অ্যাপেলের নতুন ২টি ফোন। এর আগে অ্যাপেল যে স্মার্টফোন গুলা বাজারে নিয়ে এসেছিল সেগুলা সবই ছিল ছোট ডিসপ্লে এবং মিনিমাম কনফিগারের ফোন। এই প্রথম তাঁরা তাদের এই নতুন ডিভাইস দিয়ে ফ্যাবলেটের জগতে যাত্রা শুরু করল। ফোনটিতে আছে ৫.৫ ইঞ্চির বড় এইচডি ডিসপ্লে, উন্নত ক্যামেরা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ, সাথে আছে হাই কনফিগার। ফোনটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটি ব্যবহার করে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট উভয় যন্ত্রের মজা নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন যে বর্তমানে এটি বাজারের সেরা স্মার্টফোন। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে বাংলাদেশের বাজারে ৮৫ হাজার টাকা। যেটি অনেকেরই সার্ধের বাইরে।

 ২। স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৪-

Samsung-Galaxy-Note-4

কিছুদিন আগে জার্মানির বার্লিনে গ্যালাক্সি নোট স্মার্টফোনের নতুন সংস্করণ ‘নোট ৪’ উন্মুক্ত করা হয়। এটি মূলত স্যামসাং “নোট ৩” নতুন সংস্করণ।এই স্মার্টফোনটির ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে ৫.৭ ইঞ্চি সুপার এইচডি সাথে গেমারদের আকর্ষণ করার জন্য দেয়া হয়েছে সর্বচ্চ হাই কনফিগার। মাল্টিটাস্কিং করার জন্য এটি একটি অসাধারণ ফ্যাবলেট। স্মার্টফোন টির পেছনে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের এইচডি ক্যামেরা যা আপনাকে দিবে চমৎকার সব এইচডি ছবি তোলার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের বাজারে এই ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। এছারাও আপনি প্রতি মাসে ছয় হাজার ৬৬৭ টাকার মাসিক কিস্তিতে মোট ১২ মাসে মূল্য পরিশোধ করে এই স্মার্টফোনটি কিনতে পারবেন।

 ৩। মটো জি (দ্বিতীয় সংস্করণ)-

motorola-moto-g-second-gen

এটি একটি বাজেট বান্ধব স্মার্টফোন। বাংলাদেশের বাজারে এটির দাম ধরা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। মটোরোলার জি সিরিজটি প্রথম থেকেই বেশ জনপ্রিয় কারন এর দাম কম আর একই সাথে এটির কনফিগারও যথেষ্ট ভালো। যেমন, এটির পেছনের ক্যামেরা দেয়া হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল আর সেলফি তোলার জন্য সামনের ক্যামেরা দেয়া হয়েছে ২ মেগাপিক্সেল। র‍্যাম দেয়া হয়েছে ১জিবি সাথে আছে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ ভার্সনের ললিপপ ৫.০। ফোনটির ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে ৫ ইঞ্চির আর ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকবে ভালো কারন এটিতে আছে ২০৭০ মিলিএম্প ব্যাটারি।

 ৪। সনি এক্সপেরিয়া জেড ৩-

xperia-z3

বর্তমানের সেরা দের বিড করতে সনি বাজারে নিয়ে এসেছে এক্সপেরিয়া জেড৩ নামের স্মার্টফোন। একাধিক ফিচার ও সেন্সর যুক্ত থাকায় এই ফোনটি ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ বলেই জানান বিশেষজ্ঞরা। মোবাইলের সচরাচর কাজের পারফরম্যান্স বিবেচনা, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও মোবাইল গেম খেলার দিক থেকে সনির এই সেটটিকে ভালো নম্বর দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে রয়েছে ওয়াই অ্যাঙ্গেল লেন্সযুক্ত ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। র‍্যাম ব্যবহার করা হয়েছে ৩ জিবি, ব্যাকআপ বাড়ানোর জন্য দেয়া হয়ে ৩১০০এমএইচ ব্যাটারি। আরও একটি আকর্ষণীয় ফিচার হচ্ছে  ফোনটি সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ। বাংলাদেশের বাজারে ফোনটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

৫। ওয়ান প্লাস ওয়ান-

one plus one

ওয়ানপ্লাসওয়ান স্মার্টফোনটিকে এশিয়া মহাদেশের বেস্ট স্মার্ট ফোন হিসেবে ধরা হচ্ছে কারন এর সাশ্রয়ী দাম এবং সর্বচ্চ কনফিগারের কারনে। এরই মধ্যে এটি ‘ফ্ল্যাগশিপ কিলার’ ফোন হিসেবে বাজারে পরিচিতি পেয়েছে। ফোনটি এতো উন্নত হার্ডওয়্যার দিয়ে তৈরি করা সত্ত্বেও দাম ধরা হয়েছে ক্রেতাদের হাতের নাগালে। বাংলাদেশের বাজারে এই ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে ৩০ হাজার ৭০০ টাকার। বিশ্লেষকেরা ওয়ানপ্লাসওয়ান স্মার্টফোনটিকে পারফরম্যান্সের পাওয়ার হাউস বলেন। তিন জিবি র‌্যাম, ২.৫ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রসেসরের সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি মাপের এইচডি ডিসপ্লে। আরও আছে অ্যান্ড্রয়েডের বিশেষ কাস্টোমাইজড সংস্করণ।

 ৬। অপো ফাইন্ড ৭-

oppo_find_7

এ বছরে বাজারে আসা আরেকটি শীর্ষ প্রিমিয়াম ফোন হচ্ছে অপো ফাইন্ড ৭। ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ডিসপ্লে,  দ্রুতগতিতে চার্জ দেওয়ার সুবিধা সহ আছে ৫.৫ ইঞ্চি মাপের সাধারণ এইচডির চেয়েও দ্বিগুণ রেজুলেশনের ডিসপ্লে। আরও আছে ৪জি নেটওয়ার্ক, ৩০০০ এমএইচ ব্যাটারি, ৩ জিবি র‍্যাম, ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। বাংলাদেশের বাজারে ৪৯ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অপো ফাইন্ড ৭ স্মার্টফোনটি।

 ৭। জিওমি এমআই ৩-

xiaomi_mi3

এ বছর বাজারে আসা আরেকটি নজরকাড়া ফোন হচ্ছে জিওমি এমআই ৩। এই ফোনটির হার্ডওয়্যার এতোটাই শক্তিশালী করে তৈরি করা হয়েছে যে গুগলের নেক্সাস৫-এর সঙ্গে এর তুলনা করা চলে। কিন্তু আবার দামের ক্ষেত্রে অনেকটাই কম যার কারনে ক্রেতাদের নজর কারতে এটির খুব বেশি দেরি হয়নি। বাজার বিশ্লেষকেরা বলেন, জিওমির এই ফোনটিতে উন্নত হার্ডওয়্যার ও সফটওঢয়্যার পারফরম্যান্সের কারণে এটি অনেকেই পছন্দ করেন। স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ২.৩ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রসেসর ও ২ জিবি র‌্যাম। ৫ ইঞ্চির ফুল এইচডি ডিসপ্লে, ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সাথে ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সামনে। ফোনটির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৭০০ মার্কিন ডলার।

 ৮। এইচটিসি ওয়ান এম ৮-

htc one m8

বহু প্রতীক্ষার পরে বাজারে এসেছে এইচটিসির জনপ্রিয় স্মার্টফোন এইচটিসি ওয়ান এম ৮। মূলত এটি “এইচটিসি ওয়ান” এর নতুন সংস্করণ। ব্যতিক্রম ডিজাইন ও নতুন ফিচারযুক্ত এই স্মার্টফোনটির অ্যালুমিনিয়াম কাঠামোর। পাঁচ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লেযুক্ত স্মার্টফোনে রয়েছে আলট্রাপিক্সেল ক্যামেরা ফিচার। ২.৩ গিগাহার্টজের কোয়ালকম প্রসেসর ও দুই জিবি র‌্যাম সুবিধার স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েডনির্ভর। ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা যেটি ৪ মেগাপিক্সেলের আর রেজুলেশন ২৬৮৮X১৫২০ পিক্সেল। বাংলাদেশের বাজারে এটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজারের মতো।

 ৯। মটো এক্স সেকেন্ড জেনারেশন-

moto x 2nd generation

দ্বিতীয় প্রজন্মের “মটো এক্স” এক কথায় অসাধারণ একটি ফোন। এতে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম কাঠামো। ৫.২ ইঞ্চি মাপের এই স্মার্টফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েঝে ২.৫ গিগাহার্টজের কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮০১ প্রসেসর, ২ গিগাবাইট র‌্যাম, ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সাথে ২৩০০ এমএইচ ব্যাটারি। মটো এক্সে যে অ্যাকটিভ ডিসপ্লে ও টাচলেস কন্ট্রোল সুবিধা ছিল এক্স২তে সেই সুবিধা আরও উন্নত হয়েছে। এই স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে আপনি 4K মানের ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারবেন। এ ছাড়াও থাকছে স্লো মোশনে ভিডিও করার সুবিধা। বাংলাদেশের বাজারে এটির দাম ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার টাকার মতো।

 ১০। লুমিয়া ৮৩০-

Nokia-Lumia-830-hero

হাই-এন্ড ও মিড রেঞ্জের ফোনের মধ্যে পার্থক্য ঘোচাতে মাইক্রোসফট বাজারে এনেছে লুমিয়া ৮৩০ মডেলের ফোনটি। মাইক্রোসফটের দামি প্রিমিয়াম ফোনের সব ফিচার সুবিধা দিয়ে সাশ্রয়ী দামে বাজারে ছাড়া হয়েছে এই লুমিয়া ফোনটি। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, লুমিয়া ৮৩০ স্মার্টফোনটি হচ্ছে এখন পর্যন্ত মাইক্রোসফটের সবচেয়ে হালকা-পাতলা ফোন। লুমিয়া ৮৩০ স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০ মেগাপিক্সেলের পিউরভিউ ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ, ১৬ জিবি ফোন মেমোরি, ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ২২০০ এম এইচ ব্যাটারি। এক কথায় এই ফোনটি বাজার দর হিসেবে যথেষ্ট ভালো। বাংলাদেশের বাজারে এই ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার টাকা সাথে ১ বছরের ওয়ারেন্টি

 

সূত্রঃ টাইমস অফ ইন্ডিয়া, প্রথম আলো।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.